ভ্রমণ

লাকপা-রি শৃঙ্গ বিজয়

শিখরের নাম লাকপা-রি

লাকপা-রি শীর্ষে বাংলাদেশ ও নেপালের পতাকা হাতে লেখক ও তাঁর সঙ্গীরা
লাকপা-রি শীর্ষে বাংলাদেশ ও নেপালের পতাকা হাতে লেখক ও তাঁর সঙ্গীরা ছবি: নিমা দর্জি শেরপা
বিজ্ঞাপন

হঠাৎ গোঙানির শব্দ শুনে পেছন ফিরে দেখি, বিথী বরফের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। হিমবাহের একটা ফাটলে পড়ে গেছে সে। আমরা ছয়জন এক দড়িতে বাঁধা রয়েছি। সবার আগে প্রধান গাইড দাওয়া তেনজিং শেরপা। তাঁর পেছনে আমি এবং আমার পরে বিথী। বিথীর পেছনে একে একে পেম্বা তেনজিং শেরপা, বিপ্লব ও নিমা দর্জি শেরপা।

default-image

হিমবাহের ওপর জমা তুষারে ঢাকা ছিল বড় একটা ফাটল; ওপর থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। কেমন করে যেন দাওয়া শেরপা আর আমার পা ক্রেভাসটার ওপর পড়েনি। কাকতালীয়ভাবে বিথীর পা পড়েছে ঠিক ক্রেভাসটার ওপরে। সঙ্গে সঙ্গে সে ক্রেভাসের মধ্যে ঢুকে গেছে; কেবল তার পিঠের ব্যাগটি ফাটলে আটকে আছে বলে পুরো তলিয়ে যায়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখনো সূর্য ওঠেনি। টর্চের আলোয় আমরা ক্রেভাস থেকে টেনে তুললাম বিথীকে। ভাগ্যক্রমে কোনো বড় আঘাত পায়নি সে। আমাদের সঙ্গে সমান তালেই সে এগিয়ে যেতে পারবে। আজ আমাদের আরোহণের চূড়ান্ত দিন। সামনে রয়েছে লাকপা-রি শিখর; আমাদের, বিশেষ করে বিথী ও বিপ্লবের, স্বপ্নের সাত হাজার মিটার সামিট। এর আগে ছয় হাজার মিটারের বেশ কয়েকটি পর্বতে অভিযান করলেও বিথী ও বিপ্লবের জন্য সাত হাজার মিটারে এটাই প্রথম অভিযান। ক্রেভাস নিয়ে আলোচনায় সময়ক্ষেপণ করার অবকাশ নেই আমাদের। খুব সাবধানে পা ফেলে আমরা আবার চলতে শুরু করলাম।

default-image

আজ ১৯ দিন হলো আমরা দেশ ছেড়ে এসেছি। সেই ২৯ এপ্রিল ভোরে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হকের বাড়িতে তাঁর ও ক্লাবের অন্য সদস্যদের শুভকামনা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুরুতেই সঙ্গী হয়েছিল ঝড়-বৃষ্টি। বেলা একটা পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দরে বসেছিলাম। কাঠমান্ডু পৌঁছে অর্থ জমা দেওয়া ও অভিযান নিয়ে শেরপাদের সঙ্গে আলাপ করতেই দিন শেষ। পরবর্তী তিন দিন কেটেছে আরোহণের পোশাক, যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম কেনাকাটায়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মে মাসের ৩ তারিখ সকাল ১০টায় হালকা বৃষ্টির মধ্যে কাঠমান্ডু ছেড়েছি। একটা জিপে আমরা তিব্বত-সীমান্তের দিকে চলেছি। মাঝে মাঝে রাস্তা কাঁচা; বৃষ্টিতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। দুপুরে ত্রিশূলী-নদীর পারে এক রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজ হলো। সন্ধ্যা নাগাদ ‘টিমুরে’ পৌঁছে ‘সোনম’ গেস্টহাউসে উঠলাম। রসুয়াগাড়ি সীমান্ত এখান থেকে ১৫ মিনিটের পথ। পরদিন সকাল ৮টায় সীমান্তে এলাম। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমরা জিপে উঠলাম। আমাদের গন্তব্য ‘ক্যারুং’; উচ্চতা ২৭০০ মিটার। চায়না-তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের সঙ্গে আছেন। ৪৫ মিনিটে ক্যারুং পৌঁছে গেলাম। উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা এখানে দুরাত থাকব।

default-image
হোটেলে হাঙ্গেরির পর্বতারোহী ডেভিডের সঙ্গে দেখা হলো। ২০১০ সালের এভারেস্ট অভিযানে আমরা একই দলে ছিলাম। ডেভিড এবার শিশা-পাংমা অভিযানে এসেছে।

৬ মে সকাল ১০টায় আমরা ক্যারুং থেকে তিংরির উদ্দেশে যাত্রা করলাম। পথে নীল একটি লেক দেখে আমরা গাড়ি থেকে নামলাম। প্রায় ৪ হাজার ৫৯০ মিটার উঁচুতে ৩০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বিশাল লেক; নাম পাইকু-তসো। আধঘণ্টা লেকের পাশে কাটিয়ে আমরা আবার যাত্রা শুরু করলাম। বেলা পৌনে তিনটায় পৌঁছালাম তিংরি; উচ্চতা ৪ হাজার ৩৪৮ মিটার। এখানে হোটেলে হাঙ্গেরির পর্বতারোহী ডেভিডের সঙ্গে দেখা হলো। ২০১০ সালের এভারেস্ট অভিযানে আমরা একই দলে ছিলাম। সেবার ক্যাম্প-১ থেকে অ্যাডভান্স বেস-ক্যাম্পে নামার পথে ডেভিডের সঙ্গী বারকোনি তুষারধসে মারা যান; আর ডেভিডকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ডেভিড এবার শিশা-পাংমা অভিযানে এসেছে। উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তিংরিতেও দুরাত থাকলাম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৮ মে সকাল ৯টায় তিংরি থেকে বেসক্যাম্পের উদ্দেশে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। রংবুক মনেস্ট্রি পার হয়ে দুপুর ১২টায় বেসক্যাম্পে পৌঁছালাম; উচ্চতা প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার। একই সঙ্গে এটা লাকপা-রি বেসক্যাম্প ও এভারেস্ট-বেসক্যাম্প। আমাদের দলের শেরপা, বাবুর্চি ও অন্যান্য স্টাফ এপ্রিলের শুরুতেই বেসক্যাম্পে এসেছেন। তাই আমাদের জন্য তিনটি তাঁবু আগে থেকেই পাতা ছিল। তাঁবুতে ব্যাগ রেখে গরম জুস খেয়ে বেসক্যাম্পটা একটু হেঁটে দেখলাম।

default-image

কিংবদন্তি পর্বতারোহী জর্জ ম্যালোরির স্মৃতিফলকের কাছে যাই। তিনি ১৯২১, ১৯২২ ও ১৯২৪ সালে পরপর তিনবার এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেন। লাকপা-রি পর্বতশৃঙ্গ প্রথম জয় করেন জর্জ ম্যালোরি ১৯২১ সালে তাঁর প্রথম এভারেস্টে রেকি অভিযানে এসে। এবার অভিযানের জন্য লাকপা-রিকে বেছে নেওয়ার এটা অন্যতম কারণ। এখানে আমরা তিনজনই শুধু লাকপা-রি অভিযাত্রী; অন্য সবাই এভারেস্ট অভিযাত্রী। এভারেস্টের উত্তর-পূর্বেই লাকপা-রি শৃঙ্গ। আমরা তাই এভারেস্ট অভিযাত্রীদের বেসক্যাম্প, মিডল-ক্যাম্প ও অ্যাডভান্সড বেসক্যাম্প ব্যবহার করব। তিনটি ক্যাম্পেই আমরা এভারেস্ট অভিযাত্রীদের সঙ্গে পাশাপাশি থাকব।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চার দিন বেসক্যাম্পে কাটল আমাদের। ১২ মে সকাল ৮টায় নিমা দর্জি শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মিডল-ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হলাম। ঘণ্টা দেড়েক হাঁটার পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পুমরি পর্বতশৃঙ্গের মুখোমুখি হলাম।

default-image

এরপর পথ বেশ খাড়া ওপরে উঠে গেছে। দুপুরে পাথরে বসে প্যাক লাঞ্চ খেলাম। এরপর পূর্ব রংবুক হিমবাহে পাথরের বোল্ডারের ওপর দিয়ে হেঁটে চড়াই-উতরাই পার হয়ে বেলা সাড়ে তিনটায় পৌঁছালাম মিডল-ক্যাম্প; উচ্চতা প্রায় ৫ হাজার ৮০০ মিটার। এখানে আমাদের জন্য তাঁবু পাতা ছিল। কুক ফুর্বার দেওয়া খাবার খেয়ে সন্ধ্যা সাতটায় আমরা ঘুমাতে গেলাম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৩ মে সকাল ৮টায় অ্যাডভান্সড বেসক্যাম্পের (এবিসি) উদ্দেশে রওনা হলাম। চমৎকার আবহাওয়া। প্রথমে হিমবাহের বরফগলা পানির কাছে নেমে তারপর চড়াই। ধীরে ধীরে চড়াই বাড়ছে, অক্সিজেন কমছে আর চলার গতি কমছে। পুরোটা পথ পূর্ব-রংবুক হিমবাহের ওপর দিয়ে গেছে।

default-image

দুপাশে হিমবাহের কঠিন বরফের টাওয়ার; মাঝখানে পাথরের ওপর দিয়ে আমরা হেঁটে চলেছি। আমরা হাঁটছি দক্ষিণমুখী হয়ে; সব সময় এভারেস্টের শীর্ষ দেখা যাচ্ছে। মাঝপথে লাকপা-রি শৃঙ্গকে দেখা গেল। এবিসিতে পৌঁছানোর কিছু আগে তুষারপাত শুরু হলে চারদিক হোয়াইট আউট হয়ে গেল। বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ পৌঁছালাম এবিসি; উচ্চতা প্রায় ৬ হাজার ৪০০ মিটার।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবিসিতে আমাদের বেশ কয়েক দিন থাকতে হবে। এখানে বিভিন্ন দলের তাঁবুগুলো দক্ষিণ থেকে উত্তরে সাজানো। তাঁবুতে ব্যাকপ্যাক রেখে ডাইনিং টেন্টে গেলাম। বেশ ঠান্ডা লাগছে। বেসক্যাম্প ও এবিসির ডাইনিং টেন্টে হিটার আছে।

ডাইনিং টেন্টে পরিচয় হলো রাশিয়ার বিখ্যাত পর্বতারোহী ভিক্টর ববকের সঙ্গে। তিনি মোট পাঁচবার এভারেস্ট সামিট করেছেন; ভিক্টর এখন নিজে শিখর আরোহণ করেন না; অভিযান তদারক করেন।

ডাইনিং টেন্টে পরিচয় হলো রাশিয়ার বিখ্যাত পর্বতারোহী ভিক্টর ববকের সঙ্গে। তিনি মোট পাঁচবার এভারেস্ট সামিট করেছেন; একবার দক্ষিণ আর চারবার উত্তর দিক দিয়ে। উত্তর দিকের চারবারের মধ্যে তিনবার সাধারণ রুট দিয়ে আর একবার নতুন একটি রুট দিয়ে সামিট করে রেকর্ড করেন। তাঁর দলের ৫ জন রুশ আরোহী আজ ক্যাম্প-৩ যাবেন, কাল তাঁরা সামিট করবেন। ভিক্টর এখন নিজে শিখর আরোহণ করেন না; অভিযান তদারক করেন।

default-image

১৭ মে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় উঠে পোশাক পরে এলাম ডাইনিং টেন্টে। কিছুটা রাইস পরিজ খেয়ে এবং কিছু খাবার পথে খাওয়ার জন্য ব্যাগে ভরে নিলাম। হার্নেস-সেট ও আইস বুট পরে মাথায় হেড-টর্চ লাগিয়ে রাত আড়াইটায় এবিসি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ১৫ মিনিট হেঁটে ক্রাম্পন পয়েন্টে এসে আইস বুটের নিচে ক্রাম্পন লাগালাম। দাওয়া তেনজিং শেরপা মেইন দড়ি বের করলেন। আমরা সবাই নির্দিষ্ট দূরত্বে একজনের পেছনে আরেকজন স্ক্রু ক্যারাবিনারে দড়ি আটকে নিলাম। রাত ৩টা বাজল। আমরা ক্রাম্পন পয়েন্ট থেকে হাঁটা শুরু করলাম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথমে ইস্ট রংবুক হিমবাহে কঠিন বরফের টাওয়ারের মধ্য দিয়ে জিগজ্যাগ চলছি; অনেকটা গোলকধাঁধার মতো। টাওয়ারগুলো ৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু। ঘণ্টাখানেক সময় লাগল এটা পার হতে। এরপর হিমবাহের একটা প্রান্তরে এসে পৌঁছালাম। তাপমাত্রা মাইনাস ১০-১৫ ডিগ্রির মতো হবে। পথটা কঠিন নয়; শুধু ক্রেভাস এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। আস্তে আস্তে চড়াই বাড়ছে। এখানেই বিথীকে ক্রেভাস থেকে তুলে আমাদের হাঁটা অব্যাহত রয়েছে। কিছু পরে এভারেস্টের গায়ে সকালের সূর্যের প্রথম আলো লাগল। সূর্যের আলো গায়ে লাগামাত্র ফেদার জ্যাকেট খুলে ব্যাগে ঢোকালাম।

default-image

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমরা ৫০-৬০ ডিগ্রি খাড়া একটা বরফের দেয়ালের সামনে এসে দাঁড়ালাম। ৬০ মিটারের মেইন দড়ি ছাড়াও আমাদের সঙ্গে ২০০ মিটার নাইলন দড়ির একটি কয়েল আছে। তিন শেরপা মিলে বরফের দেয়ালে নাইলনের দড়ি লাগালে আমরা তাতে জুমার লাগিয়ে আরোহণ শুরু করলাম। দেয়ালে ওঠার পর শেরপারা নিচ থেকে দড়ি খুলে আবার ওপরে নিয়ে বাঁধলেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া খুবই ভালো। এবার পথটা তত বেশি খাড়া না; তবে বেশ কিছু ক্রেভাস আছে। কিছু কিছু জায়গায় নরম তুষারে হাঁটু পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছি। এক জায়গায় নীল রঙের কঠিন বরফ পেলাম; সেখানে ক্রাম্পন আটকায় না। বারবার পা পিছলে যাচ্ছে বলে আরোহণ বেশ কষ্টসাধ্য। এরপর বেশ বড় ও বিপজ্জনক একটা ক্রেভাসের পাশ দিয়ে কিছুটা নিচে নেমে আবার ওপরে উঠতে হলো। নিচ থেকে দড়ি খুলে শেরপারা আবার ওপরে নিয়ে বাঁধলেন। একই দড়ি বারবার খোলা আর বাঁধার কাজে বেশ সময় লাগছে। বরফের এই দেয়ালের শেষ ৫০ মিটার খুব খাড়া।

default-image

বেলা ১টার দিকে আমরা দড়ির শেষ প্রান্তের পাথুরে অংশে পৌঁছলাম। এখান থেকে চূড়া আর ১০০ মিটারের মতো হবে। পাথরে বসে সঙ্গে আনা খাবার দিয়ে আমরা মধ্যাহ্নভোজ সারলাম। দাওয়া শেরপা ও পেম্বা শেরপা পাথুরে অংশে দড়ি বেঁধে বেঁধে চূড়ার দিকে এগোতে লাগলেন। খাওয়া শেষ করে আমরা দড়িতে জুমার লাগালাম। পাথুরে অংশের শুরুটা তত বেশি খাড়া নয়, ২০-৩০ ডিগ্রি ঢালু হবে। সেই পাথরের ঢালের ওপর ৫০ মিটারের মতো জায়গায় আলগা, অনেক টুকরা পাথর; ক্রাম্পন নিয়ে এখানে হাঁটা অত্যন্ত কষ্টকর। এরপর ৩ মিটারের মতো উঁচু একটি পাথরের দেয়াল প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া। প্রথমে কিছুটা খাড়া উঠে তারপর ডান দিকে আড়াআড়ি যেতে হচ্ছে। ক্রাম্পন নিয়ে এই দেয়ালে আরোহণ করা সত্যিই কঠিন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাথরের দেয়ালে আরোহণের পর আমরা লাকপা-রি শীর্ষের কাছে তুষারের শেষ অংশে এসে দাঁড়ালাম। এখান থেকে চূড়া আর মাত্র ১৫ মিটারের মতো হবে। তুষারের এই শেষ অংশটুকু প্রায় ৪০-৫০ ডিগ্রি খাড়া; তেমন কঠিন নয়। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। এভারেস্টের মাথায় মেঘ ও সূর্যের লুকোচুরি চলছে। থেকে থেকে বাতাস বইছে। দাওয়া শেরপা ও পেম্বা শেরপা ইতিমধ্যে চূড়ায় পৌঁছে দড়ি বেঁধে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।

default-image

দাওয়া শেরপা আমাদের তাড়াতাড়ি চলার তাগাদা দিচ্ছেন; আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আগেই চূড়া থেকে নামতে হবে। দড়িতে জুমার লাগিয়ে ধীরে ধীরে আরোহণ করে নেপাল সময় বেলা ৩টায় আমি লাকপা-রির শীর্ষে এসে দাঁড়ালাম। আমার পেছনে এল একে একে বিথী, বিপ্লব ও নিমা শেরপা। দাওয়া শেরপা আমাদের অভিনন্দন জানালেন। আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করলাম।

লেখক: দুবার এভারেস্ট বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন