আগলে রাখতেন বাবা

আজ ২০ জুন, বাবা দিবস। বাবাকে ভালোবাসার বিশেষ এই দিন উপলক্ষে পাঠকের কাছে লেখা আহ্বান করেছিল গোদরেজ প্রটেক্ট ও প্রথম আলো অনলাইন। ‘বাবা, তোমাকে বলা হয়নি’ শিরোনামে বিপুলসংখ্যক পাঠক তাঁদের বাবাকে নিয়ে অনুভূতিমালা লিখেছেন। এখানে নির্বাচিত লেখাগুলোর একটি প্রকাশিত হলো।

বাবা তখন বিদেশে। আমার জন্মের কিছুদিনের মধ্যে বাবা চাকরিচ্যুত হলেন। বাধ্য হয়ে দেশেও চলে এলেন। আত্মীয়স্বজন তখন নাকি আমার আগমনকে ইঙ্গিত করে বলতে শুরু করলেন, মেয়েটা দুনিয়াতে আসার পরই বাবা চাকরি হারালেন!

আমার আগে মা-বাবার আরও এক সন্তান ছিল, মানে আমার বড় বোন। পরপর আমি মেয়ে হওয়ায় পাড়া-প্রতিবেশীসহ আত্মীয়রা খুশি হননি। আমিও শৈশবে দেখেছি, আমাকে কেউ আদর করত না।

তবে একজন শুধু আগলে রাখতেন। তিনি বাবা। আম্মু অসুস্থ থাকায় বাবা আমাকে গোসল করাতেন, খাওয়াতেন, স্কুলে নিয়ে যেতেন। একবার এক ঘটনা ঘটল। একজন প্রতিবেশী বাসায় এসেছিলেন। তিনি বিদায় নিয়ে যাওয়ার পরপরই বৃষ্টি শুরু হলো। বাবা ছাতা দিয়ে আসতে বললেন আমাকে। আমি বাইরে এসে খুঁজতে খুঁজতে ২০ মিনিট দূরত্বে খালাদের বাসায় চলে এলাম। বাসায় ফিরে যেতে চাইলে তিনি বললেন, ‘একটু পরে যাও’।

আরও আধা ঘণ্টা সময় চলে যায়। এর মধ্যে দেখি বাবা এসে হাজির। তিনি রেগে গড়গড় করছিলেন। আমাকে কাছে পেতেই মারতে শুরু করলেন। খালা বললেন, ‘ওর দোষ নেই, আমি ওকে যেতে দিইনি।’

কে শুনে কার কথা। বাবা রাস্তায় মারলেন, রিকশায় বসিয়ে মারলেন। বাসায় নিয়ে বললেন, আজ যদি জ্বর আসে তাহলে আবার মারবেন!

আজ বুঝি, বাবা কতটা চিন্তা করেছেন। ২০১৫ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রায় মৃতপ্রায় আমি। বাবা সারা রাত জেগে সেবা করলেন। সুস্থ হয়ে উঠি।

স্নাতকে পড়ার সময় রসুনের কোষ বগলে দিয়ে রাখতাম, যাতে জ্বর আসে। জোর করে জ্বর আনানোর কারণ বাবার আদর। বাবার শক্তিতে, সাহসে, ভালোবাসায়, দোয়ায় আমি ঢাকায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে অধ্যক্ষ হিসেবে আছি। বাবা দিবসে বলতে চাই, বাবা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।