বিজ্ঞাপন

মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে একটি বার্ষিক সচেতনতা দিবস, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভালো মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার (এমএইচএম) গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। জার্মানিভিত্তিক এনজিও ওয়াশ ইউনাইটেড ২০১৩ সালে প্রথম ২৮ দিনব্যাপী একটি সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে, যার মূল বিষয় ছিল ঋতুস্রাববিষয়ক সচেতনতা তৈরি। এ জন্য তারা টুইটারে হ্যাশট্যাগ May #MENSTRAVAGANZA লিখে প্রচারণা চালায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ২৮ মে বিশ্বের অনেক দেশেই প্রথমবারের মতো র‍্যালি, প্রদর্শনী, মুভি স্ক্রিনিং, ওয়ার্কশপ ও বক্তৃতার মাধ্যমে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে উদযাপন করা শুরু হয়। ২০১৫ সালে এই ক্যাম্পেইনের হ্যাশট্যাগ ছিল #IfMenHadPeriods, যা সামাজিক কিছু গৎবাঁধা নিয়মকানুনকে অনেকাংশেই কমাতে সক্ষম হয়েছে।

মেনস্ট্রুয়াল ডে উদযাপনের আরেকটি মূল উদ্দেশ্য হলো পুরুষদের মেনস্ট্রুয়েশন সম্পর্কে কথা বলতে আগ্রহী করে তোলা, যাতে তাঁরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে নারীবিষয়ক কিছু ভ্রান্ত ধারণা থেকে বের করে আলোর পথ দেখাতে পারেন এবং নারীরা যাতে তাঁদের মাসিক চক্র নিয়ে লজ্জা না করে বরং গর্বের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারেন।

মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডের প্রধান দৃষ্টিকোণ হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এমন এক বিশ্ব তৈরি করা, যেখানে মেয়েরা তাঁদের মাসিকের কারণে পিছিয়ে পড়বেন না এবং যেখানে পিরিয়ড কলঙ্ক হিসেবে গণ্য হবে না। এর অর্থ হলো:

  • এমন একটি পৃথিবী, যেখানে প্রত্যেক মেয়ে তাঁর ঋতুস্রাবের সময়টায় লজ্জা ও ভয় না পেয়ে নিরাপদে, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাটাতে পারবেন।

  • প্রত্যেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পিরিয়ডকালীন পণ্যসামগ্রী ক্রয় ও ব্যবহার করতে পারবেন।

পিরিয়ড-কলঙ্ককে ইতিহাসে রূপান্তর।

  • পুরুষ ও নারী উভয়ের মেনস্ট্রুয়েশন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিশ্চিত করা।

  • প্রত্যেক নারীর জন্য যেকোনো জায়গায় পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি পণ্য ও পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

এই দিবসের মূল প্রেরণা হলো পিরিয়ড–সম্পর্কিত নীরবতা ভেঙে এর পক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বিশ্বজুড়ে এমএইচএমকে ঘিরে নেতিবাচক সামাজিক নিয়মাবলি পরিবর্তন করা।

মেনস্ট্রুয়াল ডের কার্যক্রমগুলো

২০১৫: এ বছর ২৮ মে বিশ্বব্যাপী অনেক ব্যক্তি ও সংস্থা “Let's end the hesitation around menstruation” এই থিমকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে উদযাপনে এগিয়ে আসে। ৩৩টি দেশে মোট ১৩৭টি ইভেন্ট পালন করা হয়।

২০১৭: এ বছর ৫৪টি দেশে মোট ৩৫০টি ইভেন্ট পালিত হয়।

২০১৮: এ বছর #nomorelimits হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দিনটি উদযাপিত হয়। ঘানায় এই দিবস উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত স্কুলগুলোতে প্রায় সাত শতাধিক কিশোরীকে বিনা মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হয়।

২০২০: এ বছর করোনা অতিমারির কারণে অফলাইন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দিনটিকে মেনস্ট্রুয়াল ব্রেসলেটের মাধ্যমে উদযাপন করার একটি নতুন পদক্ষেপ শুরু হয়। মেনস্ট্রুয়াল ব্রেসলেট পরে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে ছবি আপলোড করে #ItsTimeForAction স্লোগানে দিনটি উদযাপিত হয়।

২০২১: আসছে ২৮ মেতেও মেনস্ট্রুয়াল ব্রেসলেটের সঙ্গে একই স্লোগানে দিনটি উদযাপিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এবার বিভিন্ন দেশে অনেক ব্যক্তি ও সংস্থা নিজেদের মতো করে ব্রেসলেট বানিয়ে নিতে পারবে এবং ওয়েবসাইট থেকে ভার্চ্যুয়ালভাবে তা ডাউনলোড করে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ছবি আপলোড করে দিনটি উদযাপনের কথা বলা হয়েছে ওয়েবিনারে।

মেনস্ট্রুয়াল ব্রেসলেট কী?

মেনস্ট্রুয়াল ব্রেসলেট হলো এমন একটি ব্রেসলেট, যা মেয়েদের মাসিক চক্রকে ফুটিয়ে তোলে। এই ব্রেসলেটে ২৮টি এলিমেন্ট থাকবে, যার মধ্যে ৫টি লাল রঙের। এই পাঁচ লাল রং মেয়েদের মাসিকের দিনগুলোকে আলোকিত করে। এ ছাড়া মে মাসের ২৮ তারিখ, অর্থাৎ ২৮-৫ দিনটিকেও সাংকেতিকভাবে প্রতিফলিত করে।

তবে এই ব্রেসলেটের কোনো ধরনের অফিশিয়াল ভার্সন রাখা হয়নি, যাতে করে সবাই নিজের সৃজনশীলতা দেখিয়ে নিজ নিজভাবে তাঁদের ব্রেসলেট বানাতে পারেন এবং করোনাকালেও যাতে এই ব্রেসলেট সবার জন্য সংরক্ষণ করা সহজ হয়। ২০২০ সালে অনেকেই অনেকভাবে এই ব্রেসলেট বানিয়ে ছবি দিয়েছেন, যার মধ্যে ছিল মটরশুঁটি, ফুল, কাগজ, নানা ধরনের বিডস, লাল মরিচ ইত্যাদি। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে

গিয়েছিল টুথপেস্ট আর লিপস্টিক দিয়ে তৈরি মেনস্ট্রুয়াল ব্রেসলেটটি।
মেনস্ট্রুয়াল ডে উপলক্ষে যে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে আইডিয়া শেয়ার করতে পারে এমএইচ ডের অফিশিয়াল মেইলে। এ ছাড়া নিজ নিজ সোশ্যাল মিডিয়াতেও #ItsTimeForAction #MHDAY2021 হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেও যে কেউ কণ্ঠ দিতে পারেন বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হতে যাওয়া এই দিবস উপলক্ষে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন