default-image

আজকাল অনেক নারীই যথেষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে সন্তান নেন। লেখাপড়া, ক্যারিয়ার—সব গুছিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা করেন তাঁরা। এ ছাড়া সন্তান নেওয়ার আগে অনেকেই নিজের নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করান, মা হতে মানসিকভাবে তৈরি হন। কিন্তু সন্তান নেবেন বা নিতে ইচ্ছুক, এমন অনেক নারীই নিজের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে ততটা সচেতন থাকেন না। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

আদর্শ ওজন চাই: সন্তানধারণের আগে পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ মেনে চলা প্রতিটি মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারণ অপুষ্টি ও অতিরিক্ত ওজন—দুটোই সন্তানধারণ ও প্রসবকালীন জটিলতা বাড়ায়। তাই আগে থেকেই সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজেকে ফিট রাখতে হবে, সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ফলিক অ্যাসিড: সন্তানধারণের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থায় ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলিক অ্যাসিড জন্মগত ত্রুটি রোধ করতেও সহায়তা করে। কাজেই যেসব খাবারে ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়, এ সময় সেগুলো বেশি বেশি খেতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে সবুজ শাকসবজি অন্যতম। এ ছাড়া কমলা, স্ট্রবেরি, ফলিক অ্যাসিডযুক্ত সিরিয়ালও খেতে পারেন। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে অন্তত তিন মাস আগে থেকেই ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া বাড়িয়ে দিতে হবে।

ক্যালসিয়াম: ক্যালসিয়াম প্রজনন প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুভাবে কাজ করে এবং গর্ভধারণে সহায়তা করে। শিশুর ভবিষ্যতের দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য এবং বিকাশের জন্যও এটি প্রয়োজন। তা ছাড়া গর্ভধারণের সময় যদি শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নারীদের অস্টিওপোরোসিসের (হাড় ক্ষয়) ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ, গর্ভকালে নারীদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ক্যালসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ।

আয়রন: শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন থাকলে রক্ত তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে শিশুর অক্সিজেন সরবরাহেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়ের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে শিশুর কম ওজন বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। আয়রন–সমৃদ্ধ খাবার হলো কলিজা, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি, বাদাম, ফর্টিফাইট সিরিয়াল প্রভৃতি।

এ ছাড়া উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিন, খাদ্য-আঁশ, ভিটামিন, মিনারেল গর্ভধারণের আগে সুস্বাস্থ্য ও ফিটনেস রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময় অত্যধিক চা-কফি, ট্রান্সফ্যাট যেমন পেস্ট্রি বা বেকারির খাবার, চিপস, মাত্রাতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, পিপলস হাসপাতাল, খিলগাঁও, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0