ওয়ার্ক ফ্রম হোম
ওয়ার্ক ফ্রম হোমছবি: আলেকসানা, পেকজেলসডটকম
ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি আছে অসুবিধাও; কারণ ঘরে বসে অফিস করার সময় হয়রানির বিষয়টি খেয়াল করা দরকার। ইদানিং বেড়ে গিয়েছে নারীদের হয়রানির শিকার হওয়ার সংখ্যা।

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এখন আরও মজার। এটি আমাদের কাছে স্বাভাবিকও বটে। করোনা মহামারির শুরু থেকেই এই পদ্ধতিতেই চলছে সারা বিশ্ব। যিনি যেখানে আছেন, সেখান থেকেই অফিসের কাজ করে দিচ্ছেন। কারণ, করোনার আক্রমণ থেকে বাঁচতে হবে। অনেকের কাছে ঘরে বসে কাজ করাটা বেশি আনন্দের। তাই নতুনভাবে অফিস করাটা উপভোগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

default-image

অন্যদিকে যেকোনো স্থানে বসে কাজ করতে পারার সুবিধাও কিন্তু কম নয়। এতে কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কর্মীরা পরিবারেও বেশি সময় দিতে পারছেন। এর ফলে তাঁদের পারিবারিক বন্ধনটাও মজবুত হতে পারছে।

ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি অসুবিধাও থেকে যায়। অফিসের নেতিবাচক দিকে তাকালে হয়রানির বিষয়টি প্রথমেই আসে। কিন্তু বর্তমানে হয়রানি শুধু অফিসেই নয়, ভার্চ্যুয়ালিও হয়ে থাকে। এর প্রভাব পড়ে কর্মীদের ভালো থাকার ওপর। তাঁদের ওপর চারপাশের পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই ঘরে বসেই অফিস করার সময় হয়রানির বিষয়টি খেয়াল করা দরকার। এটি এখন গুরুত্বপূর্ণও বটে। ইতিমধ্যে কিছু গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। বেড়ে গিয়েছে নারীদের হয়রানির শিকার হওয়ার ব্যাপারটি। সে জন্য আমরা এ ধরনের সামাজিক অপকর্মটি বিবেচনা করেছি। সতর্কতা তৈরিতে বিষয়গুলো তুলে আনার চেষ্টা করছি।

বিজ্ঞাপন

কারও বাহ্যিক রূপ নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা

default-image

এখন বেশির ভাগ কাজে আমরা মুঠোফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করি। তা ছাড়া অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমে অফিসের কাজ শেষ করতে হয়। যদিও এটি খুব স্বাভাবিক; তবে কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়। যেমন একজনের চেহারা বা শারীরিক গঠন নিয়ে অন্য কর্মীর আপত্তিকর মন্তব্য করা। আবার অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কোনো কর্মীকে নেতিবাচক প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাও হয়রানি বলে গণ্য হয়। এমন কোনো অভিজ্ঞতার শিকার হলে অবশ্যই অফিসের ম্যানেজার বা হিউম্যান রিসোর্সকে জানাতে হবে।

কাজের সুবাদে হয়রানি

default-image

আমরা বিভিন্ন কাজে সহকর্মীদের মেসেজ, ই–মেইল, ভিডিও বা অডিও কল দিয়ে থাকি। এ সময়ে কেউ কু-প্রস্তাব দিতে বা অশ্লীল কথা বলতে পারে। আজকাল ই–মেইলের মাধ্যমেও এসব মন্তব্য তাঁরা পাঠিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে একত্র হয়েও অন্যদের কাজের ওপর মন্তব্য শুরু করতে পারে। দলনেতার কাছ থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটলেও অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে টিমের অন্যদের বা এইচআরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

অপেশাদার আচরণ করা

default-image

অফিসে কাজের ফাঁকে সহকর্মীরা হাসিঠাট্টা করে থাকেন। আবার একে অপরের খোঁজখবর নেন। দারুণ সব আয়োজনে আনন্দ করে কাটান। তবে অশ্লীল কিছু ঘটলে তা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। হতে পারে তাঁদের পারস্পরিক ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আচরণে অশ্লীলতা প্রকাশ পেলে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, আমরা এখন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকি। সেখানে অপেশাদার কোনো আচরণ করা হলে তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এমনকি হাসিঠাট্টার ছলে করলেও তা বিবেচনায় আনাটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

কথার মাঝে চলে যাওয়া

default-image

পূর্বে অফিসের সহকর্মীরা এক জায়গায় বসে কাজ করতেন। তাই সব আলোচনায় একত্রে অংশ নিতেন। যেটা এখন একদমই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, একেকজন একেক জায়গা থেকে অফিসের কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে অনেকে আলোচনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতে পারেন। এটা অনুমানের ভিত্তিতেও হতে পারে। এগুলো থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আর এর উপায়ও রয়েছে। আপনারা অন্যান্য কর্মীর খোঁজখবর নিতে পারেন। তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন।

আক্রমণাত্মক পরিবেশ

default-image

হয়রানির ঘটনা এখন ভার্চ্যুয়ালিও হতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্মীর মেসেজ, কল বা ই–মেইল গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে অনুপযুক্ত আচরণগুলো থেকে দূরে থাকা যাবে। এই বিষয়গুলো জেনে রাখা ভালো। তাহলে সেগুলোকে হালকাভাবে দেখা হবে না; বরং গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব প্রতিষ্ঠানই একটি নিরাপদ ও সুন্দর কাজের জায়গা দিতে চায়। সে ক্ষেত্রে ম্যানেজার বা হিউম্যান রিসোর্স কিছু সেশনের ব্যবস্থা করতে পারে। এর ফলে অনেকের নেতিবাচক আচরণগুলোর পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার তাঁরা এ বিষয়ে সঠিক ধারণা নিয়ে হয়রানি থেকে দূরে থাকবেন। সেশনগুলোতে অবশ্যই অফিসের কঠোর নীতিমালা সব কর্মীকে জানাতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ভিডিও কলে হয়রানির শিকার

default-image

ভিডিও কলে হয়রানি করা সবচেয়ে খারাপ একটি বিষয়। ধরা যাক, ভিডিও মিটিংয়ে কর্মীদের দরকার ছাড়া ক্যামেরা অন করতে বলা। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কাজের সময়ের পর ভিডিও কলে কর্মীদের কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া। আবার অতিরিক্ত কাজের জন্য জোর প্রদান করাকেও কিন্তু হয়রানি বলা যায়। এসবের মাধ্যমে কর্মীদের ভিডিও কলে যুক্ত রাখাও হয়রানি বলে বিবেচিত। বিশেষ করে এ ধরনের ঘটনা নারীদের সঙ্গে বেশি ঘটে। ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে তাঁদের ভিডিও অন রাখানোর জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এটি নারীদের কাজের ক্ষেত্রে খারাপ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। এগুলো বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে ম্যানেজারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা উচিত।

জোর করে কৃতজ্ঞতা আদায়

মহামারির শুরু থেকেই কর্মীদের ছাড়তে হচ্ছে কর্মস্থান। অনেকে হারিয়ে ফেলছেন তাঁদের আয়ের উৎস। এমন পরিস্থিতিতে কিছু শিল্পকারখানাও নিয়েছে কঠোর সিদ্ধান্ত। তাদের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রাখতে কর্মী ছাঁটাই ‍করতে হয়েছে। তাই যাঁরা এখনো চাকরি করছেন, তাঁদের অবস্থাও খারাপ। কারণ, ম্যানেজারদের কাছ থেকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে। কিছু ম্যানেজার তাঁর কর্মীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকারে বাধ্য করছেন। যার ফলে কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে অনিরাপত্তা। অনেকে মনে করছেন, এটি ভার্চ্যুয়াল কাজের ক্ষেত্রে হয়রানির ভিন্ন একটি ধরন।

লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; পাঠাগার সম্পাদক, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা।

মন্তব্য পড়ুন 0