একটু বেশি বয়সের শিশুরাও যখন রাতে ঘুমের মাঝে প্রস্রাব করে বিছানা ভেজায়, তখন ব্যাপারটা নিয়ে দুশ্চিন্তা বা বিরক্তি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এটা কি কোনো রোগ?
তিন বছরের বেশি বয়সী মেয়ে বা পাঁচ বছরের অধিক বয়সী ছেলে বিছানায় প্রস্রাব করতে থাকলে সে এনিউরিসিস রোগে ভুগছে বলা যেতে পারে। রোগটি মূলত দুই ধরনের। প্রথমটিতে আক্রান্ত শিশু এক দিনও বিছানায় প্রস্রাব না করে থাকেনি, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মে নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছার পর শিশু প্রস্রাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিল; বিছানা আর ভেজাত না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার বিছানা ভেজানো শুরু করেছে।
নানা কারণে এ সমস্যা হয়। শিশুটি মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে কি না, ডায়াবেটিস বা কিডনির কোনো অসুখে আক্রান্ত কি না, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। শিশুর ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে প্রস্রাব করার প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। কিন্তু অভিভাবকদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীন হয়ে থাকেন। যেখানে-সেখানে শিশু প্রস্রাব করলেও গা করেন না। এতে করে মূত্রথলির বেগ ধারণের অভ্যাস বা সামর্থ্য শিশুটির মধ্যে ঠিকমতো তৈরি হয় না।
এ ছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, বাসস্থান পরিবর্তন, অপেক্ষাকৃত ছোট মূত্রথলি, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারণেও শিশুরা বিছানা ভেজাতে পারে। এ নিয়ে তাকে তিরস্কার করা যাবে না। কোনো শাস্তিও দেওয়া ঠিক নয়। এমনিতেই সে ব্যাপারটা নিয়ে অপরাধবোধে থাকে; বরং এক দিন বিছানা না ভেজালে তাকে উৎসাহ দিন। এতে সে মনে জোর ফিরে পাবে।
বিকেলের পর শিশুকে পানি বা অন্যান্য জলীয় পদার্থ কম দিন। শিশুকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই প্রস্রাব করিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহের যে কটি দিন শিশু বিছানায় প্রস্রাব করবে না, সেই দিনগুলোতে ক্যালেন্ডারের পাতায় সে নিজে বা মা-বাবা একটি করে তারকাচিহ্ন বসিয়ে দিতে পারে। সপ্তাহের শেষে সে কটি তারকা পেল, তার হিসাব রাখবে। দুই বা ততোধিক তারকার জন্য মা-বাবা তাকে একটা পুরস্কার দিতে পারেন। এতেও কাজ না হলে হতাশার কিছু নেই। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে।  শিশুরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল|

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0