অলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী
অলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী

এ ধরনের রোগের উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে প্রথম আলো আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইজোরাল মাপস স্বাস্থ্য আলাপন’। অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করা হয় হৃদ্‌রোগ এবং বুকজ্বালা নিয়ে।

default-image

ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিশন অব ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি, হার্ট ফেইলিওর রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারিসুল হক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও কর্মরত।

অনুষ্ঠানটি ৬ নভেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া সম্প্রচারিত হয় এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক এই বিষয়টির অবতারণা করেন: আমরা একটি সাধারণ রোগে ভুগে থাকি, এটা হচ্ছে বুক জ্বালাপোড়া বা ব্যথা। আর এটি হলেই আমরা ভাবি পাকস্থলীর সমস্যা বা পেপটিক আলসার; অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন করে থাকেন। কিন্তু এটি যে হৃদ্‌রোগের জন্যও হতে পারে, তা চিন্তা করেন না।

অধ্যাপক হারিসুল হক উত্তরে বলেন, ‘ঠিকই, আমাদের দেশের মানুষ এই কাজ প্রতিনিয়তই করে থাকে। বুক জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলেই পিপিআই অর্থাৎ সাধারণ ভাষায় যাকে বলে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, সেগুলো সেবন করে। এটিকে ফেস অব ডিনাই বলে ডাক্তারি ভাষায়। প্রথমেই রোগী বড় কোনো অসুখকে স্বীকার করে নিতে চায় না। হার্ট ফেইলিওরের জন্যও বুক জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে, প্রাথমিক অবস্থায় এটি তারা মানবে না।

আমরা বলি, এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে হৃদ্‌রোগের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এ রকম অনেক রোগীই কিন্তু আমরা পাই। যাদের দুদিন আগে বুকে ব্যথা ছিল, গ্যাসট্রিক ভেবে ভুল করেছে। পরে যখন শ্বাসকষ্ট হয় তখন হাসপাতালে যায়, ইসিজি করে দেখা যায় তার হার্ট অ্যাটাক ছিল। একে আমরা বলি লেট অ্যারাইভাল। সুতরাং হার্টের সমস্যায়ও বুক জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে, এটি মাথায় রাখতে হবে।

এরপর ডা. হারিসুল হক আলোচনা করেন, করোনা পরিস্থিতিতে হার্টের কিছু সমস্যা এবং এর পেছনের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো নিয়ে। তাঁর মতে, অনেক রোগী আছে যাদের হৃদ্‌রোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ আছে। এটিকে আমরা বলি কো–মোরিবিলিটি। অর্থাৎ একটি রোগের সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত। এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে কোভিড–১৯ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে যাদের স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হয়, তাদের ইমিউনিটি ক্ষমতা কমে যায়, তাদের ক্ষেত্রে কোভিড–১৯ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

করোনাকালে এ ধরনের রোগীদের বেশি বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শুধু ঘরে বসে থাকলেই চলবে না, সঠিক খাবার গ্রহণ করতে হবে। ঘরেই হালকা ব্যায়াম করতে হবে। আমরা বলি, খালি হাতে ব্যায়াম করুন।

দর্শকদের সরাসরি কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অধ্যাপক হারিসুল হক বলেন, করোনা–পরবর্তী সময়ে অনেকেরই হৃদ্‌রোগের নানা সমস্যা দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি জরিপে দেখা গেছে, ২ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ করোনা রোগী পরবর্তী সময়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। আমার অভিজ্ঞতা থেকেও আমি দেখেছি, প্রতি ২০০ জন রোগীর মধ্যে একজন হৃদ্‌রোগে ভোগেন। অনেকেরই হার্ট রেট কম থাকে। তখন অবজারভেশনে থাকতে হয়। বলা যায় মূলত চারটি সমস্যা বেশি দেখা যায়। যেমন হার্ট অ্যাটাক, অ্যারিজমিয়া, কার্ডাইটিস এবং এর জটিলতা ও পারমানেন্ট অ্যাম্বয়ডারমালিজম।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত বুকব্যথা হলে করণীয় সম্পর্কে প্রফেসর হারিসুল হক বলেন, মনে রাখতে হবে, বুকের ব্যথা যেকোনো বয়সে হতে পারে। আর বুকব্যথা হলে নার্ভাস হওয়া যাবে না, শান্ত থাকতে হবে। একটি ইসিজি করানো উচিত, এতে জানা যাবে আপনার হৃদ্‌রোগ আছে কি না।

হারিসুল হক আরও বলেন, ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ইসিজি থেকে হৃদ্‌রোগ নির্ণয় করা যায়। আবার ব্যথার ধরন থেকেও বোঝা যায়। যেমন হঠাৎ ব্যথা হলে বুঝতে হবে নিউমোথরাইজ।

হৃদ্‌রোগের ব্যথা হঠাৎ করে আসে না। ধীরে ধীরে জানান দিয়ে আসে। বলা হয় ছয় সপ্তাহ আগে থেকে অল্প অল্প ব্যথা হয়। কিংবা হার্ট রেট বাড়ে বা কমে যেতে পারে। আর পেপটিক আলসারের ব্যথা খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঠিক সময়ে না খেলে বা খাবারের পর ব্যথা হয়। আবার ভরা পেটে হাঁটার সময় যদি ব্যথা হয়, তবে তা হৃদ্‌রোগের ব্যথা। তাই বুকব্যথাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না; বরং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলেই পরামর্শ তাঁর।

মন্তব্য পড়ুন 0