বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিশু–কিশোরদের মাথাব্যথায় কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে। পড়াশোনার চাপ তার মধ্যে একটি। এ কারণে স্ট্রেস বেশি হয়, যেটা মাইগ্রেনের একটি ট্রিগার। মাইগ্রেন আধকপালি বা মাথার একপাশে হয় এবং দপদপ করে ব্যথা হতে থাকে। স্থায়িত্বকাল এক থেকে তিন দিন পর্যন্ত হতে পারে। কেউ ব্যথা শুরুর আগে গন্ধ পায়, আলোর ঝলকানি দেখে, ব্যথা হলে কারও বমি বমি লাগে, কারও আলো বা শব্দের প্রতি সংবেদশীলতা কাজ করে। এসব উপসর্গ দেখে কিশোরদের মাইগ্রেন নির্ণয় করা হয়। আবার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো ভিন্ন। যেমন, তাদের মাইগ্রেন দুই পাশ থেকে শুরু হয়, বেশি বমি হয়। আবার পেটব্যথাও থাকতে পারে।

default-image

অনুষ্ঠানে মাইগ্রেনের অনেক ট্রিগার নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন: স্ট্রেস, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পরিবেশ, কোনো পারফিউম বা কেমিক্যালের গন্ধ, রোদ, শব্দ, নির্দিষ্ট কিছু খাবার ইত্যাদি। আবার কেউ যদি কোনো কাজ না পারে, তখন তাকে সেই কাজ করতে হলেও তাদের মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যায়।

পরীক্ষার সময় মাইগ্রেনে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের ব্যথা আরও বাড়ে। কারণ, এ সময়ে তারা একধরনের মানসিক ও শারীরিক চাপের ভেতর দিয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের প্রতি মা–বাবার বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী। এ অবস্থায় কোনোভাবে তাদের ভালো রেজাল্ট করার জন্য মানসিক চাপ দেওয়া যাবে না। তিনি মাইগ্রেনের শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদেরও বিশেষভাবে যত্নশীল হতে বলেন। ক্লাস চলাকালে কোনো শিক্ষার্থীর মাইগ্রেন অ্যাটাক হলে শিক্ষকদের সহানুভূতিশীল আচরণ করার পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসক বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মাথাব্যথা কমানোর জন্য পেইনকিলার সেবনের বা বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।

দেড় বছর ধরে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করে আসছে। ফলে তাদের অনেক বেশি সময় ধরে কম্পিউটার-স্মার্টফোনের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে। এই স্ক্রিনটাইম যত বেশি হবে, মাথাব্যথার প্রবণতা বা ঝুঁকি তত বাড়তে থাকবে। ডিভাইসের নীল আলো মাথাব্যথার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। এদিকে শিক্ষকদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া উচিত। একটানা অনেকক্ষণ ক্লাস না করে স্ক্রিনটাইম ভাগ করে, ক্লাসের ফাঁকে কয়েক মিনিটের বিশ্রামের ব্যবস্থা করলে মাথাব্যথা এড়ানো সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের রাত জেগে পড়াশোনা করার প্রবণতা থাকে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত হয়। এর কারণে যেমন সাধারণ মাথাব্যথা বাড়ে, তেমনই মাইগ্রেন অ্যাটাকও হয়ে থাকে। এ নিয়ে মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এখন যেহেতু সকালে ক্লাস হয় না, সেহেতু শিক্ষার্থীরা রাত জেগে থাকে। এটা খুব অস্বাস্থ্যকর একটা ব্যাপার। আর মাইগ্রেনের ব্যথা শুরুই হয় ভোররাত থেকে। এটি এড়াতে একটা স্লিপ আওয়ার এবং স্লিপ হাইজিন যেন তারা মেনে চলে। যেমন রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘুমের সময় ঠিক করা আর এই সময়ে অন্য কোনো কাজ না করা। অনেকে রাতে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের এই বদভ্যাস থেকে বিরত রাখতে মা–বাবাকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। মাইগ্রেনের চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক ওষুধ দিয়ে থাকি।

কিন্তু সেই সঙ্গে এ ধরনের লাইফস্টাইল মোডিফিকেশন করতে না পারলে খুব একটা লাভ হয় না।’ এ ছাড়া তিনি স্লিপ হাইজিন সম্পর্কে বলেন, ঘুমের একটা ভালো পরিবেশ তৈরি করে নেওয়া জরুরি। রুম অন্ধকার করা, ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন হাতের নাগালের বাইরে রাখা, শুয়ে পড়ার অন্তত আধ বা এক ঘণ্টা আগে যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করা—এগুলো স্লিপ হাইজিনের মধ্যে পড়ে। বাচ্চা বা কিশোরদের জন্য এটা কঠিন হলেও মাথাব্যথার রোগীদের জন্য এগুলো মেনে চলা একেবারে আবশ্যক। এভাবে চলতে পারলে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন অ্যাটাকের ফ্রিকোয়েন্সি কমে আসে এবং রোগী বেশ ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানা গেল বাচ্চাদের ব্রেন টিউমার ও স্ট্রোক সম্পর্কে। মাইগ্রেনের ব্যথার সঙ্গে এগুলোর বেশ পার্থক্য আছে। টিউমারের ব্যথা সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর বেশি হয়। ব্যথাটা প্রায়ই হতে থাকে এবং এর তীব্রতা অনেক বেশি। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে শুধু হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়। এ রকম কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা এমআরআই বা সিটিস্ক্যানের মাধ্যমে রোগনির্ণয় করে চিকিৎসাসেবা দেন।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন