বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে অতিথিরা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। শুরুতে অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বিশ্ব হার্ট দিবসের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব হার্ট দিবস উদ্‌যাপনের প্রধান কারণ ও উদ্দেশ্য হলো, কীভাবে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করতে পারি এবং যেখানে সম্ভব, সেখানে চিকিৎসা করে হৃদ্‌রোগ থেকে মুক্ত হতে পারি। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করা।’ এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের যত্ন নিন’।

default-image

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের জন্য যে কার্যকলাপ, তা আমাদের দেশে খুব একটা দেখা যায় না। এ জন্য আমরা বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার প্রিভেনশন চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো কমিউনিটিকে হৃদ্‌রোগের ভয়াবহতা এবং কীভাবে এটা প্রতিরোধ করা যায়, এ সম্পর্কে জানানো। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, হৃদ্‌রোগ একবার হয়ে গেলে এটা কলেরা, ম্যালেরিয়া, টিবির মতো চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া যায় না। সুস্থ হওয়ার পরও এর ওষুধ সেবন বন্ধ করা যায় না। ৯০ শতাংশ হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা একবার শুরু হলে তা চলতেই থাকে এবং এটি অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসা। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’—বাক্যটি হৃদ্‌রোগের বেলায় সব থেকে বেশি প্রযোজ্য

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে জীবনধারার পরিবর্তন। এ নিয়ে চিকিৎসক শিশির কুমার বসাক বলেন, এবারের হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের যত্ন নিন’। এ কথার ভেতর দিয়ে প্রতিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশে যত মৃত্যু হয়, তার এক–তৃতীয়াংশ হয় হার্ট অ্যাটাকে। হার্টের রক্তনালির ভেতর চর্বির পরত জমতে থাকে এবং এটি আস্তে আস্তে সরু হতে থাকে। একপর্যায়ে ব্লকগুলো ফেটে গিয়ে বা অনেক বেশি ব্লক হয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়। ব্লক তৈরির প্রসেসটা হতে কয়েক দশক সময় লেগে যায়। কোনো উপসর্গ ছাড়াই যখন প্রকাশ পায়, তত দিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। তখন চিকিৎসা ছাড়া খুব বেশি কিছু করার থাকে না।

default-image

অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের জন্য হার্টের মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা বুঝতে পারি, কার ভেতর হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিখ্যাত ল্যানসেট জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেখানে ১৫ হাজার হৃদ্‌রোগীর ওপর গবেষণা করে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি উপাদান চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হচ্ছে ধূমপান, মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, স্বাস্থ্যকর খাবার কম খেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মন ও সামাজিক চাপ। আমরা এদের মোকাবিলা করতে পারলে হৃদ্‌রোগ রুখে দিতে পারি। এ জন্য কয়েকটি জিনিসে নজর দিলেই হবে। যেমন ধূমপান, মদ্যপান বন্ধ করা, কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটা, বেশি করে প্ল্যান্ট-বেসড খাবার ও সম্পৃক্ত চর্বির হার ১০ শতাংশের নিচে কমিয়ে অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি খাওয়া, লবণ ও চিনি কম করে খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত শর্করার বদলে পূর্ণ শস্যদানা এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন তৈলাক্ত মাছ খাওয়া। এ ছাড়া উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হিংসা–বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকতে হবে।

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের এই জ্ঞানগুলো জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার প্রিভেনশনের মতো সোসাইটি কাজ করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য সবাইকে সচেতন করা এবং যাদের হৃদ্‌রোগ হয়েছে, তাদের রিহ্যাবিলিটেশনের ব্যবস্থা করা। চিকিৎসক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে যাঁরা চিকিৎসক আছেন, তাঁদের আমরা শিক্ষিত করতে চাই, যাতে একজন চিকিৎসক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরোধের শিক্ষা সবাইকে দিতে পারেন। এ ছাড়া সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণারও অনেক গুরুত্ব আছে। এ জন্য প্রচারমাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে সঠিকভাবে।’

করোনাভাইরাস ও হৃদ্‌রোগ নিয়ে কথা বলেন চিকিৎসক এস এম হাবিব উল্লাহ সেলিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে হৃদ্‌রোগই মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশ্বে প্রায় ৫২০ মিলিয়ন হৃদ্‌রোগী আছে এবং ১৮.৬ মিলিয়ন মানুষ এতে মারা যায়। বিশ্ব উন্নত হচ্ছে, কিন্তু হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর হার কমানো যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসে দুই কারণে হৃদ্‌রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এক. মানুষ সরাসরি ভাইরাসের কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দুই. ঘরবন্দী থাকার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।

default-image

করোনা প্রতিরোধের জন্য টিকা চলে এসেছে। আশা করা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে এর প্রকোপ কমে যাবে। কিন্তু হৃদ্‌রোগের কোনো টিকা নেই। এটি মাল্টিফ্যাক্টরাল ডিজিজ, যা কেবল সচেতনভাবে প্রতিরোধ করে মোকাবিলা করা সম্ভব। এ জন্য কেবল প্রতিরোধমূলক শিক্ষা নিয়ে আমাদের সোসাইটি কাজ করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও কাজ করা হবে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন