ফুলে ফুলে কাশ্মীর

কাশ্মীরের কথা শুনলেই ‘ভূস্বর্গ’ শব্দটি মনে পড়ে। মনে পড়ে প্রকৃতি দুহাতে পৃথিবীতে সাজিয়েছে যে একখণ্ড স্বর্গ, তার নাম কাশ্মীর। সেখানে দেখার কোনো শেষ নেই, উপভোগের কোনো শেষ নেই। যে কারণে একবার কাশ্মীর ঘুরে আসার পরও থেকে যায় তার রেশ! রয়ে যায় সুখের স্মৃতি।

default-image
বিজ্ঞাপন

কাশ্মীরের শত রকমের, রঙের আর ঘ্রাণের ফুল, মিহি সবুজ মখমলের মতো ঘাসের গালিচা, শ্রীনগর, গুলমার্গ, পেহেলগাম, আরু আর বেতাব উপত্যকার বাগানের অপার্থিব গোলাপ, বহু বর্ণের ডালিয়া, কসমস, সূর্যমুখী, গাঁদাসহ নাম না–জানা অযুত–নিযুত ফুলের সমারোহে পূর্ণ প্রাচীন বাগান—সেসবের কথা কী করে ভুলি! কাশ্মীর ফুলের, নাকি ফুল কাশ্মীরের, সে বিতর্ক চলবে যুগ যুগ ধরে।

default-image

ফুলের নাম আর জানব কখন, তার রং–ঢং দেখেই তো দিশেহারা অবস্থা। বড় বড় গাছে সাদা রঙের ফুলের যে রূপমাধুর্য, কীভাবে তার সঠিক বর্ণনা করা হয়, তা জানা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। এক লালের যে কত রকমের রূপ থাকতে পারে, সেটা কাশ্মীরের গোলাপ না দেখলে কেউ বললেও বিশ্বাস করতাম কি না সন্দেহ। রংভেদে গোলাপের যে এত রকমের ঘ্রাণ হতে পারে, একেকটার একেক রকম মাদকতা থাকতে পারে, সেটা কল্পনাতেও ছিল না এত দিন।

এমনকি আগাছার মতো কোনো এক বাগানের এক কোনায় অবহেলায় পড়ে থাকা নাম না–জানা ফুলেরও যে আভিজাত্য, যে আকর্ষণ, যে মায়া আর যে সম্মোহন, তা নিজের চোখে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। হোক সেটা ঝলমলে রোদেলা দুপুর বা ধূসর মেঘে ঢেকে থাকা কোনো অলস বিকেল অথবা সদ্য চোখ মেলে তাকানো কোনো আধো ঘুমন্ত ভোরে টকটকে, ঝকঝকে আর ঝলমল করে হেসে ওঠা ফুলের রঙের কথা, তা বলা সত্যি কঠিন। মন যদি কোনো কারণে খারাপও থাকে, ওই সব নিষ্পাপ ফুলের অসম্ভব সুন্দর হাসি দেখে কিছুতেই আর মন খারাপ থাকবে না কারও।
লাল, গোলাপি, খয়েরি, হলুদ, সাদা, বেগুনি, মেজেন্ডা, অফ হোয়াইট, এক রঙের মাঝে অন্য রঙের মিশ্রণে ফুটে থাকা সেসব ফুলের ঘ্রাণ পাগল করা, মাতাল করা, আপ্লুত করার মতো। বিশেষ করে গোলাপের যে কী ঘ্রাণ, দীর্ঘদিন পরেও তার আবেশ লেগে থাকে নাকে।

default-image

কিন্তু আমরা কজন কাশ্মীর গিয়ে ফুল দেখি আসলে? কজনইবা ওদের অমন নির্মল আর নিষ্পাপ হাসি দেখি, কজনইবা ওদের মাদকতাময় গন্ধ নিই মনপ্রাণ আর বুকের সবটুকু নিশ্বাস ভরে? আমার জানা নেই। কাশ্মীর ভ্রমণের সময় যখনই একটু একা হয়েছি, ফাঁকা থেকেছি, অন্য সবাই একটু দূরে চলে গেছে, আমি মনপ্রাণভরে কাশ্মীরের ফুল দেখেছি, ওদের নরম, কোমল আর আদুরে শরীরে নিজের আঙুল ছুঁইয়েছি, ওদের আলতো স্পর্শ নিয়ে নিজেকে ধন্য করেছি। আর গোলাপের নানা রকমের রং ও ঘ্রাণের মাঝে নিজেকে কতবার যে সঁপে দিয়েছি, নিজেই জানি না।

বিজ্ঞাপন

আজও ভুলতে পারিনি গোলাপের রং, ডালিয়ার ঢং, গাঁদার গন্ধ, সাদার শুভ্রতা, বুনো ফুলের টান, বাগানে বাগানে বর্ণিল ফুলের নাচন, বাতাসের গান আর মন–মাতানো হাজারো ফুলের ঘ্রাণ এবং শ্রীনগর, গুলমার্গ, পেহেলগাম, আরু ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি আর মুঘল গার্ডেনের প্রাচীন বাগানকে।

default-image

যাঁরাই কাশ্মীর যাবেন, একটু সময় নিয়ে যাবেন। যেন একটি দিন রাখতে পারেন শুধুই কাশ্মীরের ফুল, তাদের রং, ঘ্রাণ আর হাসি উপভোগের জন্য। শুধুই কাশ্মীরের ফুলের জন্য।

মন্তব্য পড়ুন 0