আব্বার সঙ্গে অভিমান

আজ ২০ জুন, বাবা দিবস। বাবাকে ভালোবাসার বিশেষ এই দিন উপলক্ষে পাঠকের কাছে লেখা আহ্বান করেছিল গোদরেজ প্রটেক্ট ও প্রথম আলো অনলাইন। ‘বাবা, তোমাকে বলা হয়নি’ শিরোনামে বিপুলসংখ্যক পাঠক তাঁদের বাবাকে নিয়ে অনুভূতিমালা লিখেছেন। এখানে নির্বাচিত লেখাগুলোর একটি প্রকাশিত হলো।

আব্বা বিরক্তির স্বরে বললেন, ‘কয়েক দিন আগেই তো টাকা পাঠালাম। এর মধ্যেই শেষ? এত টাকা তো আমি তোমাকে দিতে পারব না।’

অভিমান করে বললাম, ‘ঠিক আছে, আর এক টাকাও দেওয়া লাগবে না। পড়াশোনা করতে এসে তো বোঝা হয়ে গেছি তোমাদের।’

বলেই মুঠোফোনটা রেখে দিলাম। আব্বা অনেকবার কল দিলেন। রিসিভ করিনি। তিন দিন ধরে আব্বা কল দিয়ে গেলেন। অভিমানে একবারও রিসিভ করিনি।

একসময় মেজ আপা কল দিলেন। কথা হলো আপার সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আব্বা-মা তোর চিন্তায় খাওয়া-ঘুম ছেড়ে দিয়েছেন।’

ভীষণ খারাপ লাগল। কোনো কিছুতে আর মন বসে না। চারদিকে কেবল আব্বার মুখই ভেসে ওঠে। আরও এক দিন কেটে গেল। আর স্থির থাকতে পারলাম না। নিজেকে প্রচণ্ড অপরাধী মনে হতে লাগল। অভিমানের পাহাড় ধসে অশ্রুর সমুদ্র হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল এক্ষুনি আব্বার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু কোন মুখে ক্ষমা চাইব?

অবশেষে ফোন দিয়ে বললাম, ‘আব্বা, আমার ভুল হয়ে গেছে।’

আব্বা এমন ভঙ্গি করলেন যেন কিছুই হয়নি। কিছুক্ষণ পর টাকা পাঠালেন। আব্বার উদারতায় আরও বেশি যন্ত্রণা পাচ্ছিলাম। প্রাণখুলে ক্ষমা চাওয়াও হলো না।

কয়েক দিন পর মা জানালেন, ‘আমি বোঝা হয়ে গেছি’ এই কথার জন্য আব্বা ডুকরে কেঁদেছেন।

এসব শুনে মাথা এলোমেলো হয়ে গেল। ব্যাগ না গুছিয়েই এক কাপড়ে বাড়িতে গেলাম। কিন্তু আব্বা আগের মতোই স্বাভাবিক রইলেন। বলার সুযোগই দিলেন না কিছু। ইচ্ছা হচ্ছিল আব্বাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলি, ‘আব্বা, অনেক ভালোবাসি তোমাকে, আব্বা। অনেক।’