default-image
বিজ্ঞাপন

ইনজামামুল হক সুমনের ঈদের গল্পটা প্রতিবার প্রায় একরকম হলেও এবার হবে ভিন্ন রকম। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোসল করা, সালামি নেওয়া, তারপর সেমাই খেয়ে ঈদগাহে যাওয়াটাই ছিল রেওয়াজ। বিকেল হতে না হতেই ছিল বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। এবার তার ব্যতিক্রম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন ঢাকায়। এখানে তাঁর ঈদ কাটবে গৃহবন্দী দশাতে।

ঈদের ছুটিতে মা-বাবার সঙ্গে ছোট্ট সিদরাতুল মুনতাহার যাওয়ার কথা ছিল গ্রামের বাড়িতে। গাছে থোকা থোকা আম দেখা, অনেকটা খোলা আকাশ দেখা, মাঠে খেলার কথা ছিল তার। কিন্তু করোনার ভয়ে সেটার ঝুঁকি নেওয়ার সাহস হচ্ছে না মা-বাবা দুজনেরই। ফলে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে গৃহবন্দী সময় কাটবে শারমিন আর আবদুল্লারও।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ বছর অনেকেরই চিরচেনা গল্পগুলো হবে ভিন্ন রকম। ঈদের সকালটা হয়তো সেই প্রতিবারের সকালের মতো হবে না। তার বদলে দিন কাটবে ঘরে বসেই। কিন্তু গৃহবন্দী ঈদ কি আন্তরিকতাবিহীন কাটবে?

default-image

করোনা সংক্রমণ কয়েক দিন খানিকটা কম ছিল এখন আবার সেটা বেড়েছে। নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে ঘরের বাইরে যাওয়া নিরাপদ হবে না। কিন্তু বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-পরিজন ছাড়া জীবন তো প্রাণহীন। ঘরে কাটানোর তপ্ত দিনগুলোকে প্রাণহীন করতে না চাইলে নিজেদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ হেলাল মনে করেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে উৎসব পালন করতে পারি, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর মতে, ‘বাসাতে আমরা কয়েকজন নিজস্ব মানুষ বসবাস করি। এমন ঘরে থাকার উৎসবের দিনে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য নতুন করে কিছু কোয়ালিটি টাইম বের করতে পারি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘দিনটিতে আমরা নিজেরা পরিবারের ভেতরে বসে গুণগত সময় কাটাব, আড্ডা দেব, আলাপ-আলোচনা করব। বাসার ভেতরে চাইলে কিছু খেলারও ব্যবস্থা করতে পারি।’

default-image

করোনার তীব্রতার মধ্যে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তেমন দেখা–সাক্ষাৎ হচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে আন্তরিকতা কমতে দেওয়া যায় না। ডা. হেলাল বলেন, দিনটিকে ঘিরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবকে বিভিন্ন মাধ্যমে উপহার পাঠাতে পারি। সুরক্ষার কথা ভেবে সেসব উপহার কিনতে মার্কেটে না গিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করাই ভালো।

দিনটিতে নিজেরা এমন কিছু উদ্যোগ নিতে পারি যেন প্রিয়জনদের সঙ্গে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকলেও মানসিকভাবে সংযুক্ত থাকি। যেন কেউ বিচ্ছিন্ন বোধ না করে। স্মৃতির পাতা থেকে আহমেদ হেলাল বলেন, ‘আগে সবাই বাড়িতে ঈদকার্ড বানিয়ে প্রিয়জনদের পাঠাতেন। সেই রেওয়াজ এখন আর নেই। করোনাকালের এই গৃহবন্দী ঈদে আমরা আবার বাড়িতে বানিয়ে ঈদকার্ড পাঠাতে পারি। ঈদকার্ড বানাতে সাহায্য করার জন্য ইন্টারনেট তো আছেই।’ঘরে থাকার উৎসবের দিনে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য নতুন করে কিছু কোয়ালিটি টাইম বের করতে পারি

ইন্টারনেটের এই যুগে আন্তরিকতা দেখাতে ইন্টারনেটের সাহায্য নেওয়ারও পরামর্শ এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের। তিনি বলেন, এদিন সবাইকে খুদে বার্তা পাঠাতে পারি। ভয়েস কলে কথা বলার সুযোগও তো আছে। অনলাইনে ভিডিও কল করে একে অন্যকে দেখতেও পারি। বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের আলাদা গ্রুপ করা যেতে পারে। আলাদা করেই না হয় সবার সঙ্গে আড্ডা হলো।

ঘরে থাকার উৎসবের দিনে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য নতুন করে কিছু কোয়ালিটি টাইম বের করতে পারি

এদিন যেমন পরিবারের সদস্যরা মিলে কোনো গেম নিয়ে বসতে পারি, তেমনি ভার্চ্যুয়াল গেমের আয়োজনও করা যেতে পারে। লাইভ বা বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে গ্রুপ করে আড্ডার আয়োজন করে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারি যে কেউ একা নয়, সবাই সবার পাশে আছি, এমনটাই মন্তব্য এই বিশেষজ্ঞের।

ঘরের বাইরে না গিয়েই প্রিয়জনদের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়িয়ে ফেলুন। যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা হয় না, তাদের সঙ্গে আরও একবার যোগাযোগ করুন। দেখবেন এই ঈদটা অন্য রকম হলেও প্রাণহীন মনে হবে না।

সম্পর্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন