ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি

প্রায় দুই বছর পর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান হচ্ছে। মিলনায়তনে বাইরে থেকেই কানে আসছিল মুহুর্মুহু হাততালি আর আনন্দসূচক চিৎকার। আয়োজক ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি মনন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সংস্কৃতিমনা ক্লাবগুলোর মধ্যে ক্লাবটি অন্যতম। তবে অন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে মননের পার্থক্য হলো, একটু ভিন্ন ধরনের শিল্প নিয়ে কাজ করেন এই ক্লাবের সদস্যরা। মাইম, হিপহপ, বিট বক্সিং, র‍্যাপ গান, ফিউশন মিউজিক—বাদ যায় না কিছুই।

গত ৩০ মার্চ ক্লাবটি আয়োজন করেছিল তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান—‘ফানটাস্টিক’। এখানে মূলত নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। অফলাইনে ফিরতে পেরে কেমন লাগছে, এ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারিহা তাসনিম খান বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন, ‘হঠাৎ করেই সবকিছু অনলাইন হয়ে গিয়েছিল। শুরুতে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হলেও আমাদের ক্লাবের সদস্যরা সব সময় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। যার ফল পেয়েছি ৩০ তারিখের অনুষ্ঠানে। যেহেতু আমরা মঞ্চে পারফর্ম করি, তাই একটা বাড়তি চাপ ছিল। অনেক দিন তো মঞ্চ থেকে দূরে ছিলাম। তবে দর্শকদের উদ্দীপনা দেখে দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেছে। নতুনদের পরিবেশনাও আমাদের মুগ্ধ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সবাই নেচেগেয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে।’

ক্যাম্পাসগুলোয় একটা বড় অংশের শিক্ষার্থী আছেন, যাঁরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরুই করেছেন অনলাইনে। প্রায় দেড় বছর ক্যাম্পাসে পা না রেখেই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাদ নিয়েছেন। তাঁদের সামনে ক্যাম্পাসের প্রকৃত রূপটা তুলে ধরার একটা দায়িত্ববোধও কাজ করছিল বলে জানালেন ফারিহা। বলছিলেন, ‘অনলাইনে যারা ভর্তি হয়েছিল, তাদের কাছে এ ধরনের অনুষ্ঠান একদমই নতুন। তাই তাদের কাছ থেকে সাড়াও পেয়েছি বেশি। টানা দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে সব সময়ই আমাদের অডিটরিয়াম হাউসফুল ছিল। আর মিনিয়নদের উৎসাহ ছিল অভাবনীয়।’

মিনিয়ন? সেটা কী? হেসে বললেন ফারিহা, ‘ক্লাবের নতুন সদস্যদের বড়রা আদর করে মিনিয়ন বলে ডাকে!’

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

অফলাইন ক্লাস চালু হওয়ার পরপরই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শুরু হয় পরীক্ষা। পড়ালেখা, পরীক্ষার চাপের মধ্যেও কুয়েটের সংগঠনগুলো তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রেখে পুরোনো গতিতে ফিরতে চেষ্টা করেছে।

ভার্চুয়াল জগতের বাইরে, এ বছর জানুয়ারিতে প্রথম অনুষ্ঠান আয়োজন করে কুয়েটের আবৃত্তি সংগঠন ‘অ’ ও কুয়েট থিয়েটার। ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে করা এ অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা। সঙ্গে ছিল যন্ত্রানুষঙ্গ। নিজের ক্যাম্পাসে প্রথম একটা অনুষ্ঠান দেখার রোমাঞ্চ নিয়ে ভিড় করেছিলেন নতুন শিক্ষার্থীরা। ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষেও করা হয়েছিল বিশেষ আয়োজন। ধ্রুপদি ড্যান্সার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়েট, কুয়েট আর্টিস্ট সোসাইটি—কল্পপট, কুয়েট ফিল্ম সোসাইটি, কুয়েট রেডিওসহ অংশগ্রহণ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি ক্লাব।

ধ্রুপদির ওয়ার্কশপ সেক্রেটারি অন্ময় কুমার কুন্ডু। তাঁর বক্তব্য, ‘পরীক্ষার মধ্যেও ক্লাবের কাজ নিয়ে সবাই আন্তরিক ছিল। মজা করে কাজ করেছে। আবৃত্তির অনুষ্ঠানটি মুক্তমঞ্চে হওয়ায় সবাই উপভোগ করেছে। অন্যদিকে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে প্রতিটি ক্লাবের আলাদা দায়িত্ব ছিল। পরিবেশিত হয়েছে নাটক, আবৃত্তি, নাচ-গান। বলা যায়, পুরো কুয়েট সেদিন দর্শক ছিল। করোনার আবহের পর এ রকম বড় অনুষ্ঠান আসলে সব শিক্ষার্থীর জন্যই একটা উপহার। লেখাপড়ার পাশাপাশি এই সবই তো আসলে ক্যাম্পাসজীবন। অনলাইনে এটা সম্ভব ছিল না।’