default-image

‘প্রায়ই মাথাব্যথা হয়। আমার বোধ হয় মাইগ্রেন আছে।’—এমন ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। মাইগ্রেন হলো একটি ভিন্ন ধরনের মাথাব্যথা। মেয়েদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।
কেন হয় মাইগ্রেন
মাথায় রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণে মাইগ্রেন হয়। কিছু কিছু বিষয় মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ সেবন, দুশ্চিন্তা করা, ভ্রমণ, নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম ইত্যাদি।
কীভাবে বুঝবেন মাইগ্রেন
মাথাব্যথা ও বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। মাথাব্যথা শুরুর আগে হাই তোলা, কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তিবোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাথার যেকোনো অংশ থেকে ব্যথা শুরু হয় এবং পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। বমি বা বমি ভাব থাকে। এ ছাড়া ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন হলে দেখতে সমস্যা—যেমন চোখে উজ্জ্বল আলোর অনুভূতি, হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিসীমানা সরু হয়ে আসা অথবা যেকোনো এক পাশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। ২০ মিনিট স্থায়ী এসব উপসর্গের পর বমি ভাব এবং মাথাব্যথা শুরু হয়, যা সাধারণত এক পাশে হয়। দৃষ্টির সমস্যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে ধরে নিতে হবে, এটি মাইগ্রেন নয়।

মাইগ্রেন হলে করণীয়
যাদের মাইগ্রেন আছে, তাদের ভালো ঘুম নিশ্চিত করা দরকার। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। যেসব খাবার খেলে ব্যথা শুরু হতে পারে—যেমন কফি, চকলেট, পনির, আইসক্রিম, অ্যালকোহল ইত্যাদি বাদ দিতে হবে। বেশি সময় না খেয়ে থাকা যাবে না। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ সেবন না করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে অন্য পদ্ধতি বেছে নেওয়া যেতে পারে। পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও দীর্ঘ ভ্রমণ বর্জনের মাধ্যমে মাইগ্রেন অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

চিকিৎসা
মাইগ্রেনের আক্রমণ কমানোর, মাথাব্যথা ও বমি ভাব উপশমের জন্য কিছু কার্যকর ওষুধ রয়েছে, যেগুলো চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই বারবার মাইগ্রেনের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়; দৃষ্টিস্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, সাইনোসাইটিস, দাঁতের সমস্যা, মস্তিষ্কের টিউমার ও রক্তক্ষরণসহ নানাবিধ কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। বারবার বা দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথায় না বুঝে ওষুধ খাবেন না। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল

বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন