default-image
বিজ্ঞাপন

নানা রকম দুর্ঘটনার জন্য হতে পারে হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি। এটা হলে কী করণীয়, তা নিয়ে আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ব্যথার সাতকাহন’–এর তৃতীয় পর্বে। ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে ছিলেন ফেলো-জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট এবং নিটোর- এর অর্থোস্কপিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্ত। অনুষ্ঠানটি ৩ এপ্রিল প্রথম আলো এবং এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ক্রিকেটারদের প্রায়ই হাঁটুর লিগামেন্টের ইনজুরি হয়। হাসিবুল হোসেন শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এমন ইনজুরির সময় তিনি করতেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে টেকনোলজি অত উচ্চমানের ছিল না। এমন কিছু হলে আমরা বিশ্রাম নিতাম, বরফ লাগাতাম। আল্ট্রাসাউন্ড নিয়ে কয়েক দিন বিশ্রাম নিতাম। পুরোপুরি লিগামেন্ট ঠিক হচ্ছে কি না, এটা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। একটু ব্যথা কমলেই আমরা আবার খেলা শুরু করতাম। এতে ইনজুরিটা একেবারে সেরে যেত না।’

default-image

হাসিবুল হোসেন শান্ত আরও বলেন, ‘এখন ক্রিকেটারদের চিকিৎসা উন্নত মানের হয়েছে। ইনজুরির লেভেল কতটুকু, সেটা শনাক্তের সুযোগ আছে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা আছে। আমি মনে করি, ইনজুরি সারার জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট এবং চিকিৎসক যেভাবে চলতে বলবেন, সেভাবে চলতে হবে। না হলে এটি ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে। আর ইনজুরি একদম সেরে না ওঠা পর্যন্ত মাঠে না যাওয়াই ভালো।’

বিজ্ঞাপন

হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি হয়ে থাকলে কী করা উচিত, এমন প্রশ্ন রাখা হয় ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসনের কাছে। তিনি বলেন, ‘হাঁটুর ভেতরে দুটি এবং বাইরে দুটি লিগামেন্ট এবং দুটি মিনিস্কাস থাকে, যা একে স্থিতিশীল করে রাখে। একজন খেলোয়াড়ের খেলতে গেলে বাইরে থেকে ভেতরের লিগামেন্ট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাইরের লিগামেন্ট অল্প, মধ্যম এবং তীব্র পর্যায়ের আঘাত পেতে পারে। বাইরে যদি তীব্র আঘাত পায়, তাহলে সাধারণত ভেতরের লিগামেন্টেও ওই তিন রকমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অনেক আশঙ্কা থাকে। এমনকি হাঁটুর ভেতরে লিগামেন্ট পুরোপুরি ছিঁড়ে যেতে পারে।

default-image

প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসায় অবশ্যই বরফ দিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর এক্স-রে ও এমআরআইয়ের মাধ্যমে আঘাতের পরিমাণ বের করতে হয়। বাইরের লিগামেন্টের আঘাত কম হলে কয়েক দিন বিশ্রাম এবং কিছু ব্যায়াম করলেই হয়। ভেতরের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে একজন খেলোয়াড়ের খেলায় ফিরতে সময় লাগবে। এগুলো একেবারে ছিঁড়ে গেলে জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। অত্যাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন লিগামেন্ট লাগাতে হবে। আর্থোস্কপি সার্জারির মাধ্যমে হাঁটু বা গোড়ালির পাশ থেকে লিগামেন্ট নিয়ে লাগিয়ে দেওয়া যায়। লিগামেন্ট লাগানোর পর নির্দিষ্ট একটা সময় রিহ্যাবিটিলেশনের দরকার হয়।’

একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফিটনেস। আর ফিটনেস ধরে রাখার জন্য শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করেন হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাঁর মতে, ব্যায়াম, খাওয়া ও বিশ্রামের রুটিন যদি ঠিক থাকে, তাহলে খেলোয়াড় ইনজুরিতেও কম পড়েন। ডায়েটের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কিছু উপসর্গ আছে। যেমন, হাঁটতে গেলে হাঁটু বেঁকে যাওয়া, হাঁটুতে শক্তি না পাওয়া, পায়ের মাংস শুকিয়ে যাওয়া। এসব দেখার পর ভালোভাবে ডায়াগনোসিস করে নিশ্চিত করা হয় কোন লিগামেন্ট কী পরিমাণে ছিঁড়েছে। ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ইনজুরি শনাক্ত করা হয় উপসর্গ দেখে। বাকি ১০ থেকে ১৫ ভাগ এমআরআই করে।’ এরপর দেখা হয় কোন রোগীর সার্জারির প্রয়োজন।

ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আর্থোস্কপি সার্জারির একটি সুবিধা হচ্ছে, সকালে রোগী ভর্তি হয়ে দুপুরে অপারেশন হলে রাতেই তিনি বাড়ি চলে যেতে পারবেন। এতে খুব বেশি রক্তক্ষরণ হয় না। মাত্র দু–তিনটি ছোট ছিদ্র করে আর্থোস্কপি যন্ত্র ঢুকিয়ে লিগামেন্ট ঠিক করা হয়। একজন সাধারণ মানুষের এমন ইনজুরি হলে অপারেশনের সাত দিনের ভেতর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু ক্রাচে ভর দিয়ে চলতে হবে কিছুদিন। খেলোয়াড়দের শুধু ব্যায়াম আর সঠিক রিহ্যাবিলিটেশনের দরকার হয়। রিহ্যাবিলিটেশন ঠিকভাবে না হলে হাঁটু জমে যেতে পারে। আর শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ ভাগ সম্ভাবনা আছে ইনফেকশন হওয়ার।

ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, ‘অপারেশনের তিন মাসের মধ্যে খেলোয়াড়েরা স্বাভাবিক চলাফেরা, ওয়ার্মআপ করতে পারবে। আমরা বলে দিই কী কী ব্যায়াম করতে হবে। ফিজিওথেরাপিস্টদের সাহায্যে সেটা করতে হবে। আর একটা লিগামেন্ট হাড়ের সঙ্গে মিশতে ছয় থেকে নয় মাস লাগবে। এরপর স্বাভাবিক খেলাধুলায় করতে পারবে।’

default-image

যেকোনো ইনজুরি এড়ানোর জন্য শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক ফিটনেসের দরকার আছে। আর যাঁদের লিগামেন্ট খুব লুজ, তাঁরা খুব সহজে ইনজুরিতে পড়েন। কারণ, তাঁদের জয়েন্টের ব্যালান্স থাকে না, তাঁদের পেশির কো-অর্ডিনেশন কম। এ জন্য অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে। খেলা অনুযায়ী ওয়ার্মআপ করতে হবে। আর একজন খেলোয়াড়কে খেলার সময় অবশ্যই নিজের হাত-পা রক্ষার কৌশল জানতে হবে।

বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন