আমেরিকার স্বাধীনতার শহরে

আমেরিকার স্বাধীনতার সোনালি ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত গর্বিত শহরের নাম ফিলাডেলফিয়া। এটি আমাদের নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়ার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। ফিলাডেলফিয়ায় আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা হয়। এখানেই রচিত আমেরিকার সংবিধান। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ফিলাডেলফিয়া ছিল আমেরিকার রাজধানী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রথম কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহরটির নাম।

বিজ্ঞাপন

ফিলাডেলফিয়াকে সংক্ষেপে ফিলি বলে ডাকে এই শহরের মানুষেরা। প্রাচীন গ্রিসের অনুকরণে শহরটির সৃষ্টি। গ্রিক ভাষায় ফিলোস মানে প্রিয় আর অ্যাডেলফস মানে ভ্রাতা বা ভ্রাতাতুল্য। এই শহরকে ‘সিটি অব ব্রাদারলি লাভ’ ও ‘দ্য এথেন্স অব আমেরিকা’ও বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো মিউনিসিপ্যালিটি ব্যবস্থা ছিল এখানে। ১৬৮২ সালে ইংলিশ কোয়েকার উইলিয়াম পেন পেনসিলভানিয়ায় ব্রিটিশ কলোনির রাজধানী করে ফিলাডেলফিয়াকে। আমেরিকান ‘রেভল্যুশন’-এ মূল ভূমিকা পালন করেছে এই শহর। আমেরিকার ‘ফাউন্ডিং ফাদার’রা এই শহরে সভা করতেন। ১৭৭৬ সালে তাঁরা ‘দ্য ডিক্লারেশন অব ইনডিপেনডেন্স’-এ স্বাক্ষর করেন।

default-image

আমেরিকার ইতিহাসে ঐতিহাসিকভাবে ফিলাডেলফিয়ার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে শুধু নিউইয়র্ক সিটির। কিন্তু আমেরিকার স্বাধীনতাযুদ্ধের একপর্যায়ে ব্রিটিশরা নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলে ফিলাডেলফিয়া হয়ে যায় স্বাধীনতাকামীদের প্রধান ঘাঁটি। সেখানেই একত্র হন স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরা। তখন আমেরিকার রাজধানী ছিল ফিলাডেলফিয়া।

ইউরোপিয়ান অভিযাত্রীদের আগমনের কারণে ফিলাডেলফিয়ায় শিল্পকারখানা ও রেল রোড দ্রুত গড়ে ওঠে। এই শহরের বাসিন্দাদের বিরাট অংশ এসেছে মূলত তিনটি দেশ থেকে—আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও ইতালি। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফিলাডেলফিয়া হয়ে ওঠে আফ্রো-আমেরিকানদের প্রধান গন্তব্য। বিশেষ করে ‘সিভিল ওয়ার’-এর পরে ‘গ্রেট মাইগ্রেশন’-এর সময় বহু আফ্রো-আমেরিকান ও পুয়ের্তোরিকান এখানে আসে। ১৮৯০ থেকে ১৯৫০—এই ষাট বছরের মধ্যে ফিলাডেলফিয়ার জনসংখ্যা ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ হয়ে যায়।

ফিলাডেলফিয়ায় বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ আছে। শহরটি উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের প্রিয় গন্তব্য। শিক্ষা ও অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রস্থল। পেনসিলভানিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র এই শহর। বায়োটেকনোলোজির কেন্দ্রও।

default-image

ফিলাডেলফিয়ায় যত ভাস্কর্য ও ম্যুরাল আছে, আমেরিকার আর কোনো শহরে নেই। শহরটিতে সফর করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, যেন গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবস্থান করছি। রাস্তার মোড়ে গ্রিক দেব–দেবীর মূর্তি। আছে আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাসে যুক্ত সব নামকরা ব্যক্তির মূর্তিও। ফিলাডেলফিয়া সফরে আমরা গিয়েছিলাম ইনডিপেনডেন্স ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্ক, লিবার্টি বেল সেন্টার, ফিলাডেলফিয়া মিউজিয়াম অব আর্ট, জন এফ কেনেডি প্লাজা—সংক্ষেপে লাভ প্লাজা, ডিলওয়ার্থ পার্ক, ইতালিয়ান মার্কেট ও এম্বাসি এলাকায়। শিল্প, সংস্কৃতি, কুইজিন, ঔপনিবেশিক ইতিহাসের নানা চিহ্ন পুরো শহরে ছড়িয়ে আছে। যে কারণে প্রতিবছর এখানে অন্যান্য স্টেট থেকে বহু পর্যটক আসেন। যেটা শহরের অর্থনীতিকে চাঙা করেছে।

বিজ্ঞাপন

আমেরিকায় বহু প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহরটির নাম। প্রথম লাইব্রেরি (১৭৩১), প্রথম হাসপাতাল (১৭৫১), প্রথম মেডিকেল স্কুল (১৭৬৫), প্রথম ন্যাশনাল ক্যাপিটাল (১৭৭৪), প্রথম স্টক একচেঞ্জ (১৭৯০), প্রথম চিড়িয়াখানা (১৮৭৪), প্রথম বিজনেস স্কুল (১৮৮১)—পুরো আমেরিকার মধ্যে প্রথম এই শহরে স্থাপিত হয়েছিল। ফিলাডেলফিয়ায় ৬৭টি ‘ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল ল্যান্ড মার্কস’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট অব ইনডিপেনডেন্স হল’ আছে। ২০১৫ সালে এই শহর ‘অর্গানাইজেশন অব ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার’-এর সদস্য হয়। আমেরিকার প্রথম ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সিটি’ এটি।

আমেরিকার অন্যান্য বিখ্যাত শহরের মতো এখানেও বসতি ছিল শুরুতে আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের। ইউরোপিয়ানরা আসার আগে ফিলাডেলফিয়ায় লেনোপো ইন্ডিয়ানদের এলাকা ছিল। তারা শাকাম্যাক্সন নামে একটি এলাকায় বাস করত। তারা ছিল ‘নেটিভ ইন্ডিয়ান ট্রাইব’ ও প্রথম ‘নেশনস ব্যান্ড গভর্নমেন্ট’। তাদেরকে ডেলওয়ার ইন্ডিয়ানও বলা হতো। ঐতিহাসিকভাবে তারা সংযুক্ত ছিল ডেলওয়ার রিভার ওয়াটারশেড, ওয়েস্টার্ন লং আইল্যান্ড ও লোয়ার হাডসন ভ্যালির সঙ্গে। কিন্তু লেনোপোরা একসময় ডেলওয়ার হোমল্যান্ড থেকে বিতাড়িত হতে শুরু করে।

default-image

অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিকেরা যখন পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করার পর এটা ঘটে। তদুপরি লেনোপো ইন্ডিয়ানদের নিজেদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গাও ছিল। রোগ–মহামারিও ছিল। বিশেষ করে গুটিবসন্তে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে বহুবার। ইরোকুইস নামে আরেকটি রেড ইন্ডিয়ানদের দল প্রায়ই লড়াই করত লেনোপোদের সঙ্গে। লড়াই করে বেঁচে যাওয়া লেনোপোরা ক্রমে আপার ওহাইও রিভার বেসিনের দিকে চলে যায়।

আমেরিকার রেভল্যুশনারি ওয়ার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার সময় তাদের আরও পশ্চিমে সরিয়ে দেয়। ১৮৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পূর্বাঞ্চলে আরও যারা লেনোপোরা তখনো বাস করত, তাদের ইন্ডিয়ান টেরিটোরিতে (বর্তমান ওকলাহোমা) পাঠিয়ে দেয়। ওই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘ইন্ডিয়ান রিমুভ্যাল’ নীতি গ্রহণ করেছিল। একুশ শতকের এসে এখন বেশি লেনোপোর বাস ওকলাহোমা স্টেটে। এর বাইরে উইসকনসিন ও কানাডার অন্টারিওতে আছে অনেকে।

সতের শতকের গোড়ার দিকে ইউরোপিয়ানরা ডেলওয়ার ভ্যালিতে আসতে আরম্ভ করে। প্রথম বসতি স্থাপন করতে দেখা যায় ডাচদের। তারা ১৬২৩ সালে সুইকিল নদীর অন্যদিকে ডেলওয়ার রিভারের ওপর ‘ফোর্ট নাসাউ’ নির্মাণ করে। জায়গাটি বর্তমানে নিউজার্সির বুকলনের অন্তর্ভুক্ত। ডাচরা পুরো ডেলওয়ার ভ্যালিকে ‘নিউ নেদারল্যান্ড কলোনি’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে।

default-image

১৬৩৮ সালে সুইডিশরা এসে ফোর্ট ক্রিস্টিনা স্থাপন করে দ্রুত ভ্যালিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ফিনল্যান্ডও আসে এরপর। ১৬৫৫ সালে নিউ নেদারল্যান্ডস ডিরেক্টর জেনারেল পিটার স্টাইভ্যাসেন্ট ডাচ ও ফিনিশিদের পরাজিত করে ১৬৬৪ সালে ইংলিশদের কাছে পরাস্ত হয়। ১৬৮২ সালে উইলিয়াম পেন চার্টারের অন্তর্ভুক্ত করেন এলাকাটিকে।

১৬৮১ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস উইলিয়াম পেনকে ফিলাডেলফিয়াকে কলোনি করার অনুমতি দেন। এরপর পেন স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ান লেনোপোদের কাছ থেকে ভালো দাম দিয়ে জমি কেনেন। তিনি এলাকাতে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেন। শাকাম্যাক্সনগাছের নিচে পেন একটি বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ হন লেনোপোর প্রধান তামানির সঙ্গে। প্রাচীন গ্রিক শব্দ থেকে শহরটির নাম দেন ফিলাডেলফিয়া, মানে গ্রিক ভাষায় ব্রাদারলি লাভ।

বর্তমানে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের গ্রিক ও রোমান শাসনের সময় নাম ছিল ফিলাডেলফিয়া। গির্জার একজন কোয়েকার হিসেবে পেন সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। যে কারণে আমেরিকার অন্যান্য কলোনির তুলনায় ফিলাডেলফিয়া দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও একই সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ্য শহর হয়ে ওঠে। পাশাপাশি রেল রোড, খাল গড়ে ওঠায় ফিলাডেলফিয়া হয়ে যায় আমেরিকার শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্র।

default-image

ফিলাডেলফিয়ার গুরুত্ব ও অবস্থানগত তাৎপর্য শহরটিকে স্বাভাবিকভাবে আমেরিকার ‘বিপ্লব’-এর কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করে। ১৭৫০ সালের পরে বোস্টনকে ছাড়িয়ে ব্রিটিশ আমেরিকার সবচেয়ে ব্যস্ততম বন্দর হয়ে ওঠে ফিলি। ব্রিটিশ সম্রাটদের শহর লন্ডনের পরেই ছিল তাদের অবস্থান। শহরটি ১৭৭৪ সালে প্রথম ‘কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস’ হয়। লিবার্টি বেল কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, সেই আলোচনা ছিল কংগ্রেসে। লিবার্টি বেল আমেরিকার স্বাধীনতার প্রতীক। কারণ, যুদ্ধের সময় এটা বাজিয়ে মানুষকে সমবেত করা হতো। ১৭৭৫-৭৬ সালে দ্বিতীয় ‘কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস’ও এই শহরে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ কংগ্রেসে ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিক্লারেশন অব ইনডিপেনডেন্স’-এ স্বাক্ষর করা হয়। তখন যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধের পর ১৭৮৭ সালে ‘কনস্টিটিউশনাল কনভেনশন’ হয় এখানে।

default-image

ফিলাডেলফিয়া একসময় আমেরিকার ও পেনসিলভানিয়া স্টেটের রাজধানী ছিল। কিন্তু পরে দুটোই স্থানান্তরিত হয়। ওয়াশিংটন হয় আমেরিকার রাজধানী আর হ্যারিসবার্গ পেনসিলভানিয়ার। তবে আঠারো শতকে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল শহরটি। ক্রীতদাসপ্রথা অবসানের পরে মুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের প্রথম কোনো সংগঠন ছিল আফ্রিকান মেথোডিস্ট এপিসকোমাল চার্চ। যেটা এই শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনো এই শহরে কৃষ্ণাঙ্গরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। কারণ, এটি মুক্তিকামী ও প্রগতিশীলদের শহর। ১৮৮০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই শহরে আফ্রিকান জনসংখ্যা ৩১ হাজার ৬৯৯ থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৯ হয়ে যায়। ‘গ্রেট মাইগ্রেশন’-এর অংশ হিসেবে এই কৃষ্ণাঙ্গরা আমেরিকার দক্ষিণ অঞ্চল থেকে এখানে আসে।

বিজ্ঞাপন

ফিলাডেলফিয়া শহরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের নাম লিবার্টি বেল, যাকে আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বাধীনতার প্রতীক মনে করা হয়। শহরটি পরিভ্রমণে আমি গিয়েছিলাম ইনডিপেনডেন্স ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত লিবার্টি বেল সেন্টারে। তবে মজার ব্যাপার হলো, চিড় ধরায় বেল বা ঘণ্টাটি দীর্ঘদিন বাজানো হয় না। কিন্তু সারানোও হয় না, যদি ঘণ্টাটির অবস্থা আরও খারাপ হয়। লন্ডনের এক কারখানা থেকে যখন এটি বানিয়ে আনা হয়েছিল সেই ১৭৫২ সালে, তখনই এর ওপর ক্র্যাক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় দুই মিস্ত্রি জন পাস ও জন স্টো এটিকে ঠিক করেছিলেন, যাঁদের নাম এখনো ঘণ্টার ওপর আছে। বাইবেলের বাণী উদ্ধৃত আছে ঘণ্টার ওপর। এটি শুধু স্বাধীনতার নয়, দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনেরও প্রতীক।

default-image

আমেরিকা স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এই ঘণ্টা বাজিয়ে আইনপ্রণেতাদের একত্র করা হতো। তখন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারত বিশেষ অবস্থা যাচ্ছে। আমেরিকার সংবিধান স্বাক্ষর এবং বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, জর্জ ওয়াশিংটন, আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন ও থমাস জেফারসনের মৃত্যুর পরে ঘণ্টাটি বাজানো হয়েছিল। তবে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণাকালে ঘণ্টাটি বাজানো হয়েছে কি না, এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতভেদ আছে। তবে ঐতিহাসিকভাব সত্য যে ১৮৪৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের জন্মবার্ষিকী (যে দিনটি আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ডে হিসেবে উদযাপিত হয়) উদযাপনের জন্য সর্বশেষ এই ঘণ্টা বাজানো হয়। তারপর থেকে বড় ধরনের ফাটল পাওয়া যাওয়ায় ঘণ্টাটি বাজানো বন্ধ।

আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু একজনের মাধ্যমে রচিত হয়নি। বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। যে আলোকিত মানুষেরা আমেরিকার স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, তাঁদের বলা হয় ‘ফাউন্ডিং ফাদারস’। আমেরিকা বর্তমানে ৫০টি স্টেট নিয়ে গঠিত হলেও শুরুতে ছিল মোট ১৩টি স্টেট। ফাউন্ডিং ফাদাররা এই স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁরা তাঁদের অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছেন। তাঁরা ছিলেন সুদূরপ্রসারী ভাবনার অধিকারী ও প্রজ্ঞাবান। আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদাররা হলেন জন অ্যাডামস, জন ডিকিনসন, উইলিয়াম ফিন্ডলে, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন, জন জে থমাস জেফারসন, রিচার্ড হেনরি লি জেমস ম্যাডিসন, থমাস পেন, জর্জ ওয়াশিংটন ও জেমস উইলসন। আমেরিকার স্বাধীনতারযুদ্ধের সময় তাঁরা ফিলাডেলফিয়াতে অবস্থান করেছিলেন।

default-image

আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাস ছাড়াও শহরটি বিখ্যাত ‘ভ্রাতৃত্বের ভালোবাসা’র বন্ধনে। যার প্রতীক সিনেমার বিখ্যাত চরিত্র ‘রকি’র একটি মূর্তি। সিলভাস্টার স্টালোন মূর্তিটি নির্মাণের জন্য চার লাখ ডলার দিয়েছিলেন। মূর্তিটি মহান শহর ফিলাডেলফিয়ার বীরত্বের প্রতীক। ১৯৮০ সালে মূর্তিটি প্রথম প্রদর্শন করা হয়।

লেখক: আমেরিকাপ্রবাসী সাংবাদিক

মন্তব্য পড়ুন 0