ছবি: ইউটিউবের সৌজন্যে
ছবি: ইউটিউবের সৌজন্যে

মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথায় অনেকেরই স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়। প্রথম আলো ও উইমেন্স হরলিকসের স্বাস্থ্যবিষয়ক যৌথ আয়োজন ‘সুস্থ হাড় সুস্থ জীবন’-এর এবারের পর্বে ডা. মনজুর আহমেদ কথা বলেছেন মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথা বিষয়ে। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। আয়োজনটির সঞ্চালক ছিলেন ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস।

ডা. মনজুর আহমেদ জানান, বিভিন্ন কারণে মাংসপেশি ও হাড়ে ব্যথা হতে পারে। এর মধ্যে প্রথম কারণ আঘাতজনিত ব্যথা। এ সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেও ব্যথা তৈরি হতে দেখা যায়। তৃতীয় কারণ হিসেবে বলা যায়, দৈহিক পশ্চার সঠিক না হলে শরীরের মাংসপেশি ও হাড়ে ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণেও সমস্যা তৈরি হয়। চতুর্থ কারণ, গঠনগত দিক থেকে হাড় দুর্বল হলে ব্যথা হতে পারে।  

বিজ্ঞাপন

হাড় দুর্বল হওয়ার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, হাড় গঠনে মূল উপাদানের স্বল্পতা সবচেয়ে বড় কারণ। প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, মিনারেলস ও ভিটামিন ডির অভাবে এ সমস্যা হয়ে থাকে।

রোগী কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন, সে বিষয়ে ডা. মনজুর আহমেদ বলেন, ব্যথা দুই ধরনের হতে পারে। অ্যাকিউট পেইন ও ক্রনিক পেইন। কোনো কারণে মাংসপেশি ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যাকিউট পেইন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেশি ব্যথা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আর ক্রনিক পেইন বলা হয় তিন মাসের বেশি ব্যথা থাকলে। তাই তিন মাসের বেশি ব্যথা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডা. মনজুর আহমেদ আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীদের মাংসপেশি ও হাড়ের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। কারণ হিসেবে বলা যায়, সাধারণত শিশুবয়স থেকেই বেশির ভাগ মেয়ের শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ কম থাকে। খেলা, সাইকেল চালানো, স্কিপিং, দৌড়ানো তেমনভাবে সম্ভব হয় না। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিশ্রম খুব জরুরি। এর বাইরে সুষম খাবারের পরিমাণ ঠিক না হলেও হাড়ের গঠন সম্পূর্ণ হয় না। পরবর্তী জীবনে, যেমন: প্রেগনেন্সি ও মেনোপোজের সময় তাই সমস্যা বেড়ে যায়।’
এই চিকিৎসক বলেন, নারীদের স্বাস্থ্যগত দিকে সচেতনতা আবশ্যক। বাড়ির দৈনন্দিন কাজসহ কাজের জায়গাতেও দৈহিক পশ্চারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ঝুঁকে কাজ করা যাবে না।

ব্যথা সম্পর্কে ডা. মনজুর আহমেদ বলেন, মাংসপেশি ও হাড়ে দুই ধরনের ব্যথা অনুভূত হয়। মেকানিক্যাল পেইন ও ইনফ্লামেটরি বা প্রদাহজনিত ব্যথা। মেকানিক্যাল পেইনের ক্ষেত্রে কাজ করলে তীব্রতা বাড়ে। বিশ্রামে ব্যথা কমে যায়। প্রদাহজনিত ব্যথা বিশ্রামেও বাড়ে। এর অন্য নাম বাত। এমনকি কবজি, কনুই, গোড়ালি ও হাঁটুর মতো জয়েন্ট ফুলে যেতে পারে।

default-image

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, বাতের সমস্যার যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে। দীর্ঘদিন হয়ে গেলে জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সমস্যা হতে পারে না।

ডা. মনজুর আহমেদ আরও বলেন, বাত নির্ণয়ের জন্য প্রথমে ইএসআর করতে হবে। বাতে আক্রান্ত হলে ফলাফল হাই হয়ে যায়। একই সঙ্গে সিআরপির কাউন্টও বেশি থাকে। রিউম্যাটিক আর্থ্রাইটিস হলে আরও কিছু পরীক্ষা করতে হবে। ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষাও দরকার। এক্স-রে হাড়ের সমস্যায় জরুরি। দরকার হলে এমআরআইও করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা বিষয়ে ডা. মনজুর আহমেদ বলেন বলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে বাত দূর করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। স্ট্রাকচার ট্রিটমেন্ট, অর্থাৎ পেশেন্টের কাউন্সেলিং জরুরি। পেশেন্টকে সচেতন করতে হবে। পজিটিভ মোটিভেশন দিতে হবে। শুধু ওষুধনির্ভর হলে চলবে না। ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ রেগুলার করাতে হবে। রোগীর কন্ডিশন অনুযায়ী চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন। রোগীর শারীরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা মাথায় রেখে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে। কাউন্সেলিং-এক্সারসাইজ-ওষুধ-রেগুলার ফলোআপ—এই ক্রম অনুসরণ করতে হবে।

প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ক্যালসিয়াম আবশ্যক। ৫০ বছর পর্যন্ত ১০০০ মিলিগ্রাম এবং এর ওপরে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। সকাল ১০টা থেকে ১০ মিনিট সূর্যের আলো সরাসরি গ্রহণ করা গেলে ৭০ শতাংশ ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শের বাইরে ক্যালসিয়াম গ্রহণ উচিত নয়।

বয়স্ক নারীদের মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, হাড়ের ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় মেরুদণ্ড, হাঁটুসহ বিভিন্ন জয়েন্টের তরুণাস্থির ক্ষয় হতে থাকে। হাড় নরম হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা সম্ভব হয় না। হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া দ্রুত হয় মেনোপোজের পরে। এর ফলে অস্টিওপ্ররেসিস হতে পারে। তখন রোগী বেড রিডেন অবস্থায় চলে যান।

সবার সুস্থতা কামনা করে ডা. মনজুর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ক্যালসিয়াম আবশ্যক। ৫০ বছর পর্যন্ত ১০০০ মিলিগ্রাম এবং এর ওপরে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। সকাল ১০টা থেকে ১০ মিনিট সূর্যের আলো সরাসরি গ্রহণ করা গেলে ৭০ শতাংশ ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শের বাইরে ক্যালসিয়াম গ্রহণ উচিত নয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটা আবশ্যক। সাঁতার কাটা যেতে পারে সম্ভব হলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0