প্রমোদভ্রমণের সীমারেখা থাকা উচিত

সংগীতশিল্পী এবং উদ্যোক্তা হিসেবে বিখ্যাত কনক আদিত্য। এসবের বাইরেও পর্যটক হিসেবে তাঁর আর একটি পরিচিতি আছে। অনেক দেশে ভ্রমণ করেছেন তিনি, ট্রেকিং করতে গিয়েছেন হিমালয়ে। আইল্যান্ড পিকে অভিযান করেছেন। আমেরিকার আলাস্কা থেকে কানাডা পর্যন্ত সাইকেল চালিয়েছেন। অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ করেছেন আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে। এ ছাড়া তিনি প্লাস্টিক পণ্যের পুনর্ব্যবহার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করেন দেশে ও বিদেশে।

default-image

বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৬০ কিলোমিটার সাত জনের একটি দলের সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে গত ৮ নভেম্বর ঢাকা ফিরেছেন তিনি। বরিশালে লঞ্চ থেকে নেমে কুয়াকাটা পর্যন্ত বাকি প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পথ তাঁরা পাড়ি দিয়েছিলেন সাইকেলে। ৭ নভেম্বর সাইকেল চালিয়ে ফিরেছেন বরগুনার আমতলী পর্যন্ত। সব মিলিয়ে ১৬০ কিলোমিটার পথ মাড়িয়েছেন দুই চাকায় চেপে।

সাতজনের এ দলের নেতা ছিলেন এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার। অন্যরা হলেন সোহাগ বিশ্বাস, শিল্পী, আবীর, এপি ও রকিব হাসান।

এ ভ্রমণের গল্প এবং ভ্রমণবিষয়ে তাঁর চিন্তাভাবনার কথা শুনতে এক বিকেলে হাজির হয়েছিলাম কনক আদিত্যের হেমায়েতপুরের বাড়িতে।

বিজ্ঞাপন

থাকতে হবে সীমারেখা

শুরু হয়েছে ভ্রমণ মৌসুম। তরুণেরা এখন ভ্রমণে যাচ্ছেন। কিন্তু বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনার খবর পেয়েছি আমরা গত বছর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আড্ডার শুরুতেই এ রকম কিছু ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিই কনক আদিত্যকে। জানতে চাই, ভ্রমণকালে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভ্রমণকারী তরুণদের নেতিবাচক আচরণ থেকে বিরত রাখার উপায় আছে কোনো?

default-image

উত্তর হয়তো তৈরিই ছিল। বললেন, ‘প্রমোদভ্রমণের একটা সীমারেখা থাকা উচিত। কোন এলাকায় গিয়ে কী করা যাবে আর যাবে না, তার গাইডলাইন থাকা দরকার।’ এরপর তিনি ব্যাখ্যা করতে ফিরে গেলেন বেশ কিছুটা পেছনে। জানালেন, যাঁরা ‘পর্যটক’ হিসেবে বিশ্বখ্যাতি পেয়েছেন, তাঁরা সচেতন ছিলেন। যেখানেই গেছেন, আগে থেকে একটা প্রস্তুতি নিয়েই গেছেন। ভ্রমণ–গন্তব্যের কাছাকাছি বসবাস করা মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানাশোনা ছিল। তাঁরা ঘুরেছেন আরও ‘নতুন কিছু’ আবিষ্কারের নেশায়। ফলে কিছু ব্যতিক্রম বাদে তাঁদের হাতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সংস্কৃতি, মানুষ কিংবা পরিবেশের ক্ষতি হয়নি বললেই চলে।

default-image

তাহলে কি সাধারণ মানুষ কিংবা তরুণেরা ভ্রমণে যাবেন না? জানতে চাই। বললেন, অবশ্যই যাবেন। সবাই লেখাপড়া করে ভ্রমণে যাবেন, সেটা ভাবা যায় না। বেশির ভাগ মানুষ ভ্রমণে যান নিছক আনন্দ খোঁজার জন্য কিংবা কিছুটা রোমাঞ্চের আশায়। এটাই স্বাভাবিক। তাই আনন্দ করার বাইরে তেমন কিছু মাথায় থাকে না, সেটা সম্ভবও নয়। সে জন্য অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায় কখনো কখনো। সাধারণ ভ্রমণকারীদের কথা মাথায় রেখে প্রমোদভ্রমণে কী করা যাবে আর যাবে না, সেটা নির্দিষ্ট করা দরকার, যাতে ভ্রমণকারী ও ভ্রমণের জনপ্রিয় জায়গা দুটোই সুস্থ থাকে।

ভ্রমণ শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন

default-image

বলি, প্রস্তুত পর্যটক তৈরি তো সময়সাপেক্ষ বিষয়। কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে। কনক আদিত্য মনে হয় প্রস্তুত ছিলেন প্রশ্নটার জন্য। চায়ে চুমুক দিয়ে সহমত জানালেন। বললেন, ‘তারপরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভীষণ প্রয়োজন ভ্রমণ শিক্ষার জন্য। স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভ্রমণ বিষয়ে শুধু স্কুল-কলেজেই শেখানো হবে, বিষয়টি তেমনও নয়। পরিবার বড় জায়গা। কিন্তু মোটের ওপর আমরা পারিবারিক শিক্ষায় খুব যে এগিয়ে যেতে পেরেছি, সেটা বলা যায় না। এ জন্য এখনো স্কুল-কলেজই আমাদের ভরসা। আবার সেগুলোতেও যে ভ্রমণবিষয়ক শিক্ষা দেওয়ার বাস্তবতা আছে, সে রকমও ভাবা যাচ্ছে না এখনই। ফলে বিষয়টি জটিল। কিন্তু আমাদের দেশের ভ্রমণকে উন্নত করতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন। হয়তো কিছু আদর্শ উদাহরণও প্রয়োজন যাতে তরুণেরা দেখে দেখেও শিখতে পারে। ভ্রমণ নিয়ে কাজ করে, এমন কিছু সংগঠনের সদস্যরা অনেক ভালো করছেন এখন।’ কনক আদিত্য জানালেন, এই সংগঠনগুলোর সদস্যদের বেশির ভাগই তরুণ।

default-image

ভ্রমণের বিভিন্ন পর্যায়কে যাঁরা পেশা হিসেবে নিয়েছেন, ভ্রমণ বিষয়টিকে আরও উন্নত, বিস্তৃত এবং টেকসই করতে তাঁদেরও বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি।
হেমন্তের বিকেল সংক্ষিপ্ত হতে থাকে। কিন্তু আমাদের আড্ডায় কথার পিঠে কথা বাড়ে। ফুরাতে থাকে চায়ের কাপ। টালি বাড়ির ঝুলবারান্দায় আলো কিছুটা কমে আসে। আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে থাকি। কিছুটা নস্টালজিয়া, কিছুটা অতীত হাতড়ানো চলতে থাকে। আমরা ফিরে ফিরে আসি ভ্রমণে। আমাদের তরুণ বয়সের ভ্রমণের কথা ভেবে রোমাঞ্চিতও হই খানিক। সেসব সূত্র ধরেই আড্ডা এগিয়ে চলে।

বিজ্ঞাপন

প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আইন

default-image

তরুণেরা চঞ্চল হবে, বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহী হবে, রোমাঞ্চ খুঁজবে— তারুণ্যের এসব স্বাভাবিক প্রবণতা থেকেই কনক আদিত্য আলাপের সূত্র খুঁজে বের করেন। বলেন, রোমাঞ্চ খুঁজতে গিয়ে কখনো কখনো বিপত্তি বাধে এ বয়সে।

আমি চুপচাপ শুনে যাই। কনক আদিত্য বলতে থাকেন। প্রয়োজনীয় জায়গায় হ্যাঁ-হু বলি আর মাথা নাড়ি। তিনি বলতে থাকেন, তরুণদের বোঝাতে হবে আরও বেশি করে। সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে। তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে জনপ্রিয় ভ্রমণ–গন্তব্যগুলোর আশপাশে বসবাস করা মানুষ, তাদের সংস্কৃতি, সে অঞ্চলের মূল্যবোধ, পরিবেশকে বুঝতে। সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো শিখতে হবে তরুণদের। এই কাজ শুধু ভ্রমণের জন্যই নয়, ব্যক্তিগত জীবনের ‘গুড প্র্যাকটিসে’র জন্যও শিখতে হবে। এই সহনশীলতার চর্চা জীবনের সবক্ষেত্রে সবার জন্যই দরকার বলে মনে করেন তিনি।

default-image

‘হয়তো খানিক আদিখ্যেতা হয়ে যায়, কারণ আমি অনেক দেশ ঘুরেছি, দেখেছি। আমাদের দেশের কথা মাথায় রেখেও কথা বলছি সেসব অভিজ্ঞতা থেকে। অনেকেই অনেক কিছু ভাবতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা তো বাস্তবতাই।’ এবার খানিক দম নিয়ে নিজের আমেরিকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন তিনি। বলেন, সেখানকার মানুষকে আমরা যতটা সভ্যভব্য মনে করি, সেটা নিজের শহর আর বাড়ি পরিষ্কার রাখা পর্যন্ত। কিন্তু ঘুরতে গেলে তাঁরাও আমাদের মতোই নিষিদ্ধ কাজ করতে পছন্দ করেন। রাস্তার পাশে প্লাস্টিক পণ্য ফেলা থেকে শুরু করে আরও অনেক ‘নিষিদ্ধ কাজে’র তালিকা গড়গড় করে বলে গেলেন তিনি। জানালেন, সে কারণে আমেরিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভ্রমণ–গন্তব্যগুলো সংরক্ষণের জন্য আইন করেছে।

‘তারা প্রতিটি ন্যাশনাল পার্কে ঢোকার আগে একটা ছাপানো কাগজ ধরিয়ে দেয়। তাতে লেখা থাকে ওই পার্কে কী করা যাবে, কী করা যাবে না।’ ফলে সবাই একটা ধারণা পায়। সে নিয়মকানুনের বাইরে কিছু করতে গেলেই আইনের প্রয়োগ করা হয়। যারা ‘অ্যাডভান্স লেভেলের’ পর্যটক তাঁদের জন্য আছে বাড়তি অনুমতি নেওয়ার বিষয়। মোটকথা, অনুমতি প্রয়োজন আছে সবখানেই। আমাদের দেশে সে কাজটা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন কনক। স্পষ্টভাবে জানালেন, নইলে পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করা যাবে না। আর সেগুলো রক্ষা না হলে ভ্রমণই হবে না। পাহাড়, বন, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন ইত্যাদি জনপ্রিয় ভ্রমণ–গন্তব্যকে রক্ষা এবং আরও উন্নত করার জন্য এখনই বাস্তবসম্মত আইন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন কনক আদিত্য।

default-image

তবে কনক আদিত্য মনে করেন, আইন হতে হবে সবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে, দায়বদ্ধতা থেকে। আইনের প্রয়োগটাই মুখ্য না হয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে সুস্থ হয়, ভবিষ্যতে সে আইন যেন কাজ করেম সেটা মাথায় রাখা জরুরি। প্রতিবছর বা নির্দিষ্ট সময় পরপর বিভিন্ন প্যারামিটারে সে আইনের ‘সুস্থতা পরিমাপ’ করাও জরুরি বলে মনে করেন কনক আদিত্য। এর সঙ্গে যোগ করেন, পরিবেশ রক্ষা এবং সুস্থ ভ্রমণের জন্য ভুটান, নেপাল, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে সে রকম আইন করা হয়েছে ইতিমধ্যে।

প্রয়োজন নান্দনিক বোধ

default-image

‘ভ্রমণের একটা নান্দনিকতা আছে। প্রতিটি মানুষের নিজের মতো করে একটা নন্দনতাত্ত্বিক ভাবনা আছে। সে জন্যই মানুষ বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ–গন্তব্য খুঁজে সেখানে আনন্দ করতে যায়।’ কনক আদিত্য শিল্পী মানুষ। ছবি আঁকা এবং সংগীতে দীর্ঘ পথচলা বলেই হয়তো ভ্রমণের নন্দনতত্ত্বটা জানেন ভালো। বললেন, মানুষ কখনোই নিজের পরিবেশের মতো কিছু দেখতে চায় না ভ্রমণে গিয়ে। সে জন্য কেউ পাহাড়ের কাছে যায়, কেউ সাগরের কাছে যায়। কিংবা একেবারে ভিন্ন কোনো জায়গায় যায়, যেটা তার নিজের প্রতিদিনের দেখার জগৎ থেকে কিছুটা হলেও ভিন্ন। এই ‘ভিন্নতার বোধ’ তৈরি হওয়া দরকার বিভিন্নভাবে। এর মধ্যে একটা সৌন্দর্য আছে।

default-image

‘বৈচিত্র্যময়তার মধ্যে যে সুন্দর লুকিয়ে থাকে, সেটা ছড়িয়ে পড়তে হবে সমাজে কোনো না কোনোভাবে। নইলে এসব ভ্রমণ-ট্রমন তো দূরের কথা, মানুষই টিকবে না।’ অনেক কথা এক টানে বলে ফেলেন তিনি। তারপর এক চুমুক চা শেষ করেন। মিনিট খানিকের একটা অঘোষিত বিরতি চলে আমাদের মধ্যে—আরও অনেক কথা বলার মধ্যবর্তী নীরবতা হিসেবে। আমরা জানি, আমাদের কথা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

default-image

কোনো না কোনোভাবে শিশুকাল থেকে সবকিছু শুরু করা দরকার বলে মনে করেন কনক আদিত্য। তাহলে একটা দীর্ঘ চর্চা এবং অভ্যস্ততার ভেতর দিয়ে যাওয়া যায়। সে জন্যই কি একটি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সম্প্রতি? প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান হাসতে হাসতে। তবে এটা জানান যে সচেতনভাবেই সে স্কুলে এগিয়ে যাচ্ছে শিশুদের কারিকুলাম তৈরির কাজ—সেখানে শিশুদের ভ্রমণ, পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ে শেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। শিশুদের নিজেদের দেখার চোখ তৈরি করতে না পারলে, নিজেদের বোঝার মন তৈরি করতে না পারলে নতুনভাবে কিছুই তৈরি হবে না ভবিষ্যতে বলেই মনে করেন তিনি। ‘বৈচিত্র্যেই আনন্দ’—এই বিষয়টি শিশুদের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। প্রয়োজন সেটাকে উসকে দেওয়া। তাহলেই তারা নিজেদের মতো করে শিখে নিতে পারবে। এই শিশুরাই যখন বড় হয়ে ভ্রমণে যাবে, তখন তারা শিক্ষিত হয়ে, প্রস্তুত হয়েই যাবে। ফলে ক্ষতিটা কম হবে। তিনি যুক্ত করেন, এখন যে নেতিবাচক গল্প তৈরি হয়, সেগুলো ভীষণরকম কমে যাবে, হয়তো থাকবেই না।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক সহিষ্ণুতা বাড়ানো দরকার

default-image

আমাদের আলোচনা আরও জটিল হতে থাকে। আমরা বিভিন্ন চাপান–উতরের মধ্য দিয়ে খুঁজতে থাকি দেশে ভ্রমণের বাধাগুলো। এটি সমাজের বাইরের কোনো একক বিষয় নয় বলেই মনে করেন কনক আদিত্য। ভ্রমণের জন্য যেমন একক ব্যক্তির ইচ্ছা, উৎসাহ আর কোনো না কোনো প্রণোদনা কাজ করে, তেমনি ভ্রমণকে উৎসাহিত এবং তার সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন সামাজিক সহিষ্ণুতা—এমনটাই মনে করেন তিনি। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার ধারণা এখনো খুব মজবুত নয় বলেই হয়তো ঘুরতে বেড়ানো অপরিচিত মানুষ দেখলে প্রশ্ন ও সন্দেহ জাগে সাধারণ মানুষের মনে। সেসবের বাস্তবতা সম্পর্কে একমত হই আমরা। একমত হই শৌখিন ভ্রমণকারীদের অনভিজ্ঞতাজনিত বিভিন্ন নেতিবাচক আচরণ বিষয়েও।

default-image

উপসংহারে পৌঁছানো আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়—সমস্যাটা উভয় পক্ষেই। কনক আদিত্য নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, উভয় পক্ষকেই সহিষ্ণু হতে হবে। ভ্রমণকারীদের যেমন বুঝতে হবে প্রতিটি জনপদের নিজস্ব মূল্যবোধ থাকে, নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে, অভ্যাস থাকে। সেগুলোকে সম্মান জানাতে হবে। তেমনি সমাজের সাধারণ মানুষকেও বুঝতে হবে, বেশির ভাগ ভ্রমণকারী তাদের জন্য ক্ষতির কারণ নয়। অযথাই হয়রানি কিংবা সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই। নারী ভ্রমণকারীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক এই ইতিবাচক মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

default-image

আরও কিছুক্ষণ আলাপ করি আমরা। তারপর ক্ষান্ত দিই সেদিনের মতো। ততক্ষণে হেমন্তের সন্ধ্যা উতরে গেছে রাতের দিকে। শহরের বাইরের নিরুদ্বেগ প্রকৃতিতে তখন হেমন্তের ছোঁয়া। হঠাৎ মনে পড়ে, এমন সময়গুলোতেই স্কুল থেকে পিকনিক যাওয়া হতো বাস ভর্তি করে, ছাদে মাইক বাজিয়ে। সেই কিশোরবেলার পিকনিকগুলোই ছিল আমাদের নতুন কিছু দেখার সূচনা। এই ভ্রমণ মৌসুমে ভালোকিছুর সূচনা হোক। কনক আদিত্য সে রকমই চান। আমরা সবাই তাই চাই আসলে।

মন্তব্য করুন