বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পেটের সমস্যা শুরু হয় মূলত অতি ভোজন, ভুল ভোজন ও কম ভোজনের কারণে। মূল খাদ্য গ্রহণের নানা অনিয়ম, একটার পর আরেকটা খাওয়া, একসঙ্গে অনেক রকম খাওয়া, দ্রুত খাওয়া, টক-মিষ্টি একসঙ্গে খাওয়া, খাওয়ার সঙ্গে পানি পান করা, কম চিবিয়ে খাওয়া এবং যে খাদ্য যখন খাওয়া নিষেধ তখন তা খাওয়ার জন্য পেটের সমস্যা শুরু হতে থাকে। প্রধানত, পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত অ্যাসিড পাকস্থলীর মিউকোসার পর্দা নষ্ট করে পাকস্থলীর সংস্পর্শে আসে এবং প্রদাহ তৈরি করতে পারে। আর হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াও মিকোসাল পর্দা নষ্ট করে দেয়।

default-image

এ কারণে অ্যাসিড পাকস্থলীর সংস্পর্শে এসে প্রদাহের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া কারও পৌষ্টিকতন্ত্র থেকে যদি বেশি পরিমাণে অ্যাসিড ও প্রোটিন পরিপাককারী একধরনের এনজাইম (পেপসিন নামে পরিচিত) নিঃসৃত হতে থাকে, তবে এটি হতে পারে। আবার জন্মগতভাবে কারও পৌষ্টিকতন্ত্রের গঠনগত কাঠামো দুর্বল থাকে, তাহলেও পেপটিক আলসারসহ পেটের হজমপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

আমাদের সমাজে মানুষ পেটের যেকোনো সমস্যাকেই গ্যাস্ট্রিক মনে করে। তবে পেপটিক আলসার এবং নন-আলসার ডিসপেপসিয়া নামে দুটি সমস্যা আছে, যেগুলোকেও অনেকেই গ্যাস্ট্রিক বলে অভিহিত করে। এগুলো কেন হয় আর এ থেকে রেহাই কীভাবে পেতে হয়, তা না জেনে কেবল মুড়িমুড়কির মতো গ্যাসের ওষুধ খেলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ মেয়াদে টানা গ্যাস্ট্রিকের বড়ি খাওয়ার নানা জটিলতা আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যদি পাকস্থলীতে এই বিশেষ জীবাণু হেলিকোব্যাকটার পাইলোরির সংক্রমণ থাকে, তবে সাধারণ গ্যাসের ওষুধে সেটা পুরোপুরি সেরে যাবে না এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও মিটবে না।

পেটের হজমজনিত সমস্যার বিকল্প সমাধান হিসেবে আকুপ্রেশার বেশ কার্যকর একটি পদ্ধতি। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
আসুন শিখে নিই পেটের সমস্যা জন্য কীভাবে আকুপ্রেশার করব!

আকুপ্রেশার প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করা উত্তম। সে জন্য ঘুম থেকে উঠে তিন গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করার অভ্যাস গড়ুন। তারপর আকুপ্রেশার করতে বসুন। প্রথমে দুই হাতের তালু ভালো করে ঘষুন। এমনভাবে ঘষুন যেন তালু গরম হয়ে ওঠে। দুই মিনিট দুই হাতের তালু ঘষলেই যথেষ্ট গরম হয়ে ওঠে।

default-image

তারপর ছবিতে দেওয়া পয়েন্টে একবার চাপ দিন। প্রতিটি চাপের স্থায়ীত্ব হবে দুই সেকেন্ড। এভাবে একটি পয়েন্টে ১০০ বার করে চাপ দিন। খেয়াল করে দেখবেন, আপনি যেখানে চাপ দিয়ে ধরবেন, সেখানে ব্যথা অনুভূত হবে। আকুপ্রেশারের নিয়মই হচ্ছে যেখানে আপনি ব্যথা অনুভব করবেন, সেটা আপনার জন্য পিনপয়েন্ট। নিয়মিত আকুপ্রেশার করলেই ব্যথা কমে আসবে। একসময় ব্যথাই থাকবে না। তখন সমস্যাও থাকবে না।

default-image

দ্বিতীয় ছবিতে দেওয়া চারটি পয়েন্টেই আকুপ্রেশার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চারটি পয়েন্টে এক, দুই, তিন গুনে ওপর থেকে নিচে নামুন। চারটি পয়েন্টে একবার করে চাপ দিয়ে এক চাপ হিসাবে কাউন্ট করুন। এই হিসাবে আপনি ১০০ বার করে চাপ দিন ঠিক আগের নিয়মেই।

default-image

সবার শেষে এই দুটো পয়েন্টে আগের নিয়মেই আকুপ্রেশার করে সকালের কাজটি শেষ করুন। দিনে দুবার আকুপ্রেশার করা যাবে। সকালে খালি পেটে আর রাতে ঘুমানোর আগে এবং খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর। এই নিয়মে সপ্তাহে ছয় দিন আকুপ্রেশার করুন। একদিন বিরতি দিন। তারপর আবার শুরু করুন।
এক সপ্তাহেই আপনি উপকার পাওয়া শুরু করবেন। যাঁদের প্রচুর গ্যাসজনিত সমস্যা ছিল, তাঁদের গ্যাস হওয়ার প্রবণতা কমতে থাকবে। যাঁরা আইবিএস ও কনস্টিপেশনজনিত সমস্যায় আকুপ্রেশার করবেন, তাঁদের একটু সময় লাগবে। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যেই উপকার পাওয়া শুরু করবেন।

পেটের যেকোনো সমস্যা সমাধানে খাদ্যবিধি মানা জরুরি। প্রথমত, সকালে কুসুম গরম পানি ও লেবুর রস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সকালে নাশতায় তাজা মৌসুমি ফল থাকা জরুরি। তাতে পেটের অস্বস্তি ভাব কমতে শুরু করবে। দুপুর ও রাতে এক কাপ আদাজল হজমের জন্য উত্তম পথ্য। চা–কফি না খেয়ে আদাজল খাওয়া যেতে পারে।

পেট পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই ‘অনেক কিছু’ করে থাকেন। কিন্তু অনেক কিছু না করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি, বিশেষ করে ময়দাজাতীয় খাবার বর্জন করতে পারলে খুব দ্রুতই পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

লেখক: খাদ্য–পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

ছবি: লেখক

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন