স্ত্রীরোগ এবং বুকজ্বালা

গর্ভকালীন বুকজ্বালা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগগুলো দেখা যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করলে এগুলো খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ না–ও হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন সচেতন থাকা। আর করোনার এই সময়ে চাই বাড়তি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।

এ ধরনের রোগের উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে প্রথম আলো আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইজোরাল মাপস স্বাস্থ্য আলাপন’। অনুষ্ঠানটির তৃতীয় পর্বে আলোচনা করা হয় হৃদ্‌রোগ ও বুকজ্বালা নিয়ে।

ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অনারারি প্রফেসর ডা. রওশন আরা বেগম।

অনুষ্ঠানটি ৬ নভেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া সম্প্রচারিত হয় এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস সামনে রেখে অনুষ্ঠানের শুরুতেই আলোচনায় স্থান পায় গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের বিষয়টি। এ বিষয়ে প্রফেসর ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, অনেকের গর্ভধারণের আগেই ডায়াবেটিস হয়। আবার অনেক নারীর গর্ভধারণের সময়েই ডায়াবেটিস ডেভেলপ করে। আগের চেয়ে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে।

default-image

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া। আবার যাঁদের মা–বাবার ডায়াবেটিস আছে, অধিক ওজন, বয়স ২৮ বছরের বেশি, তাঁদের গর্ভধারণের সময় ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যদি গর্ভের প্রথম ১২ সপ্তাহে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাহলে ধরে নেওয়া হয়, তাঁদের আগেই ডায়াবেটিস ছিল। কিন্তু তাঁরা জানতেন না। এ জন্য আমরা বলি গর্ভধারণের আগেই নিশ্চিত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন ডায়াবেটিস আছে কি না। আর যদি তা না হয়, তাহলে গর্ভধারণের শুরুতেই এটি পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ, গর্ভকালীন এই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মা ও সন্তান দুজনেই ঝুঁকিতে পড়েন। সে ক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে সন্তান জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমন গর্ভের সন্তানের ওজন অনেক কম অথবা অনেক বেশি হতে পারে। জন্মের পর সন্তানের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গিয়ে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

প্রফেসর ডা. রওশন আরা বেগম এরপর আলোচনা করেন করোনাকালে গর্ভধারণ বিষয়ে। তিনি বলেন, এ সময় কেউ গর্ভধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কারণ পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। যেকোনো ইমার্জেন্সিতে যাতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা থাকা ভালো। কারণ, করোনা পরীক্ষা করা না থাকলে অনেক সময় চিকিৎসকেরা রোগীর কাছে যেতে চান না। এ ছাড়া সংক্রমণ এড়াতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

default-image

গর্ভবতী নারীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন, তাঁরাও অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা, বাইরে থেকে যাঁরা আসবেন, সরাসরি তাঁদের সংস্পর্শে না যাওয়া। এ ধরনের নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালন করতে হবে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। সঠিকভাবে ঘুমের অভ্যাস করুন।

বিজ্ঞাপন

মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকতে হবে। বাড়িতে বসে না থেকে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। বাড়ির ভারী কাজ ছাড়া, টুকটাক কাজ করুন। করোনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। করোনা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করুন।

গর্ভকালীন বুকজ্বালাপোড়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর কারণ জানা জরুরি বলে মনে করেন প্রফেসর ডা. রওশন আরা বেগম। হরমোনের তারতম্যের কারণে বুকে-পেটে জ্বালা–যন্ত্রণা হয়। এ ছাড়া অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও এটি হয়। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ প্রভৃতি কারণেও এমন সমস্যা হয়। গর্ভের সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য খাবার গ্রহণেও এসব সমস্যা বাড়ার প্রবণতা থাকে।

মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকতে হবে। বাড়িতে বসে না থেকে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। বাড়ির ভারী কাজ ছাড়া, টুকটাক কাজ করুন। করোনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। করোনা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এ থেকে মুক্তি পেতে কিছু কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। যেমন একেবারে ভরপেট বা অনেক বেশি খাওয়া যাবে না। অল্প অল্প করে খেতে হবে। প্রয়োজনে বারবার খেতে হবে। ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ঝাল, মসলাদার খাবার, তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শোয়া যাবে না। একটু হাঁটাহাঁটি করে নিতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0