default-image

শিশুরা প্রায়ই মুখ ও দাঁতের ব্যথায় কষ্ট পায়। তীব্র ব্যথায়, বিশেষ করে খাবার চিবানোর সময় কান্নাকাটিও করে। কিন্তু ব্যথার স্থান চিহ্নিত করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মা–বাবাকেই উদ্যোগী হতে হবে। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে গুরত্ব না দিলে পরে বিষয়টা জটিল হয়ে উঠতে পারে। কাজেই শিশুরা কোনো কারণ ছাড়াই কান্নাকাটি করলে অথবা খাবার খেতে অসুবিধা হলে মুখের ভেতর ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। শিশুদের মুখ ও দাঁতের ব্যথার অন্যতম কারণগুলো হলো:

  • দাঁতের ব্যথার অন্যতম কারণ ক্যাভিটি। শিশুর দাঁতে ছোট বা বড় কোনো গর্ত দেখলে বুঝতে হবে সে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে।

  • মাড়ি ফুলে গেলে ও লাল রং হলেও ব্যথা হবে। এটি একধরনের প্রদাহ।

  • মুখের ভেতর জন্ম নেওয়া ব্যাকটেরিয়া বা অ্যাসিডের কারণে দাঁতের ওপরের শক্ত আবরণ বা এনামেল ক্ষয় হতে পারে। শক্ত কোনো জিনিসে কামড় দিলেও এনামেলে ফাটল দেখা দিতে পারে। এ সমস্যায় দাঁতে শিরশির অনুভূতি ও ব্যথা হয়।

বিজ্ঞাপন
  • শিশুরা কখনো কখনো ওপরের ও নিচের পাটির দাঁত জোর দিয়ে ঘষে। ঘুমের মধ্যেও এটা হতে পারে। এতে যেমন দাঁতব্যথা হতে পারে, তেমনি চোয়ালেও ব্যথা হতে পারে।

  • দুধদাঁত পড়ে নতুন দাঁত ওঠার সময় কারও কারও মাড়ি ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়।

  • খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়ে দাঁত ভেঙে গেলে তীব্র ব্যথা হয়।

  • মুখের ভেতর অ্যাপথাস আলসার হলে ছোট ছোট দানার মতো ঘা দেখা হয়। এ সমস্যায় শিশুর মুখ জ্বালাপোড়া করে, কিছু খেতে চায় না।

  • এক বছর বয়সী শিশুর জিহ্বায় সাদা আস্তরণ বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এ সমস্যায় খাবারে রুচি থাকে না। খাবার খাওয়ার সময় জ্বালা করে।

যা করবেন

শিশুর মুখে বা দাঁতে ব্যথা হলে অবশ্যই একজন দাঁতের চিকিৎসককে দেখাতে হবে। এ সময় শিশুকে বেশি ঠান্ডা বা গরম ও মিষ্টিজাতীয় খাবার দেওয়া যাবে না। ব্যথা উপশমে তাৎক্ষণিক কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

  • ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্য বের করতে হবে।

  • কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে মুখে ৩০ সেকেন্ড রেখে কুলি করলে মুখ ও আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার হবে। ব্যথাও অনেকটা কমে যাবে।

প্রতিকার ও প্রতিরোধ

প্রতিটি দুধদাঁত একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়ে নতুন দাঁত ওঠে। ৬ বছর থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যেই এসব ঘটে। কোন দাঁত কখন নড়ে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। দাঁতে ক্যাভিটি হলে দ্রুত ফিলিং করতে হবে। ক্যাভিটি বড় হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। শিশুর প্রথম এক বছরে প্রতিবার খাবারের পর পরিষ্কার কাপড় বা তুলা দিয়ে মাড়ি ও জিব মুছে দিন। এর ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর হবে। জিবে ছত্রাকের সংক্রমণও হবে না। শিশুর ৬ মাস বয়স থেকে বিভিন্ন রকমের ফল ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এতে অ্যাপথাস আলসার হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

শিশুর দাঁত ওঠা শুরু করলে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট খুব অল্প পরিমাণে নরম টুথব্রাশে নিয়ে দিনে দুবার ব্রাশ করাতে হবে। মাড়ির দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। শিশুকে বোতলে না খাওয়ানোই ভালো। প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


লেখক: ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন, ফরাজী ডেন্টাল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, বনশ্রী, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0