বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডা. এম এ রশীদ বলেন, মানুষের সুস্থ থাকার জন্য জীবনযাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীবনযাত্রার সঙ্গে ডায়েট আর ব্যায়ামেরও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। যেসব খাবারে শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার, গুডফ্যাট, মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম থাকে, সেগুলো খেতে হবে। ভাতের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। ব্যায়াম করতে না পারলে অন্তত হাঁটতে হবে।

default-image

ঠিকমতো খেলে, হাঁটাচলা করলে, টেনশনমুক্ত জীবন যাপন করলে, ঠিকমতো ঘুমালে ডায়াবেটিস অনেক পরে হবে বা হবেই না। ব্রেন, হার্ট সবকিছুর ওপর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে। ধূমপান বাদ দিতে হবে। স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট খুবই জরুরি। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আমাদের অনেক ধরনের স্ট্রেস আছে। সেগুলোকে ম্যানেজ করে চলতে হবে। হার্ট ভালো রাখার জন্য ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। কোথাও হাঁটার জায়গা না থাকলে ঘরেই হাঁটতে হবে। ঘরে পুশআপ বা কার্ডিও করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো সাঁতার কাটা। ঘরে থেকে যোগাসনও করা যেতে পারে।

করোনার কারণে আমাদের এখনো অনেকটা সময় ঘরে কাটছে। ফলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ জন্য আমাদের উচিত হবে ঘরে থাকলেও অন্তত কিছুটা সময় ব্যায়াম করা। ঘরে থেকেও ইউটিউব দেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে দিনটাই অন্য রকম হবে বলে মনে করেন ডা. কুমারা গুরুপ্পারান।

default-image

তিনি বলেন, ‘কিছু করতে না পারলে অন্তত হাঁটতে পারি। তাতে আমাদের হার্ট ভালো থাকবে। সুযোগ থাকলে আমরা সাঁতার কাটতে ও সাইকেলও চালাতে পারি। তাতেও আমরা সুস্থ থাকতে পারব। নিয়মিত ওজন মাপা দরকার। বিএমআই ঠিক আছে কি না, চেক করে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. কামরুল হাসান সোহেল জানান, চোখের সঙ্গে মাথাব্যথার সম্পর্ক গভীর। চোখের পাওয়ারের হেরফের হলে মাথা ব্যথা করে। আবার মাথার ভেতরে কোনো সমস্যা হলেও সেটা চোখ দেখে বলে দেওয়া যায়। তাই মাথাব্যথা হলে রোগীরা সবার আগে চোখের ডাক্তার দেখান। কেননা, সাধারণত মাইনাস পাওয়ার থাকলে মাথাব্যথা হয়। তাই চোখের যত্ন নিতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন নিয়মিত ৩০ মিনিট দ্রুতবেগে হাঁটেন তিনি। ঘরের ভেতর ওয়েট লিফটিংও করেন। এতে দ্রুত ক্যালরি বার্ন হয়। স্ট্রেস কমানোও আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাসায় এসে ভালোভাবে গোসল করলেই তাঁর স্ট্রেস অনেকখানি কমে যায়। রোগী দেখার ফাঁকে তিনি ব্রিদিং এক্সারসাইজ করেন। দুপুরে খাওয়ার পর একটু ঘুমিয়ে নিলেও স্ট্রেস কমে যায় বলে জানান তিনি।

default-image

অনেকে ওজন কমাচ্ছেন, আবার ওষুধ বাদ দিচ্ছেন। এটা উচিত নয়। একান্তই যদি কমাতে বা বাদ দিতে হয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তা করতে হবে৷ স্ট্রেস কমানোর জন্য জীবনে যখন যে অবস্থায় পড়ি না কেন, সেটিকে সহজভাবে নিতে হবে। হাসিখুশি থাকতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো, মানুষের কথা শোনার অভ্যাস করতে হবে৷ ধৈর্যের সঙ্গে যদি অন্যের কথা শোনা যায়, তাহলে তাতে স্ট্রেস কমবে। টাটকা সবজি, ফল খেলেও শরীর আর মন ভালো থাকে। লবণ খাওয়া কমিয়ে আনতে হবে৷ কেননা, আমরা শাকসবজি, মাছ, মাংস যা-ই খাই না কেন, এগুলোর ভেতরে এমনিতেই লবণ থাকে৷ আলাদা লবণের চাহিদা থাকে না। জীবনযাপন ঠিক থাকলে ওষুধই লাগে না। ওষুধমুক্ত জীবন যাপন করা খুবই জরুরি। কেননা, প্রতিরোধ সবচেয়ে ভালো। যেকোনো রোগের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হলো সেই রোগটা যাতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করা। আর জীবনযাপন ভালো হলে প্রায় সব রকম অসুখই ঠিক করা যায়।

মাথাব্যথা হলে শুরুতেই চোখের চিকিৎসককে দেখাতে হবে। কেননা, বেশির ভাগই চোখের সমস্যার জন্য মাথাব্যথা হয়। চশমা নিলে ঠিক হয়ে যায়। আবার যাঁরা চশমা পরেন, তাঁদের পাওয়ার এদিক–সেদিক হলে মাথা ব্যথা করে। পাওয়ার ঠিক করে দিলে সেরে যায়। অনেকের আবার রাত জাগলে, একটানা পড়লে, মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাথাব্যথা হয়৷ রাত জাগা যাবে না৷ ঠিকমতো ঘুমাতে হবে। বিরতি দিয়ে পড়তে হবে। মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের বেলায়ও একই কথা—বিরতি দিতে হবে। সবুজের দিকে তাকাতে হবে।

এভাবে চললে মাইগ্রেন ধীরে ধীরে সেরে যাবে। কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বলে একটি বিষয় আছে। যখন আমরা মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকাই, তখন চোখের পাতা কম পড়ে৷ আলো সরাসরি চোখে পড়ে৷ কেননা, এই দুটোই খুব কাছাকাছি থেকে ব্যবহার করা হয়৷ মাঝেমধ্যে উঠে দূরে তাকাতে হবে৷ চোখে পানি দিতে হবে। দরকারে কিছু আইড্রপ দিতে হবে। কারণ, চোখের পাতা কম পড়ায় চোখের তরলের পরিমাণ কমে গেলে মাথাব্যথা হয়৷ এগুলো মেনে চললে মাথাব্যথা নিরাময় করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন