default-image

সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ লক্ষ করলেন, মুখের এক পাশে বাঁকা হয়ে গেছে। খেতে গেলে মুখের এক পাশ দিয়ে পানি পড়ে যায়, এক পাশের চোখ বন্ধ হয় না। এ রকম পরিস্থিতিতে সবাই ধারণা করেন, রোগীর নিশ্চয়ই ‘স্ট্রোক’ হয়েছে। এটি স্নায়ুগত সমস্যা ঠিকই, তবে তা স্ট্রোক নয়। এই রোগের নাম ‘বেলস পালসি’।

বেলস পালসি হঠাৎই হয়। স্নায়ুগত সমস্যা হলেও এটি খুব জটিল কোনো রোগ নয়। সঠিক চিকিৎসায় বেশির ভাগ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। স্বল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থেকে যায়, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

বেলস পালসির কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে হারপিস নামের একধরনের ভাইরাস, ডায়াবেটিস ও গর্ভাবস্থার সঙ্গে এই রোগের সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করা হয়। এ সমস্যায় রোগীর হঠাৎ মুখের এক দিক বাঁকা হয়ে যায়। এর সঙ্গে খাবারের স্বাদ না পাওয়া ও এক পাশের কানে জোরে শব্দ শোনার মতো সমস্যা হতে পারে। স্ট্রোকেও মুখ বেঁকে যেতে পারে। তবে তার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যায়, এক দিকের হাত-পা অবশ হয়ে যায়। বেলস পালসিতে তেমনটা হয় না। এ সমস্যায় কেবল মুখের এক দিক আক্রান্ত হয়। রোগীর মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়ার সঙ্গে এক পাশের চোখের পাপড়ি পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এক চোখ একটু খোলা থাকে সব সময়।

বিজ্ঞাপন

রোগটি নির্ণয়ের জন্য সাধারণত কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। রোগীর ইতিহাস শুনে ও রোগীকে দেখেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিখুঁতভাবে রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্ট্রোক বা মস্তিষ্কের অন্য রোগ থেকে আলাদা করার জন্য মাথার সিটি স্ক্যান অথবা এমআরআই পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

বেলস পালসির চিকিৎসাকে তিনটা ভাগে ভাগ করা যায়: ওষুধ, পরামর্শ ও ফিজিওথেরাপি। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ এ রোগের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। বিশেষ করে যদি প্রথম সাত দিনের মধ্যেই দেওয়া যায়। এ সমস্যায় চোখের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোগী কালো চশমা ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর সময় যদি চোখ পুরোপুরি বন্ধ না হয়, তাহলে চোখের ওপর পাতলা কাপড় দেওয়া যেতে পারে। চোখ ঈষৎ খোলা থাকলে চোখের পানি শুকিয়ে যায়, খচখচ করে আর প্রদাহ হয় বলে এই চিকিৎসা। বেলস পালসির চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি খুবই প্রয়োজনীয়। বেঁকে যাওয়া মুখের পেশিকে আগের মতো কার্যকর করে তুলতে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দরকার। এতে রোগী দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন, খাবার চিবানো বা গেলার ক্ষমতা ফিরে আসে।

ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তের শর্করা সুনিয়ন্ত্রণে রাখবেন। আকস্মিক সমস্যাটি দেখা দিলে ভয় না পেয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ, যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই সুফল পাওয়া যায়।

ডা. নাজমুল হক মুন্না, সহকারী অধ্যাপক (নিউরোলজি), মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন