default-image

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই নারীদের ঋতুস্রাব ঘটে। গড়ে একজন জীবনের সাত বছর নারীদের ঋতুস্রাবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ঋতুস্রাব প্রজনন চক্রের প্রাকৃতিক এবং অবিচ্ছেদ্য বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশে এ বিষয় নিয়ে নানা ধরনের সামাজিক ট্যাবু রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, যখন কিশোরীদের প্রথম পিরিয়ড বা মাসিক হয়, তখন তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকে না। এবং এ সময় নানা বিধিনিষেধ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।

মাসিক নিয়ে এ ট্যাবু ও কুসংস্কার নানা বৈষম্য তৈরি করে এবং নারীদের কিশোরী বয়স থেকেই এ বিষয়ে সঠিকভাবে জানার ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা হিসেবে কাজ করে। বেশির ভাগ মানুষই এ বিষয়টিকে নারীদের জন্য আলাদা বিষয় হিসেবে মনে করেন এবং পুরুষেরা এ–সংক্রান্ত আলোচনা এড়িয়ে চলেন। অথচ এ বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে চলার মতো নয়ই বরং এ ব্যাপারে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে নারীদের পিরিয়ড হয় এবং পিরিয়ড নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের প্রভাব ফেলে। এ সময় অনেক নারীর প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম বা পিএমএস সমস্যা দেখা দেয়। পিরিয়ডের আগে পিএমএসর লক্ষণ প্রকাশিত হয়। এ সময় ৯০ শতাংশ নারী স্ফীত উদর, মাথাব্যথা এবং মানসিক চাপ অনুভব করেন। তবে কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে এ লক্ষণগুলো আলাদা হতে পারে। পিরিয়ডের কারণে অনেক সময় অনেক কিশোরী ও তরুণীরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।

মাসিকের সময় কোনো কোনো নারীদের ডিসমেনোরিয়া সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মাসিকের সময় তীব্র ব্যথাকে ডিসমেনোরিয়া বলে। দুধরনের ডিসমেনোরিয়া রয়েছে: মুখ্য ও গৌণ। প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলে ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণ বলে ধরে নেওয়া হয়। এ সময় তীব্র ব্যথা, বমিভাব, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা কিশোরী ও নারীদের স্বাভাবিক জীবনে নানা কাজে বিঘ্ন ঘটায়। গৌণ মেনোরিয়ার কারণে শরীরের কোনো অংশ স্ফীত হয়ে যাওয়া, জরায়ুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং এন্ডোমিট্রিওসিস ঘটে।

অ্যামোনেরিয়া হচ্ছে আরেক ধরনের মাসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে সাধারণত অল্পসংখ্যক নারী এ সমস্যায় ভোগেন। যেসব নারীর পরপর তিন মাস মাসিক হয়নি, তাঁরা অ্যামেনোরিয়াতে আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়। এ ছাড়া যেসব কিশোরীর ১৫ বছর বয়সে পিরিয়ড হয় না তারাও অ্যামেনোরিয়া–সংক্রান্ত সমস্যায় আছেন ধারণা করা যায়। তবে পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনে ফাংশনাল ফুড গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।

পুষ্টিমান ছাড়িয়ে গিয়েও ফাংশনাল ফুডের বিশেষ স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফাংশনাল ফুড সেন্টারের মতে, ফাংশনাল ফুড বায়ো-অ্যাক্টিভ উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। ফাংশনাল ফুড স্বাস্থ্য সমস্যায় বায়ো-কেমিক্যাল প্রসেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, ফাংশনাল ফুড মানবদেহের জন্য বিশেষ উপকারী একধরনের খাদ্য। তবে বিবেচনায় রাখতে হবে, ফাংশনাল ফুডের ক্ষেত্রে এটা যে নিরাপদ ও কার্যকর তার বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি থাকলেই কোনো প্রতিষ্ঠান ফাংশনাল ফুড বাজারজাত করতে পারবে। ফাংশনাল ফুডের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং খাবার হিসেবে বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে ব্যবহারের প্রচলন থাকলে সেটা ফাংশনাল ফুড হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত, জাপান ও চীনসহ বিশ্বের নানা দেশে ফাংশনাল ফুডের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে ভারতে বিশেষ ধরনের স্বাস্থ্যসহায়ক খাদ্যদ্রব্যের প্রবিধানমালা পাস হয়, যা ২০১৮ সাল থেকেই কার্যকর।

শরীরে হরমোনের তারতম্যের সঙ্গে মাসিকের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রার এস্ট্রোজেন মাসিকের সময় তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এস্ট্রোজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। উচ্চমাত্রার পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে তা এস্ট্রোজেন মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং নারীদের মাসিকের ব্যথা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

১৯৮০ সাল থেকে ফাংশনাল ফুডের গবেষণা ও উন্নয়নে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ১৯৯১ সালে জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এফওএসএইচইউ (ফুড উইথ স্পেসিফাইড হেলথ ইউজ) হিসেবে ফাংশনাল ফুডের অনুমোদন দেয়। এশিয়াতে, বিশেষ করে ভারত, জাপান এবং চীনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নানা রোগপ্রতিরোধে বিশেষ খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ফাংশনাল ফুড নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাঠ্যক্রম হিসেবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাংশনাল ফুড অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। এ ছাড়া অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেড বাংলাদেশ সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য বিবেচনায় দেশজুড়ে ফাংশনাল ফুডের সুবিধা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0