default-image

এমনটা তো হয়, দুই বন্ধুর প্রেমের জীবনে দূতিয়ালি করতে গিয়ে নিজেই জড়িয়ে পড়েন প্রেমে। অর্থাৎ বন্ধুদের ভালোবাসার তদারকি করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন নিজেই

শাহানার সঙ্গে তমালের বন্ধুত্বটা অনেক দিনের। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই শাহানার মনে হচ্ছে, তমালের প্রতি তার অনুভূতিটা শুধু যেন বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ একধরনের ভালো লাগা, রোমান্টিকতা, গভীর আকাঙ্ক্ষা আর নিজের করে চাওয়ার অনুভবগুলো যেন ক্রমেই গভীর হয়ে উঠছে। তমালের প্রতি শাহানার প্রেমের এসব অনুভূতি সে কীভাবে তাকে বলবে, সেটা ভাবতেই মনে হয়, তাদের দুজনেরই অন্য এক বন্ধু ঈষিতার কথা। সিদ্ধান্ত হয় শাহানার মনের কথাটা তমালকে জানাবে ঈষিতা। সবকিছু ঠিকমতোই এগোচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি একেবারেই জটিল হয়ে যায় যখন তমালের ভালো লেগে যায় ঈষিতাকে। আর ঈষিতাও ঠিক অগ্রাহ্য করতে পারে না তার প্রতি তমালের ভালো লাগাকে। তারা জড়িয়ে পড়ে ভালোবাসার সম্পর্কে।

শাহানা, ঈষিতা আর তমালের সম্পর্কজনিত এমন ত্রিমাত্রিক জটিলতা কিন্তু তেমন নতুন নয় বা ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু প্রশ্ন আসে, তাদের তিনজনের বন্ধুত্বে যে এমন একটি ছন্দপতন ঘটল, সেটা কীভাবে ঠিক করা যায় বা ঈষিতা ও তমালের সম্পর্কটা কীভাবেই বা জানাবে শাহানাকে।

আলোচনা করা

একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, বন্ধুত্ব বা যেকোনো সম্পর্ক আমাদের জীবনে এমন একটি বিষয় যে চলার পথে নানাভাবেই এর ছন্দপতন ঘটতে পারে। কিন্তু সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা দিয়ে বিচার না করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক যে দীর্ঘদিনের আস্থা ও নির্ভরতার ভিত্তিতে তৈরি হয়, সেটার গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ফলে এসব ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে অস্বস্তি লাগলেও সরাসরি কথা বলা এবং আলোচনা করা ভালো। এ ধরনের বিষয় অন্য কারও কাছ থেকে জানলে গ্রহণ করাটা অনেক সময় জটিল হয়ে যায়।

প্রথমে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়া

আলোচনার শুরুতেই বন্ধুর জায়গায় নিজের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি যে তার কাছে অগ্রহণযোগ্য হতে পারে, সেটার দায়ভার স্বীকার করে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে ‘সরি’ বলা ভালো। এই সামান্য শব্দটি দিয়ে অনেক রাগ কমিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সরাসরি কথা বলা

আলোচনার সময় অল্প কথায় সে যে তার বন্ধুর মনোভাব বলতে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজেই প্রেমে পড়ে গেছে তা সরাসরি জানানো ভালো।

নিজেকে ঠিক প্রমাণ করা থেকে বিরত থাকুন।

এ ধরনের আলোচনায় অনেক সময়ই অপরাধবোধ থেকে নিজেকে ঠিক প্রমাণ করার প্রবণতা দেখা যায়। এটা না করাই ভালো।

বন্ধুর আবেগীয় প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে নিন

এ ধরনের একটি ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা রকম আবেগীয় প্রতিক্রিয়া যেমন রাগ, অভিমান, কষ্ট, ঘৃণা ইত্যাদি ঘটতে পারে। সেগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব প্রতিক্রিয়া সাময়িক এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে এগুলো কমে আসবে। সম্পর্ক চলে আসবে আগের ছন্দে।

প্রয়োজনে অন্য বন্ধুর সাহায্য নিন

প্রয়োজনে এসব ক্ষেত্রে বলার বা ভুল বোঝাবুঝির অবসানের জন্য অন্য কোনো বন্ধুর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

নতুন সম্পর্কের উদ্ভাস প্রকা​েশ বিরত থাকুন

আলোচনার সময় কোনোভাবেই নিজের নতুন সম্পর্ক নিয়ে বা ব্যক্তিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে জৈবিক ও মানসিক আকর্ষণের প্রাবল্য থাকে বলে অনেকের পক্ষে হয়তো ঠিক-বেঠিকের সূক্ষ্ম পার্থক্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। তবে কারও প্রতি কোনো মানসিক দুর্বলতা তৈরি হলে সেটা নিজে সরাসরি বলাই ভালো। ত্রিমাত্রিক সম্পর্কের যে জটিলতা প্রাথমিকভাবে তৈরি হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো একসময় ঠিকই গুরুত্বহীন হয়ে ওঠে।

আপনিযদিনাচান

কিন্তু আপনি যদি না চান, বন্ধু যাকে পছন্দ করে, তাঁর সঙ্গে কোনো সম্পর্কে জড়াতে, তাহলে কী করতে পারেন?

প্রথমত বন্ধুর পছন্দের মানুষটি আপনাকে পছন্দ করতে শুরু করেছে, এটি বুঝতে পারলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে হবে। এসএমএস, ফেসবুক, ভাইবার বা যেকোনো মাধ্যমে আপনাকে বার্তা পাঠালে সাড়া দেওয়া ঠিক হবে না। নিজের কোনো ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি শেয়ার না করে শুধু বন্ধুর কথাই বলতে হবে। আরও বেশি গুরুতর হলে আপনি বন্ধুকে কৌশলে বলতে পারেন যে, তার ভালোবাসার বার্তা তার প্রে​িমকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করতে আপনার অসুবিধা আছে। এড়িয়ে যাওয়া ভালো। তবে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ দেবেন না। বন্ধুর সঙ্গে প্রতারণা যেন না করা হয়, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। বন্ধুর পছন্দের মানুষটি যদি আপনারও প্রিয় বন্ধু হয়, তাহলে তাঁকে বুঝিয়ে বলুন। কোনো রকমের রূঢ় ব্যবহার করা বা খারাপ আচরণ না করাই ভালো।

লেখক: মনোরোগ বি​েশষজ্ঞ

বিজ্ঞাপন
সম্পর্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন