ভালো থাকুন

শিশুর পা ব্যথা

বিজ্ঞাপন
default-image

রাত হলেই অনেক শিশুর পায়ে ব্যথা শুরু হয়। এ সময় পা টিপে দিলে সে আরাম পায়। এ নিয়ে চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ব্যথাকে বলে গ্রোয়িং পেইন বা বেড়ে ওঠার ব্যথা। তাই বলে শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে কিন্তু এই ব্যথার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে গ্রোয়িং পেইন শনাক্ত করা যায়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রোয়িং পেইনের উপসর্গ

সাধারণত তিন কিংবা চার বছর বয়স থেকে শিশুর গ্রোয়িং পেইন শুরু হয়। এই ব্যথা ঊরু ও পায়ের মাংসপেশিতে বেশি হয়। হাতেও হতে পারে ব্যথা। তবে শুধু হাতে এটি হয় না। আবার শুধু ডান কিংবা বাঁ পাশে এ ব্যথা হয় না। শরীরের দুই পাশেই এটি হয়। সন্ধ্যায় বা রাতে ব্যথার তীব্রতা বাড়ে। কয়েক ঘণ্টা পর ব্যথা কমে গেলে শিশু ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে উঠে কোনো কোনো শিশুর ব্যথার কথা মনেই থাকে না। গ্রোয়িং পেইনে গিরা বা অস্থিসন্ধির স্থায়ী ক্ষতি হয় না। যদি সকালে কিংবা সারা দিন ধরেই গিরায় প্রচণ্ড ব্যথা থাকে, গিরা লাল হয়, ফুলে যায় কিংবা গিরা এমন শক্ত হয়ে যায় যে নাড়াতে অসুবিধা হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে এটি গ্রোয়িং পেইন নয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা

ভিটামিন ডি–এর অভাব থাকলেও অনেক শিশুর গ্রোয়িং পেইনের মতো উপসর্গ হয়। তাই শিশুর যেকোনো হাত–পা ব্যথায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গ্রোয়িং পেইন ১০-১২ বছর বয়সে নিজে থেকেই সেরে যায়। এ ছাড়া ঘরোয়া চিকিৎসায় গ্রোয়িং পেইন অনেকাংশেই ভালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার বেশি দিতে হবে। ব্যথা কমাতে হালকা ম্যাসাজ খুব উপকারী। পাতলা কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে সেঁক দিলে গ্রোয়িং পেইনে শিশু আরামবোধ করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে শিশুর ত্বক যেন পুড়ে না যায়। ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে ব্যথা গুরুতর হলে, গিরা ফুলে গেলে বা লাল হয়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক : শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন