default-image
বিজ্ঞাপন

চলতি পথে রাস্তার পাশে বা মোড়ে, রেলস্টেশন কিংবা বাস কাউন্টারে—সব জায়গায় দেখা মেলে মচমচে ভাজা পপকর্নের। মাঝেমধ্যে ডাক শোনা যায় ‘এই, পপকর্ন’। ছোট–বড় সবারই বেশ প্রিয় খাবার এটি। বাস বা ট্রেনযাত্রায় পপকর্নের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। লম্বা ভ্রমণে সময় কাটাতে পপকর্নের জুড়ি মেলা ভার। আর সিনেমা পপকর্ন ছাড়া জমেই না। সিনেমা দেখার সময়কে এখন বলাই হয় ‘পপকর্ন টাইম’! প্রিয় সিনেমা দেখতে দেখতে মুচমুচে পপকর্ন সিনেমার রসকে বাড়িয়ে তোলে অনেক গুণ। সিনেমার দৃশ্যের ছন্দের সঙ্গে পপকর্ন খাওয়ার ছন্দ ওঠানামা করে। বুঝতেই পারছেন, আমাদের জীবনে কতভাবে জড়িয়ে আছে মুখরোচক খাবার পপকর্ন।

মজাদার এ খাদ্য তৈরি হয় ভুট্টা থেকে। আপনি জানেন কি ভুট্টা অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি শস্য? অনেক পুষ্টি উপাদানে পরিপূর্ণ এই ভুট্টা। তাই পপকর্নও একটি পুষ্টিকর খাবার। এটি আপনার ডায়েট চার্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

default-image

পপকর্নের পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম পপকর্নে ক্যালরি রয়েছে ৯০ কিলো ক্যালরি, ডায়েটরি ফাইবার ২০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৯ গ্রাম, প্রোটিন ৩.২ গ্রাম, ফ্যাট ১.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৯ মিলিগ্রাম, ফলেট ৪৬ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ০.৫ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ১.৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১২০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ১০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৭ মিলিগ্রাম।

বিজ্ঞাপন

পপকর্নের উপকারিতা

default-image
  • উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকার কারণে পপকর্ন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।

  • সঠিক পরিমাণে পপকর্ন খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। পর্যাপ্ত ফাইবার থাকার কারণে পপকর্ন ক্ষুধার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সঙ্গে ওজন কমাতেও খুব দারুণ কাজ করে।

  • এতে ফলেট থাকায় এটি নতুন কোষ তৈরিতে, বিশেষ করে গর্ভধারণের সময় সহায়তা করে। পপকর্নে কিছু এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড থাকার কারণে এটি শরীরবৃত্তীয় কাজে সাহায্য করে থাকে। রেনাল ডিসফাংশনসহ কিডনির নানা সমস্যায় পপকর্ন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • কার্ডিওভাসকুলার সুরক্ষিত থাকে। থিয়ামিনের কারণে শর্করা হজমে পপকর্ন সাহায্য করে।

  • বিটা ক্রিপটোজ্যানথিন থাকায় পপকর্ন ফুসফুস ভালো রাখে এবং ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও হেমোরয়েড সমস্যায় পপকর্ন খুবই কার্যকর।

  • পপকর্নে যে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রয়েছে, সেগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী ফ্রি-র‍্যাডিকেলগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে।

  • পপকর্নে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন বি১২ থাকে, যা নতুন রক্তকোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে রক্তাল্পতা দূর হয়।

  • পপকর্নে উপস্থিত ভিটামিন এ চুলের হারিয়ে যাওয়া কোমলতা ফিরিয়ে এনে চুলকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতেও সাহায্য করে।

  • ভিটামিন এ, সি ও লাইকোপিন ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। পপকর্নে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পাকস্থলীর স্বাস্থ্যকে সঠিক রাখে।

    তাই চেষ্টা করুন প্রতিদিনের খাবারতালিকায় অন্তত নাশতা হিসেবে একবেলা পরিমিত পরিমাণে পপকর্ন রাখতে। প্রয়োজনে আপনার পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

    লেখক: পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

পুষ্টি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন