অলঙ্করণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী
অলঙ্করণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী

কথায় বলে, সুন্দর হাসির জন্য চাই সুস্থ দাঁত। এমনকি খাবার খাওয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ, সুন্দর দাঁতের জন্য চাই নিয়মিত যত্ন। বিষয়টি অভ্যাসের। আর দাঁতের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয় এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ব্যথার সাতকাহন’–এর প্রথম পর্বে।

default-image

এ পর্বের মূল বিষয় ছিল দাঁতব্যথা। চিকিৎসক বিলকিস ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অনারারি সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি ১৭ অক্টোবর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া সম্প্রচারিত হয় এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পুরো বিশ্ব করোনায় আক্রান্ত। এই মহামারি আমাদের দাঁড় করিয়েছে নতুন এক বাস্তবতার সামনে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সবাইকে। এর থেকে বাদ যায় না মুখ ও দাঁতের পরিচর্যাও। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ইয়োর মাউথ: আ গেটওয়ে টু ইয়োর বডি’স হেলথ’, অর্থাৎ মুখই স্বাস্থের প্রবেশপথ। অর্থাৎ মুখ দিয়ে যা কিছু খাই, তা–ই আমাদের পাকস্থলীতে যায়। করোনাভাইরাসের অন্যতম প্রবেশদ্বারও মুখ। সুতরাং মুখ ও দাঁতের সুস্থতার সঙ্গে সারা শরীরের সুস্থতা জড়িত। অন্যভাবেও বলা যায়, মুখের সুস্থতার ওপরই দেহের সুস্থতা নির্ভর করে।

default-image

করোনাভাইরাস বিস্তারে মুখ অন্যতম একটি মাধ্যম। সুতরাং পূর্ণভাবে বাড়িতে মুখ ও দাঁতের যত্ন নিতে হবে, অবশ্যই দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। বিশেষ করে সকালে ও রাতে খাওয়ার পর, সফট টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত ও জিব পরিষ্কার করা উচিত। সকালে ও রাতে হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা। দাঁতে ফাটল হতে পারে, এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন বোতল বা চুলের পিন খুলতে দাঁত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

বিজ্ঞাপন

করোনার এই সময় যেহেতু বাড়িতেই বেশি সময় থাকতে হচ্ছে, এ জন্য দাঁত ভালো রাখতে সারা দিন কী খাচ্ছেন, সে ব্যাপারে যত্নবান হোন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রুটিন ডেন্টাল চেকআপ এই করোনাকালে না করাই ভালো। তবে কারও যদি কোনো জরুরি প্রয়োজন হয়, যেমন দাঁতের গোড়া বা মুখ ফুলে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা, হাঁ করতে অসুবিধা হওয়া, মুখে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া, ধারালো ভাঙা দাঁতের কারণে ঘা বা ক্ষত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতেই হবে। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার নির্দেশনাগুলো চিকিৎসক, রোগী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সবাইকে মানতে হবে।

দর্শকদেরও কিছু প্রশ্নের সরাসরি সমাধান ও পরামর্শ দেন ডা. অরূপ রতন চৌধুরী। এ সময় দাঁতের যত্নে কী খাওয়া উচিত এবং কোন ধরনের খাবার ত্যাগ করা উচিত, তা নিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে অবশ্যই করোনাকালীন সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে সবুজ শাকসবজি, ভিটামিন সি ও ডি–সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। জাঙ্ক ফুড পরিহার করতে হবে। সব ধরনের চিনিজাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত। বিশেষ করে যাদের মুখগহ্বর শুষ্ক থাকে এবং মুখে পর্যাপ্ত লালা জমে না, সাধারণত তাদের দাঁতের রোগের সঙ্গে সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

বিজ্ঞাপন

সহজভাবে বললে, কার্বনেটেড কোমল পানীয়তে প্রচুর চিনি, ফসফরিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর। দাঁতে আঠার মতো আটকে থাকে, এমন খাবারের কারণে দাঁতের ক্ষতি হয় সহজে। আধুনিক জীবনের খাদ্যাভ্যাস দাঁতের জন্য অস্বাস্থ্যকর। চকলেট, চুইংগাম, বিস্কুট, ফাস্ট ফুড, মিষ্টি ইত্যাদি খাবার যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

খেজুর, কিশমিশ খাওয়ার পর দাঁতে লেগে থাকলে এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। আবার অ্যাসিডযুক্ত টক ফলের অ্যাসিডও এনামেলের ক্ষতি করে। এ ধরনের খাবার গ্রহণের পর ভালোভাবে কুলি করে নিতে হবে। তামাক ফুসফুসের যেমন ক্ষতি করে, তেমনই দাঁতের জন্যও ক্ষতিকর। আবার করোনা রোগের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং সম্পূর্ণরূপে পান, সুপারি, জর্দা ও নিকোটিন পরিহার করতে হবে। এগুলোর ফলে দাঁতে ও জিবে নিকোটিন জমে, মুখে পর্যাপ্ত লালা জমতে বাধা দেয় এবং দাঁতের নানা রোগ হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0