default-image

অনেকেরই মুখের ভেতর, মাড়ির গোড়ায়, গালের নরম মাংসপেশিতে একধরনের ঘা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ অ্যাপথাস আলসার। এ ক্ষেত্রে ছোট্ট একটি গোলাকার অংশ সাদাটে হয়ে ওঠে। আর সাদা অংশটার চারপাশ লাল রঙের রিং থাকে। এতে ব্যথা হয়। এ সময় কিছু খেতে গেলে, পান করতে গেলে বা কথা বলতেও অস্বস্তি হয়। কিশোর বয়সী, নারী এবং যাদের পরিবারে এ ধরনের সমস্যা আগে থেকেই আছে, তাদের মুখের আলসারের ঝুঁকি বেশি।

রকমভেদ

অ্যাপথাস আলসারের কয়েকটি রকমভেদ আছে। অ্যাপথাসের আকার যদি ১ সেন্টিমিটারের বেশি হয় এবং সারতে সময় নেয় তবে তা ‘মেজর অ্যাপথাস আলসার’। এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক। এ রকম ঘা হলে আতঙ্কিত না হয়ে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আবার কারও কারও অ্যাপথাস আলসার ঘন ঘন হতে থাকে। একে বলে রিকারেন্ট অ্যাপথাস আলসার। তৃতীয় আরেকটি ধরন হলো হারপেটিফর্ম অ্যাপথাস। এ ধরনের আলসার অনেকগুলো একসঙ্গে হয়।

লক্ষণ

  • মুখের আলসারে ব্যথা, জ্বলাপোড়া, জ্বর এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।

  • অনেক সময় মুখের একাধিক জায়গায় ঘা হয়। তখন খাবার গিলতে, কথা বলতে বা মুখ হাঁ করতেও কষ্ট হয়।

যে কারণে হয়

মুখের আলসার হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে কিছু কারণ চিহ্নিত করা যায়, যা মুখের আলসার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। দুশ্চিন্তা এবং অনিদ্রাকে এ ধরনের আলসারের প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া মুখে আঘাত পেলে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হলেও মুখের আলসার হতে পারে। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ধূমপান, বংশগত কারণ, নির্দিষ্ট কোনো ওষুধের প্রভাব, অ্যানিমিয়া, মুখে ভেতর ব্যবহার্য ভুল পণ্যের প্রভাব, ফুড অ্যালার্জি এবং ভাইরাসের সংক্রমণেও এ সমস্যা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিকার

বেশির ভাগ মুখের ঘা ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও মুখের পরিচর্যায় আলসারের পরিমাণ কমে যাবে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।

প্রতিরোধ

  • মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বজায় রাখা জরুরি। পান, সুপারি, জর্দা, গুল, তামাকপাতা, মাদক, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চা–কফি বর্জন করুন।

  • আয়রন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট খেতে হবে।

  • পেটের কোনো অসুখ হলে তার চিকিৎসা জরুরি।

  • পানিশূন্যতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও দাঁতের ক্যারিজজাতীয় অসুখ থাকলে তার দ্রুত চিকিৎসা জরুরি।

  • মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। অথবা হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলি করুন।

  • সমস্যা বেশি মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন।

আগামীকাল পড়ুন: শিশুর মা করোনা সংক্রমিত হলে

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন