গুয়াট দুর্গ, সান মেরিনো
গুয়াট দুর্গ, সান মেরিনোছবি: উইকিপিডিয়া

‘এই যে মিস্টার, আপনি তো দেখি দিব্যি এনার সিটটা দখল করে ঘুমাচ্ছেন।’ সবে তন্দ্রাখানা এসেছিল। তার মধ্যেই এমন বাজখাঁই গলা! ধীরে ধীরে চোখ মেলে দেখি, সামনে দাঁড়িয়ে কালচে পোশাক পরিহিত দীর্ঘদেহী এক লোক। মাথায় পুলিশের মতো হ্যাট। কাঁধপট্টিতে চকচক করছে সোনালি কোনো চিহ্ন। পাশে দাঁড়িয়ে ঢ্যাঙামতো এক ভদ্রলোক। গলায় মাফলার। গালে লালচে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। তা আমাকে যিনি বললেন, তিনি কে? তিনি কি পুলিশ? ঘুমের ঘোরে আমার মস্তিষ্ক বেশ কয়েক সেকেন্ড সময় নেয় পুরো ঘটনাটা একটু আঁচ করতে। লোকটি পুলিশ কিংবা কন্ডাক্টর, যা-ই হোক না কেন, আমাকে এমন অবান্তর অপবাদ দেওয়ার মানেটা কী? আমি তো সিটে বসার আগে বেশ ভালোভাবেই মিলিয়ে নিয়েছি সিটের নম্বর, কোচের নম্বর।

default-image

আড়মোড়া ভেঙে উঠে জ্যাকেটের পকেট থেকে টিকিটটি বের করি। ততক্ষণে বুঝেছি, সে ভদ্রলোক আসলে রেলের টিকিট চেকার। তাঁকে ডেকে এনেছে আমার সিটের দাবিদার সেই ঢ্যাঙা লোকটি। একরাশ বিরক্তি নিয়ে হাতের টিকিটে চোখ বুলাতে গিয়ে প্রথমেই চোখ পড়ে পেছনের পাতায়। সেখানে ছবিটবি এঁকে বোঝানো হয়েছে কেন আপনি ট্রেনে চাপবেন গাড়িতে না উঠে। রোম থেকে ভেনিসে ট্রেনে করে যেতে যেখানে আপনি পোড়াবেন ১৭ কেজি কার্বন, সেখানে গাড়িতে গেলে পোড়াবেন প্রায় ৫৪ কেজি কার্বন। প্লেনে গেলে তো কথাই নেই। সে ক্ষেত্রে আপনি ধরণিকে ৮১ কেজি কার্বন দানে ধন্য করবেন। অতএব, পৃথিবীকে বাঁচাতে গেলে ট্রেনে চাপুন। আমি তো তা-ই করলাম। আর তারপরেই না এ হুজ্জত।

বিজ্ঞাপন

‘দিন দেখি টিকিটখানা’—আমার বিলম্ব দেখে সেই টিকিট চেকার একপ্রকার ছোঁ মেরে আমার হাত থেকে টিকিটটি টেনে নিলেন। তারপর টিকিট উল্টে প্রথম পাতায় চোখ বুলিয়ে প্রথমে তিনিও একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। ‘আপনার সিট নম্বর তো ঠিকই আছে,’ বিড়বিড় করে বলতে গিয়ে একটু থেমে গেলেন। তারপর ডান দিকের এক কোণে চোখ রেখে খানিক উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘ওমা, একি, আপনি তো দেখি আগের ট্রেনেই চেপে বসেছেন। আমাদের এই ট্রেনের মিনিট দশেক পরেই ছিল আপনার ট্রেন। করেছেন কী আপনি?’ আমি মাথা চুলকাই। তবে কি আমিই ভুল? ট্রেনে চাপার আগমুহূর্তের কথাগুলো ভেবে দেখার চেষ্টা করি। কী ঘটেছিল বোলোনিয়া স্টেশনে? যে কারণে ভুল ট্রেনে চাপলাম?

default-image

বোলোনিয়া থেকে রিমিনি যাওয়ার ট্রেন ছিল সকাল সাড়ে নয়টায়। আমি স্টেশনে গিয়ে পৌঁছালাম তার ঠিক মিনিট ১৫ আগে। তড়িঘড়িতে টিকিট কাটতে গিয়ে মেশিন খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কাউন্টারের সামনেও দীর্ঘ লাইন। তাই অটোমেটিক মেশিন থেকে কেনা ব্যতীত উপায় নেই। সেদিন বেশ বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। এপ্রিল মাসের শেষ হলেও কনকনে ঠান্ডা পড়েছে। স্টেশনে হুড়মুড় করে যারা ঢুকছে, তাদের সবার পরনেই ভারী জ্যাকেট কিংবা ফেব্রিকসের ওভারকোট। তেমনই এক ওভারকোট পরিহিত ভদ্রমহিলাকে সেই অটোমেটিক মেশিনের সন্ধান জিজ্ঞাসা করায় তিনি ফিক করে হেসে বললেন, ‘রিমিনি যাচ্ছ? ভালোই। এই বিশ্রী বাদলা থেকে বাঁচতে আমিও আজ পারলে রিমিনি যেতাম। কিন্তু ব্যাপার কী, জানো? আজই আমার এক বন্ধু আসবে সেই লাতিন আমেরিকার ইকুয়েডর থেকে। অনলাইনে পরিচয় আমাদের।’

ভদ্রমহিলা হয়তো আমাকে মেশিনের সন্ধান না দিয়েই নিজের আরও গল্প বলে যেতেন, কিন্তু থেমে গেলেন ঠিক ওই মুহূর্তে ট্রেন থেকে নেমে এদিকে এগিয়ে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব এক লোকের দিকে চোখ পড়ায়। লোকটির হাতে থাকা ফুলের গুচ্ছে সেই মুহূর্তে রেলের শেডের ফাঁক গলে ঝরে পড়েছে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি। ‘আমার বন্ধু এসে গেছে।’ গুমোট স্টেশনের আঁধার পরাভূত করে ওই নারীর মুখাবয়বে খেলে যাওয়া আলো। লোকটির দিকে পা বাড়ানোর আগমুহূর্তে আমার সেই প্রথম প্রশ্নটির কথা ভাগ্যক্রমে স্মরণ হওয়ায় বলে যান, ‘টিকিট কাটার মেশিনটা ওই যে ওই দিকের ওই কোণে।’ আমি পড়িমরি করে মেশিনের দিকে ছুটি।

default-image

টিকিট নেওয়ার পর মাথার ওপর ঝুলতে থাকা ইলেকট্রনিক বোর্ড আমাকে জানিয়ে দেয়, ট্রেন থামবে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ওদিকে হাতের ঘড়ি নির্দেশ করছে আর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ট্রেনটি এসে পৌঁছানোর কথা। এর খানিক পরই ঝড়ের গতিতে ট্রেনটি এসে সেই ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঝটকা মেরে দাঁড়িয়ে যায়; আর আমিও আমার বগি খুঁজে নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘুম দিই। তবে এবারে কন্ডাক্টরের বক্তব্য শুনে বুঝলাম, ভুল আসলে আমার নয়, ভুল কিছুটা এই ইতালিয়ান রেলের। কীভাবে, সেটা বলছি।

বিজ্ঞাপন

২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যে সময়ে আমার ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, আগের ট্রেনটি প্রায় ২০ মিনিট বিলম্ব করে ওই একই সময়ে ওখানে এসে দাঁড়ায়। আর আমার ট্রেনটি নাকি তারও প্রায় মিনিট ১৫ পর এসে পৌঁছায়। ওদিকে আমি ভেবে বসেছি, এখানকার রেল বুঝি জার্মানি কিংবা জাপানের মতোই ঘড়ি ধরে চলে। ওটাই ভুল আমার। তবে কপাল ভালো যে ভুলে ট্রেনে চড়লেও ভুল গন্তব্যের ট্রেনে চড়িনি। বরং এটি আন্তনগর ট্রেন হওয়ায় আমার সেই ট্রেনটির চেয়েও আগে আগেই রিমিনিতে পৌঁছাবে। তবে হ্যাঁ, সে কারণে কিন্তু এর ভাড়াও বেশ খানিকটা বেশি। এখন সেই বাড়তি মাশুল আর সেই সঙ্গে কোনো জরিমানা আক্কেলসেলামি হিসেবে দিতে হয় কি না কে জানে!

default-image

বোলোনিয়াতে পা দেওয়ার পর থেকেই যেন দুর্ভাগ্য তাড়া করে ফিরছে। গতকাল যখন এ শহরে এসে নামি, স্টেশনের বাইরে এসেই দেখি বৃষ্টি। টিপ টিপ বৃষ্টি। তার মধ্যেই ব্যাগ নিয়ে পথ হাঁটি। যে হোটেলে বুকিং দিয়ে রেখেছি, সেটি স্টেশনের কাছেই। তাই ট্যাক্সি কিংবা বাসের ঝামেলায় যেতে মন সায় দেয় না। মাত্র হয়তো আধা মাইলটাক গিয়েছি, অমনি সেই টিপ টিপ বর্ষণ মুহূর্তেই রূপ পাল্টে ফেলল। যে পথে হাঁটছিলাম, সেখানকার একটি বাড়ির কেউ গুপ্ত কোড টিপে নিচের সদর দরজা খুলে ভেতরে যাচ্ছিলেন। আমি কায়দা করে বন্ধ হওয়ার আগেই সেই দরজাটিকে থামিয়ে ভেতরে ঢুকে আশ্রয় নিই। মনে শঙ্কা জাগে, কেউ আবার উটকো লোক ভেবে তেড়ে না আসে! সে ক্ষেত্রে আজ কাকভেজা হওয়া ছাড়া গতি নেই। তবে তেমন কিছু হলো না। মিনিট বিশেক পর বৃষ্টির তেজ কিছুটা কমে এল। আমি আবার হোটেলের পথ ধরলাম। আমার জন্য দ্বিতীয় দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছিল সেখানে।

এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। সেবারই প্রথম। হঠাৎ দেখি, ফোনে টেক্সট মেসেজ। করা হয়েছে বোলোনিয়ায় যে হোটেলে বুকিং দিয়েছি, সেখানে থেকে। জানতে চাইছে আমি ঠিক কটায় এসে পৌঁছাব? আচ্ছা মুশকিলের কথা। আমি কী করে একেবারে ঘড়ি মেপে সময় বলি? হয়তো দেখা গেল, রোমের স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের টিকিট মিলল দুই ঘণ্টা বাদের। কিংবা রেল কর্মচারীদের হরতালের দরুন ট্রেন লেট। তখন? আমি তাই নিরাপদে থাকার জন্য বললাম, হয়তো বিকেল পাঁচটার পর আসব। তখন মেসেজে উত্তর এল আসুন। একটু অবাক হয়েছি তখন। এভাবে কেউ টেক্সট মেসেজে আসার ক্ষণ তো জানতে চায় না। ওরা কেন জানতে চেয়েছিল, তার কারণ বুঝলাম হোটেলের সামনের দরজায় পৌঁছে।

default-image

প্রায় আধভেজা হয়ে নানা গলি-তস্য গলি পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছে আবিষ্কার করলাম, কিসের হোটেল? এত দেখা যায় বসতবাড়ি। একেই হয়তো কিছুটা ঘষেমেজে হোটেল বানিয়ে ফেলেছে। সদর দরজা বন্ধ। বেশ কয়েকবার বেল টেপার পরও কারও সাড়া নেই। ওদিকে সেই দরজাখানা একেবারে সড়কের গা ঘেঁষে। ফলে বাইরে দাঁড়িয়ে তখন আমি টিপ টিপ বৃষ্টিতে ভিজছি। সেই সঙ্গে ভিজছে আমাদের কাঁধের ব্যাকপ্যাক। নিম্নাঙ্গে থাকা হালকা নীল রঙের লিভাইস জিনসটি বৃষ্টির জলের ছোঁয়া পেয়ে ধীরে ধীরে আবাহন করছে জমাটে নীল বর্ণকে। এভাবে কি আর অন্তকাল দাঁড়িয়ে থাকা যায়? বাধ্য হয়ে সেই নম্বরে আবার মেসেজ পাঠালাম, আপনারা কোথায়? আমি যে এসে বসে আছি! উত্তর এল, ‘ও, আপনি এসে গেছেন? এদিকে আমি ভেবেছি, আরও দেরি হবে আপনার। আমি একটু বাজারে এসেছি কেনাকাটা করতে। একটু দাঁড়াবেন?’ অর্থাৎ, হোটেলটি সামলায় একজন মাত্র কেউ।

মনে মনে কষে গাল দিয়ে ভাবলাম, হ্যাঁ, এখানে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে সর্দিগর্মি বাধাই আরকি। এ শহরে তো হোটেলের এতই অভাব যে তোমার এই চৌদ্দ নম্বুরে আস্তানায় আমাকে মাথা গুঁজতে হবে। তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বেরিয়ে কাছের এক মুদি দোকানের ভেতরে ঢুকে আবারও বৃষ্টির বিদায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম।

দোকানটি বেশ ছোট। সামনের দিকে কিছু কাগজের বাক্সে টমেটো, কলা, ফুলকপি রাখা। ভেতরেও নানা পদের জিনিস। একেবারেই যাকে বলে মুদি দোকান। তো এই মুদি দোকানের মালিক বা কর্মচারী হলেন দুই বাংলাদেশি। তাঁদের দেখে বুকে একটু বল পাই। যাক, তাঁদের কাছ থেকে হোটেল-সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ হয়তো পাওয়া যেতে পারে। এভাবে ব্যাগপত্তর নিয়ে এমন বাদলা দিনে তো আর পথে পথে ঘোরা যাবে না, আমাকে কোথাও গিয়ে উঠতে হবে।

default-image

‘আপনে চাইলে আমাগো পরিচিত এক দেশি ভাইয়ের বাড়িতে উঠতে পারেন। দেশি খাবার খাইলেন। বুঝলেন না? আপনেরও লাভ হইল, তাগরও লাভ হইল।’ সেই কর্মচারী যুবকটির উত্তর। বুঝলাম, এখান থেকে হয়তো আমি যে পরামর্শ আশা করছি, সেটি পাওয়া যাবে না। সে দোকান থেকে দুটো কলা কিনে আমি আবারও পথ মাপি। বড় রাস্তার কাছে এসে পথের পাশে এক ফুড ট্রাকের সন্ধান পাই। ট্রাকের ভেতর উনুন জ্বেলে ক্যালামারি মাছ ভাজা হচ্ছে। তার চনমনে গন্ধে আশপাশে তৈরি হয়েছে ক্ষুধা-জাগানিয়া পরিবেশ। অনেকেই ভিড় জমিয়ে পাঁচ ইউরো এক ঠোঙা দরে ক্যালামারি কিনে টুথপিকের কাঠি দিয়ে গপাগপ গিলছে। আমিই-বা বাদ যাই কেন? এর সঙ্গে উপরি পাওনা হলো বিক্রেতার কাছ থেকে এক নিকটস্থ হোটেলের সন্ধান লাভ।

বিজ্ঞাপন

গতকাল এভাবেই হোটেলের বিড়ম্বনা কাটালেও আজ কীভাবে এই ভুল ট্রেনে ভুল টিকিটের বিড়ম্বনা মেটাব, সেটাই ভাবছিলাম। এ নিয়ে খুব বেশি কিছু ভাবার আগেই সেই টিকিট চেকার ভদ্রলোক আমার দিকে ইশারা করে বললেন, ‘আসুন, আসুন এদিকে।’ তারপর সে বগির একেবারে শেষ দিকে একটি খালি সিটের কাছে নিয়ে বললেন, ‘রিমিনি অবধি এ সিট ফাঁকাই যাওয়ার কথা। আপনি তো রিমিনিই যাচ্ছেন, তাই না? বসে পড়ুন এখানে। যেহেতু ভুল করে এ ট্রেনে চেপে বসেছেন, তাই আমি আর আপনার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করছি না।’ আমি তাঁকে বার দুয়েক গ্রাৎসিয়ে গ্রাৎসিয়ে বলাতে তিনি প্রস্থান নেওয়ার আগে কেবল মৃদু হেসে বললেন, ‘পরেরবার ট্রেনে ওঠার আগে ট্রেনের নম্বরখানি একটু দেখে উঠবেন, যেন এমন ভুল আর না হয়।’ মনে মনে ভাবি, সে আর বলতে!

আন্তনগর হাইস্পিড ট্রেনটি তখন ঘণ্টায় প্রায় ৯০ মাইল বেগে রিমিনির দিকে ছুটে চলেছে।

রিমিনি এক ছোট্ট নগর। এড্রিয়াটিক-পাড়ের এ শহরের রেলস্টেশনটিও খানিকটা নিঝুম। স্টেশনের বাইরের সড়কে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে একপাল ম্যাপল ট্রি। এখানে পা দিয়েই বুঝতে পারছি, সকালের সেই নারী আমার মুখে রিমিনির নাম শুনেই কেন খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন। বোলোনিয়ার সেই প্যাচপেচে বৃষ্টি রিমিনির সমুদ্র বায়ুর কাছে পরাভূত হয়ে এমুখো হওয়ার সাহস করেনি। বেশ কিছুটা দূর থেকেই বিদায় নিয়েছে। এখানে তাই ঝলমলে রোদ।

default-image

এমন রোদপ্লাবিত নগরে আমার আগমন কিন্তু এ নগরের জন্য নয়। বরং চতুর্দিকে ইতালির ভূখণ্ডবেষ্টিত ছোট্ট দেশ সান মেরিনোই আমার গন্তব্য। আর সান মেরিনোতে যেতে গেলে এই রিমিনি শহর না হয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এখান থেকে ঘণ্টাখানেকের বাসযাত্রার পর তবেই সান মেরিনো। অবশ্য যাঁরা ধনাঢ্য ব্যক্তি, তাঁরা হয়তো বাসে না গিয়ে নিজের দামি গাড়িতে করেও যেতে পারেন। তবে যেভাবেই যান না কেন, সড়কপথেই যেতে হবে। ওখানে উড়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ, এ পৃথিবীতে অতি ক্ষুদ্র যে পাঁচটি দেশে কোনো বিমানবন্দর নেই, সান মেরিনো তাদের মধ্যে একটি। বাকি চারটি দেশ হলো লিখটেনস্টাইন, ভ্যাটিকান, এন্ডরা আর মোনাকো।

স্টেশনের ঠিক উল্টো দিকেই সান মেরিনো যাওয়ার বাসস্ট্যান্ড। পাশের এক মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে বাসের টিকিট। সেখানে গিয়ে শুনি, পরের বাস আসবে আরও প্রায় মিনিট বিশেক পর। সেটুকু ক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

মন্তব্য পড়ুন 0