বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাহিদ মালেক এখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাধীন একটি গবেষক দল এসএসকে কর্মসূচি মূল্যায়ন করেছে। মার্চে দেওয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদনে কর্মসূচিতে নানা ত্রুটি ও অসংগতি ধরা পড়েছে। অন্যদিকে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য খাতে নিজস্ব ব্যয় বেড়েই চলেছে। অথচ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি প্রধান লক্ষ্য ব্যক্তির নিজের ব্যয় কমানো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী, সাধারণ মানুষ কারও কাছেই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণা পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে কার্যকর কোনো আলোচনা বা বিতর্ক হতে দেখা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণার ব্যাপকতা ও গভীরতা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। অনেকে বলেন, দেশের সব মানুষ স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আছে, সব মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ আছে। বাস্তবে সব মানুষ সেবা পাচ্ছে না, যারা সেবা পাচ্ছে তাদের অনেকেই মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছে না। অনেকে সেবা নিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণা

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে ২০১০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথমবারের মতো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক মানুষকে প্রয়োজনের মুহূর্তেই স্বাস্থ্যসেবা পেতে হবে। মানুষ তার সাধ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার জন্য খরচ করবে। অর্থের অভাবে মানুষ সেবাবঞ্চিত থাকবে না, সেবা নেওয়া থেকে বিরত থাকবে না, সেবা নেওয়ার কারণে কেউ নিঃস্ব হয়ে পড়বে না।

স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যের উন্নতি, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রশমনসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আরও বলেছিল, সব সেবাই হবে পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন। পরিবেশ বিপর্যয়, রাসায়নিক বা আণবিক দুর্ঘটনা, মহামারি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সেবাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

সেবা গ্রহণকারীর জন্য আগাম তহবিল গঠন, বিমাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ বেশ কিছু বিকল্প পন্থার কথাও ২০১০ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। সংস্থাটি বলেছিল, সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় হয়। প্রতিশ্রুতিহীন স্বাস্থ্যকর্মী, সেবার দ্বৈততা, ওষুধ ও প্রযুক্তির অযৌক্তিক বা অতিব্যবহারের কারণে এই অপচয় হয়। এই অপচয় রোধ করা সম্ভব হলে বেশি মানুষকে সেবার আওতায় আনা সম্ভব।

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূলে আছে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ন্যায্যতার ধারণা। মানুষ অসুস্থতার সময় সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয় বহন করবেন। তিনি কী রোগে আক্রান্ত বা তাঁর অসুস্থতা কতটা গুরুতর, তা বিচার্য নয়। তাঁর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ হবে আগাম-পরিশোধ (প্রিপেইড) করা অর্থে বা সাধারণ সহায়তা তহবিলের (পুলড কনট্রিবিউশন বা পুল ফান্ড) মাধ্যমে।

উল্টো যাত্রা

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রাধান্য পেয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত কর্মসূচির বিভিন্ন দলিলে এর কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের এসডিজিতেও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে একটি কৌশলপত্র তৈরি করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি: স্বাস্থ্যের জন্য আরও সম্পদ তৈরি বা সংগ্রহ; স্বাস্থ্য খাতে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশেষত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা; এবং সম্পদ বরাদ্দে ও ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি।

ওই কৌশলপত্রে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ ব্যক্তি নিজে বহন করত। বলা হয়েছিল, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ব্যক্তির অংশ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে এবং ২০৩২ সালে কমে তা ৩২ শতাংশে দাঁড়াবে।

বাস্তব পরিস্থিতি উল্টো। অর্থাৎ চিকিৎসায় ব্যক্তির ব্যয় না কমে ক্রমান্বয়ে তা বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ২০১৫ সালে দেখতে পায় ব্যক্তির ব্যয় বেড়ে ৬৭ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে গত ২১ নভেম্বর একই ইউনিটের গবেষকেরা রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সভায় বলেন, ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বেড়ে এখন ৬৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ সরকার চিকিৎসায় ব্যক্তির ব্যয় কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি অথবা উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হয়নি।

এসএসকে ও তার মূল্যায়ন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে যে কৌশলপত্র তৈরি করেছিল, তাতে টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলা যুক্ত করা হয়। এতে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) নামে একটি দিশারী প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা ছিল।

দিশারী প্রকল্প শুরু করতে চার বছর সময় নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় এসএসকে বাস্তবায়ন শুরু হয়। এসব উপজেলার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিটি পরিবারকে একটি করে হেলথ কার্ড দেওয়া হয়। কার্ডধারী পরিবারগুলোর সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি থেকে ৭৮টি রোগের বিনা মূল্যে সেবা পাচ্ছে। সেবা দেওয়া হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে। প্রকল্পের অর্থে রোগীদের রোগনির্ণয়, ওষুধ, পথ্য ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে রোগীকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জেলা হাসপাতালে যাওয়া-আসার খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় প্রকল্প থেকে বহন করা হয়। একটি কার্ডে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব সেবা ও ব্যয়ের হিসাব রাখছে একটি বিমা কোম্পানি।

প্রকল্পের অর্থে তিনটি উপজেলা হাসপাতালে কিছু সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু প্রশিক্ষণও হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নজরদারি করছে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা এসএসকে প্রকল্পের মূল্যায়ন করে এ বছরের মার্চে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন।

এসএসকের ব্যাপারে অনেকেরই আগ্রহ ছিল। কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এটা প্রচার করার চেষ্টা করেছে যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে তারা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার প্রকল্প এলাকায় ভ্রমণে গেছেন। ঢাকা থেকে সাংবাদিকদেরও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু গবেষকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নানা ত্রুটি ও অসংগতি।

ত্রুটি পাওয়া গেছে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবার চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে। গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা ৯০টি গ্রাম বেছে নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮টি গ্রামে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের কোনো তালিকাই ছিল না। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ পরিবার এসএসকের আওতায় আসেনি। অন্যদিকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে বলে যেসব পরিবারকে হেলথ কার্ড দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ৪২ শতাংশ পরিবার দরিদ্র ছিল না। অর্থাৎ ধনী বা প্রভাবশালী পরিবারকে এই আর্থিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গবেষকেরা দেখেছিলেন, কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্ত্রোপচারে প্রসবসেবা ও পুষ্টিসেবা নেই। এর কারণ ছিল জনবলের স্বল্পতা। তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই রোগনির্ণয় সেবার ঘাটতি ছিল। কালিহাতী ও মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধে মানসম্পন্ন কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি গবেষণায় ধরা পড়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, এসএসকে সেবায় স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা দুর্বল। এই কর্মসূচি সেবাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। আরও কিছু সমস্যার কথা গবেষকেরা বলেছেন। এর মধ্যে আছে: সেবা প্রদানকারীদের অবন্ধুসুলভ আচরণ, নির্ধারিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়া, খরচের কারণে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করার ভয়, রাতে ও ছুটির দিনে এসএসকে সেবা বুথ বন্ধ থাকা।

এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং জেলা হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ঘাটতি ছিল। তিনটি উপজেলায় ৮০ শতাংশ জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জনবল নিয়োগের বিষয়টি দেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন। কিন্তু এসএসকেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জনদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে যুক্ত না করার ফলে জনবল নিয়োগ থেকে শুরু করে নানা অসংগতি দেখা দিয়েছে।

এই মূল্যায়নের পর প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে কিছু চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট প্রকৃত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবার চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে এবং দরিদ্র নয় অথচ হেলথ কার্ড আছে এমন পরিবারের হেলথ কার্ড বাতিল করার কাজ শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল্যায়ন প্রতিবেদনে যেসব সীমাবদ্ধতা ধরা পড়েছে, আমরা সেগুলোকে অতিক্রম করার কাজ শুরু করেছি। অন্যদিকে এসএসকে টাঙ্গাইল শহরসহ সব উপজেলায় বিস্তৃত করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রকল্পে কিছু সংশোধন ও পরিবর্ধনও করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একাধিক কর্মশালা-পরামর্শ সভা করেছি। আমরা যা করতে যাচ্ছি, তা মাঠপর্যায়ে যাচাই করে নিয়েছি।’

পথ কী আছে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, এসএসকে আস্তে আস্তে সারা দেশে বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে আনা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে কাজটি কত বছরে হবে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।

অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চিকিৎসায় ব্যক্তির নিজস্ব স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো। দরিদ্রদের ব্যয়ভার সরকার বহন করলেও মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তরা ঝুঁকির মধ্যে থেকেই যাবে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর ৮৬ লাখের বেশি মানুষের দারিদ্র্য বেড়ে যাচ্ছে। ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে ১৬ শতাংশ খানা স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

স্বাস্থ্যবিমার কথা অনেক দিন ধরেই আলোচনায় আছে। বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিমা চালু হয়েছে। কিছু মানুষ বিমা কোম্পানির মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যয়ের সুযোগ পান। কিন্তু মোট জনগোষ্ঠীর তুলনায় তা খুবই কম।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্যবিমা চালু করতে হলে আইনের প্রয়োজন হবে। তা ছাড়া এই বিশেষ বিমাব্যবস্থা প্রবর্তন ও চালু রাখতে হলে পৃথক কর্তৃপক্ষের দরকার হবে। অর্থ ব্যবস্থাপনার কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দিয়ে করা সম্ভব হবে না। নতুন আইন বা কর্তৃপক্ষ তৈরির কাজ শুরুই হয়নি। এসব তৈরির কথা বলা হয়েছিল ২০১২ সালের কৌশলপত্রে।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন