আমি অলিম্পিক গেমসের স্বেচ্ছাসেবক

লেখক যখন অলিম্পিক গেমসের স্বেচ্ছাসেবক
ছবি: সংগৃহীত

বছর কয়েক আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। কথা শুনে তাঁর ভক্ত হয়ে যাই। তবে কখনো সামনাসামনি দেখা পাব ভাবিনি। অলিম্পিক গেমসে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজের সুবাদে সানিয়া মির্জাকে সামনাসামনি দেখার সুযোগই শুধু পাইনি, তাঁর খেলাও দেখলাম সেদিন।

চলমান টোকিও অলিম্পিকে আমার মতো অনেকেই স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন। আমি টেনিস স্টেডিয়ামে আছি। এখানে বাংলাদেশের আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী আছেন, আছেন জাপানসহ অন্যান্য দেশের তরুণেরাও। আমরা আমাদের ক্লাস, পড়াশোনার হিসাব করে এখানে সময় দিচ্ছি।

২০১৮ সালে দেশে ছেড়ে এসেছি। জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি কলেজে অটোমোবাইল বিষয়ে ডিপ্লোমা করছি। তখন থেকেই টোকিওজুড়ে অলিম্পিকের আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছিল। আমি যে সাইতামা শহরে থাকি, সেখানে আমার মতো অনেক বাংলাদেশি আছেন। মাস তিনেক আগে আমার বন্ধু জাবেদ আলম জানাল, অলিম্পিক গেমসে কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে একটি এজেন্সি। তড়িঘড়ি দেখে আবেদন করি। কর্তৃপক্ষ ডেকে সাক্ষাৎকার নেয়। সাক্ষাৎকার বলতে ইংরেজি ও জাপানি ভাষার ওপর কতটা দখল আছে, তা-ই তারা বোঝার চেষ্টা করে। এরপর জানায়, আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।

টেনিস স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে আমার দায়িত্ব। অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখা। করোনার কারণে বেশ কড়াকড়ি এখানে। তাই দায়িত্ব পালনেও সতর্ক থাকতে হয়। আমাদের কাজের ধরনটা বেশ মজার। আধা ঘণ্টা কাজের পর বিরতি। মাঝরাত হলে এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় থাকার সুবিধা। আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে যদিও কথা হয়নি, তবে পরিমাণ যা শুনেছি, মন্দ নয়।

তবে এসবের জন্য আমি স্বেচ্ছাসেবক হইনি। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি অলিম্পিক গেমস আয়োজনের বিশালত্বের কথা। বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলার কথা। কত কত গৌরবের কথা। আমি এবার সেই অলিম্পিক আসরের একজন, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।