বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুমুদিনী হাসপাতাল

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শোভাসুন্দরী ডিসপেনসারির একটি বহির্বিভাগও ছিল। ১৯৪৪ সালে এই ডিসপেনসারিকে ২০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। হাসপাতালের উদ্বোধন করেন বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড আর জি কেসি। এটি ছিল এ দেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম দাতব্য আবাসিক হাসপাতাল। গ্রামে এই হাসপাতাল গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মানুষের কল্যাণ।

বিভিন্ন সময়ে কুমুদিনী হাসপাতালের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০ শয্যা থেকে হয়েছিল ৭৬০ শয্যা। বর্তমানে এটি ১ হাজার ৫০ শয্যার হাসপাতাল। সারা বাংলাদেশের মানুষ এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন।

শুরু থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা ছিল বিনা মূল্যে। ১৯৯৪ সাল থেকে কিছু ফি নেওয়া শুরু হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলেছেন, আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে এটা করতে হয়েছিল। এ ছাড়া এটাও দেখা গেছে যে বিনা মূল্যের চিকিৎসাকে সমাজের একটি অংশ গুরুত্বহীন মনে করে।

বর্তমানে বহির্বিভাগে সেবা নিতে একটি টিকিট কিনতে হয়। টিকিটের মেয়াদ এক মাস। একজন মেডিকেল কর্মকর্তাকে দেখাতে ফি ২০ টাকা। একজন অধ্যাপকের ক্ষেত্রে তা ৫০ টাকা। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের থাকা, খাওয়া, নার্সিং সেবা ও চিকিৎসা বিনা মূল্যে। প্রতিদিন ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকে। আর বহির্বিভাগে সেবা নেয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ রোগী।

১৯৭০ সালে কুমুদিনী হাসপাতালে যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যক্ষ্মা সংক্রামক রোগ। হাসপাতালের ওয়ার্ডে যক্ষ্মা রোগী থাকলে তা অন্য রোগীতেও ছড়াতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে যক্ষ্মা রোগীদের হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালের পাশেই লৌহজং নদী। নদীতে ছই–ঢাকা নৌকায় রেখে যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎস্যা হতো। চিকিৎসক ও নার্সরা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা দিতেন। এর নাম ছিল ‘ভাসমান ওয়ার্ড’।

নার্সিং সেবায় কুমুদিনী

আর পি সাহা যখন মির্জাপুরে হাসপাতাল চালু করেন, তখন সারা দেশেই নার্সের সংকট এখনকার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তিনি গ্রামের দরিদ্র, স্বামী পরিত্যাক্তা বা বিধবাদের নার্সের কাজ শিখিয়ে হাসপাতালের সেবায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা পায় ১৯৭৩ সালে। ওই বছর প্রতিষ্ঠিত হয় কুমুদিনী নার্সিং স্কুল।

শুরুর দিকে নার্সিং স্কুলে বিনা মূল্যে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন শিক্ষার্থীরা। তবে শর্ত ছিল, পাস করার পর নার্সদের কুমুদিনী হাসপাতালে সেবা দিতে হবে। অবশ্য সে সময় তাঁরা কিছু সম্মানীও পেতেন।

এরপর ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমুদিনী নার্সিং কলেজ। কলেজে এখন বিএসসি এবং এমএসসি নার্সিং কোর্স চালু রয়েছে। কুমুদিনী নার্সিং স্কুল ও কলেজ থেকে পাস করা নার্সদের সারা দেশে বিশেষ কদর ও সম্মান আছে।

আরও উদ্যোগ

পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ইচ্ছা কুমুদিনী ট্রাস্টের সব সময় ছিল। ট্রাস্ট তারই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করে কুমুদিনী ওমেন্স মেডিকেল কলেজ। এরপর ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করে কুমুদিনী মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বাইরে আউটরিচ কর্মসূচি আছে তাদের। টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট স্থানে বিনা মূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকরা অংশ নেন। যেসব রোগীকে ক্যাম্পে সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না, তাদের ট্রাস্টের পরিবহনে হাসপাতালে আনা হয়।

সারা দেশে হাসপাতাল বা মেডিকেল বর্জ্য ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা করা হয় না বলে অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগ কুমুদিনী হাসপাতালের বিরুদ্ধে তোলার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৩ সালের ৫ মার্চ হাসপাতালের ‘সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’–এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আর ২০১৫ সালের ১ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা উদ্বোধন করেন।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবায় এখানেই থেমে নেই কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। ট্রাস্ট নারায়ণগঞ্জে কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চ নামের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। এখানে পৃথক মেডিকেল ও নার্সিং কলেজ থাকবে। গবেষণা হবে ক্যানসার নিয়ে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন