ফোনে নয়, সময় কাটুক অন্যভাবে
ফোনে নয়, সময় কাটুক অন্যভাবেছবি: প্রজ্ঞায়ন বেজবড়ুয়া, পেকজেলসডটকম

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেকেই শিশুকে মুঠোফোনে অভ্যস্ত করে ফেলেছেন। এখন হয়তো সে নিজেও ফোন ছাড়া খাচ্ছে না, জেদ বেড়ে গেছে। কারও সঙ্গে গল্প করা বা আড্ডা দেওয়ার প্রতিও তাদের অনীহা দেখা যায়। এমন অসুবিধা এড়াতে চাইলে শিশুকে বাসায় ব্যস্ত রাখতে পারেন ভিন্ন উপায়ে। তেমনই সাত উপায় দেওয়া হলো।

ছবি আঁকা বা ক্র্যাফটিং

default-image

ছবি আঁকা বা ক্র্যাফটিং শিশুর কল্পনার জগৎ আরও উন্মুক্ত দিতে হাতে তুলে দিতে পারেন রং আর তুলি। কৌটার রং, রং পেনসিল, আর্ট পেপার, ইজেল কিনে দিন তাকে। মুঠোফোনে গেম বা ভিডিও থেকে তার চোখ ফিরিয়ে আনুন সাদা কাগজে। যেখানে নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করবে শিশু। তার আঁকা ছবির প্রশংসা করুন, পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন। শেখাতে পারেন কাগজ দিয়ে নানা রকম খেলনা বা উপকরণ বানানোর কৌশল।

বই পড়া

default-image

সারা দিন পাঠ্যবই পড়ার চাপে শিশু যেন বই দেখলেই দৌড়ে না পালায়। তাকে কিছুটা সময় দিন নিজের পছন্দমতো বই পড়তে। কমিকস, রহস্য-রোমাঞ্চ, ভূতের গল্পের মতো নানা ধরনের বই পড়তে ভালোবাসে শিশুরা। নতুন বই কিনে তাকে বই পড়ায় উৎসাহ দিতে পারেন। তার কাছ থেকে তালিকা নিয়ে অনলাইনে বসেও বই কিনে দিতে পারেন। এতে বাইরে যাওয়ার দরকার পড়বে না।

বিজ্ঞাপন

রান্নাবান্না

default-image

পাজল মেলানোর খেলাঅনেক শিশুই এখন রান্না করতে ভালোবাসে। জুস বানানো, কেক বা কুকিজের মতো বেকিং আইটেমও শেখাতে পারেন সন্তানকে। বেশি ছোট হলে টুকটাক রান্নার কাজে সাহায্যকারী হিসেবে তাকে সঙ্গে নিতে পারেন। শুরুতে রান্নার উপকরণ নিয়ে আলোচনা, শাকসবজি ধোয়া, তার নিজের রুটি নিজেকে রোল করতে দেওয়ার মতো কাজ দিতে পারেন।

পাজল মেলানোর খেলা

বাসায় বসে নানা রকম পাজল মেলানোর উপকরণ কিনে দিতে পারেন শিশুকে। রুবিকস কিউব মেলানোর জন্য উৎসাহ দিতে পারেন। বয়স কম হলে ছবির পাজল মেলাতে দিতে পারেন।

ঘরোয়া খেলাধুলা

default-image

লুডু, ক্যারম, দাবার মতো বেশ কিছু খেলা আছে, যা বাসায় সময় কাটানোর জন্য ভালো। শিশুকে এসব খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে পারেন। দাবার চাল শিশুর বুদ্ধি বিকাশে সহায়ক হবে। লুডু বা ক্যারম খেলতে খেলতে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়তে থাকবে। নানা রকম ধাঁধা, দেশ বা রাজধানীর নামবিষয়ক খেলাও খেলতে পারেন সন্তানদের নিয়ে। এতে মজা করে পয়েন্ট অর্জনের ওপর উপহার থাকতে পারে তাদের জন্য।

গান বা নাচের চর্চা

default-image

বাসায় বন্দী শিশুদের চোখ ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে সরাতে নাচ, গান বা আবৃত্তির মতো সাংস্কৃতিক পরিবেশে আগ্রহী করতে পারেন। তবে কোনোটাই বেশি চাপ দিয়ে শেখানোর দরকার নেই, বরং তার যেদিকে আগ্রহ, সেদিকে উৎসাহ দিন। কেউ হয়তো ঘুঙুরের তাল ভালোবাসবে, কেউ চাইবে হারমোনিয়ামে বসে সুর-তালের খেলায় মজতে। তাই শিশুকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রাখুন বাড়িতে। এতে সে আনন্দ খুঁজে পাবে।

মাথা খাটানোর মতো কিছু

default-image

আপনার সন্তানকে খেলাচ্ছলে নিরীক্ষার দিকে উৎসাহিত করতে পারেন। বয়স বুঝে তাকে দূরবিন, অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা ছোট কোনো রিসাইকেল করা যায় এমন উপকরণ সরবরাহ করতে পারেন। এরপর সেসব কীভাবে কাজ করে, সেটা দেখিয়ে দিন। শিশুরা সাধারণত উদ্ভাবনী বিষয়গুলোতে উৎসুক হয়ে থাকে। এতে খেলাচ্ছলে সে পরবর্তী জীবনে বিজ্ঞানী বা উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0