সবুজ শাকসবজি কোলাজেনের ভালো উৎস
সবুজ শাকসবজি কোলাজেনের ভালো উৎসছবি: ম্যাগডা এহলারস, পেকজেলসডটকম

হালের ডায়েট ট্রেন্ডে বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে কোলাজেন শব্দটি। নাম জানা থাকলেও অনেকেরই এ বস্তু সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই। কোলাজেন হলো মানবশরীরের সৃষ্ট প্রাকৃতিক প্রোটিন। আমাদের শরীরের হাড়, পেশি, অস্থিসন্ধি, চুল, নখ ও ত্বকের গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। রক্তনালি, চোখের মণি ও দাঁতেও কোলাজেন থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের এর স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। এ জন্য বয়স্ক মানুষের হাড়, পেশি ও অস্থিসন্ধি দুর্বল হতে থাকে। ত্বকে ভাঁজ পড়তে থাকে।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কোলাজেনের কোনো বিকল্প নেই।

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশ, যেমন: জাপান, কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশের মানুষের তারুণ্যোজ্জ্বল ত্বকের অন্যতম রহস্য কোলাজেন ডায়েট। তাঁরা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখে, যা শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ জন্যই অন্যান্য দেশের তুলনায় এসব দেশের নাগরিকদের তাদের বয়সের চেয়ে অনেক বেশি তরুণ দেখায়।

বিজ্ঞাপন

কয়েক বছর ধরে এসব দেশের বিউটি ক্রেজে পরিণত হয়েছে ‘কোলাজেন হটপট’। হটপট একধরনের চাইনিজ রান্নাপদ্ধতি যেখানে, খাবারের টেবিলের ওপর চুলার ব্যবস্থা করে অনেক ধরনের জিনিস মিশিয়ে সুপ বা স্টু তৈরি করা হয়। চীন, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, হংকং—সবখানেই অনেক বিশেষায়িত হটপট রেস্টুরেন্ট আছে। এ রকম কিছু রেস্টুরেন্ট আছে, যাদের মেনুতে পাওয়া যায় কোলাজেন হটপট।

কোলাজেনসমৃদ্ধ বা এটি বাড়াতে সহায়তা করে—এমন খাদ্য উপাদান দিয়েই এই হটপট বানানো হয়। সৌন্দর্যসচেতন তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। এদের দেখাদেখি পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশে কোলাজেন প্রোডাক্ট আর সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পাশাপাশি এটিকে ডায়েটের অংশ করার প্রবণতা বাড়ছে।

কোলাজেন ডায়েট

এই ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা খুব একটা কঠিন নয়। কারণ আমাদের আশপাশে কোলাজেনসমৃদ্ধ এবং এর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে—এমন খাবার প্রচুর আছে।

আমাদের শরীরে কোলাজেন প্রোকোলাজেন হিসেবে শুরু হয়। গ্লাইসিন ও প্রোলিন—এই দুই অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলে শরীরে প্রোকোলাজেন তৈরি হয়। আর সমস্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে থাকে ভিটামিন সি এবং কপার। তাই কোলাজেন ডায়েটে এই চার পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার রাখতেই হবে।

গ্লাইসিন

default-image

সবচেয়ে বেশি গ্লাইসিন পাওয়া যায় জেলাটিন, হাড়ের ব্রথ বা স্টক, মুরগি, হাঁস বা টার্কির চামড়ায়। এ ছাড়া অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারেও গ্লাইসিন পাওয়া যায়।
প্রোলিন: ডিমের সাদা অংশ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং কিছু শাকসবজি, যেমন: বাঁধাকপি, ব্রকলি, বাঁশকোড়ল, মাশরুম, সামুদ্রিক শেওলা, পাটশাক, পালংশাক প্রোলিনের উৎকৃষ্ট উৎস।

বিজ্ঞাপন

ভিটামিন সি

default-image

লেবু ও বেরি–জাতীয় ফলে যে প্রচুর ভিটামিন সি আছে, এটা এখন আর কারও অজানা নয়। কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, স্কোয়াশ, টমেটোতেও অনেক ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

কপার

default-image

কলিজা, বাদাম, ডাল বা বিচি, কোকো পাউডার এবং ডার্ক চকলেট কপারের সহজ উৎস।

এসব খাবারের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় আরও যুক্ত করতে হবে গরু ও মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ, গাঢ় সবুজ শাক, ট্রপিক্যাল ফল, যেমন: পেঁপে, পেয়ারা, নারকেল, কাঁঠাল, আম, লিচু, ড্রাগন ফল, আনারস কামরাঙাসহ রসুন, ধনেপাতা, অ্যাভোকেডো, টফু, অ্যালোভেরা ইত্যাদি। আর অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে প্রক্রিয়াজাত শর্করা এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, হেলথশটস, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, নিউট্রিশন ডেটা, গুড হাউস কিপিং।

মন্তব্য পড়ুন 0