বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রূপসা নদীর শান্ত পানি দিয়ে যেতে যেতে সকালের নাশতায় এক কাপ চা হাতে নিয়ে দেখতে পারবেন সুন্দরবনের নীরব, শান্ত সৌন্দর্য; নদীর ঢেউয়ের শব্দ ছাড়া আর বেশি কিছু শোনা যাবে না। মাঝেমধ্যে শোনা যাবে অজানা কোনো পাখির ডাক অথবা ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কোনো পশুর চলার শব্দ।

default-image

বেলা যখন বাড়তে থাকে, তখন দুই পাশে খেয়াল করলে দেখা যাবে যে প্রকৃতি আস্তে আস্তে সবুজ থেকে সবুজতর হচ্ছে, চোখের সামনে আসা ঘন সবুজ গাছের সারি জানান দেবে যে সুন্দরবন খুব কাছেই। হারবাড়িয়া ইকোট্যুরিজম পয়েন্টে আসার পর পা পড়বে আসল সুন্দরবনের জঙ্গলের ভেজা মাটিতে। দুজন আর্মড গার্ডের নিরাপত্তায় হারবাড়িয়াতে দেখা মিলবে সুন্দরী, গোলপাতার মতো উদ্ভিদের পাশাপাশি ভেজা মাটির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া লাল কাঁকড়ার সারি ও বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন পাখির ঝাঁক। হারবাড়িয়ার পর জাহাজ রওনা হবে কটকার দিকে।

পরের দিন ভোরে যখন ঘুম ভাঙবে, জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে অথবা নিজের কেবিনের জানালা দিয়েই দেখতে পাবেন ভোরবেলায় কটকার বালুময় সৈকতের সৌন্দর্য। কটকায় সুন্দরবন উপভোগ করার জন্য রয়েছে জামতলা সমুদ্রসৈকত ও কটকা ওয়াচ টাওয়ার। কটকার অভয়ারণ্যে দুর্লভ ধূসর ইগল ও শকুন ছাড়াও সবুজ জঙ্গলের মধ্যে সুন্দরবনের বিখ্যাত চিত্রা হরিণ ও বানরের দলের দৌড়ঝাঁপ আপনাকে চমকে দেবে।

default-image

দুপুরে জাহাজ আপনাকে নিয়ে যাবে হিরণ পয়েন্টে। এই হিরণ পয়েন্টেই দেখা মিলবে যার জন্য সুন্দরবনের এত নাম, সেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। সবুজ বনের মধ্যেই দেখা যাবে হলুদ ডোরাকাটা বাঘের চলন। হিরণ পয়েন্টে বাঘদর্শনের পর আপনার পা পড়বে সুন্দরবনের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের দ্বীপ দুবলার চরে। এখানে খুব কাছে থেকে দেখা যাবে সুন্দরবনের মানুষদের জীবনযাপন, দেখা মিলবে কীভাবে সুন্দরবনের জেলে সম্প্রদায়ের মানুষেরা মাছ ধরে ও মাছের শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। রাতে দুই পাশে সুন্দরবনের মাঝ দিয়ে খালের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে জাহাজেই হবে বার-বি-কিউ। জাহাজের ডেকে এক কাপ চা হাতে নিয়ে অন্ধকার রাতে সুন্দরবনের নীরবতা ও সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য এক রাজ্যে।

এই দুই দিনেই কিন্তু সুন্দরবন ভ্রমণ শেষ নয়। তৃতীয় দিনে সকালে নাশতার পরে ছোট নৌকাতে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে যাওয়া অসংখ্য খালের শান্ত পানির মধ্য দিয়ে জঙ্গলের একদম পাশে দিয়ে যেতে যেতে সুন্দরবনকে দেখা যাবে আরও কাছে থেকে, আপনাকে স্বাগত জানাতে জঙ্গলের মাঝ থেকে উঁকি দেবে হরিণ। বিকেলের মধ্যেই জাহাজ আপনাকে নিয়ে যাবে করমজলে। সুন্দরবনের অন্যতম ওয়াচ টাওয়ার আছে করমজলে, এই ওয়াচ টাওয়ার থেকেই পাওয়া যাবে সুন্দরবনের সবচেয়ে সুন্দর ও বিস্তৃত ভিউ। টাওয়ার থেকে দেখা যাবে দিগন্তবিস্তৃত সবুজ বন, আরও দেখা যাবে হরিণের দল, নদীর পাশে রোদ পোহাতে থাকা কুমির, আর নানান প্রজাতির উড়ন্ত পাখির ঝাঁক। করমজল ভ্রমণের মধ্য দিয়েই শেষ হবে তিন দিনের অপার্থিব সুন্দরবন ভ্রমণ।

default-image

সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য সবার আগেই প্রয়োজন হয় বন বিভাগের অনুমতি। জাহাজ ঠিক করার সময় করতে হয় দরদাম। এর পাশাপাশি করতে হয় থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা। আর এসব ঝামেলার খুব সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গো যায়ান। গো যায়ানে সুন্দরবন ট্যুরের বিস্তারিত দেখতে ও অনলাইনে বুকিং করতে ভিজিট করুন: https://cutt.ly/cEYGnnY অথবা কল করুন +৮৮ ০৯৬৭৮৩৩২২১১ নম্বরে।

ভ্রমণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন