তুমি ভয়ানক ব্যস্ত থাকো। হাসপাতাল, বাসা, সব সামলে কীভাবে চাঙা থাকো, আমি ভেবে পাই না। এত ব্যস্ততার মধ্যেও আমার কী প্রয়োজন, কখনো ভুলে যাও না। দেখতে দেখতে মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষে পৌঁছে গেছি। কদিন পর হয়তো ডাক্তার হয়ে বেরও হয়ে যাব। কিন্তু আমার অনুপ্রেরণা তো তোমার কাছ থেকেই পাওয়া। তোমার অ্যাপ্রন আর স্টেথোস্কোপ নিয়ে খেলতে খেলতেই আজ হয়তো ডাক্তার হয়ে যাচ্ছি।

ছোটবেলার সেই খেলা সহজ ছিল। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা খুব কঠিন। কতবার হোঁচট খেয়েছি! আম্মা, তুমি না থাকলে, শক্ত করে না ধরলে এই পর্যন্ত আমি আসতে পারতাম না। আমি আমার জীবনে যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি; ঠিক হোক বা ভুল, তুমি পাশে ছিলে। মেডিকেলের পরীক্ষাগুলো কখনো মনে হয়েছে পড়ালেখার, কখনো জীবনের। তবু যতবার হোঁচট খেয়েছি, তুমি ধরে উঠিয়েছ।

খুব ছোটবেলায় আমাকে নৌকা আঁকতে দেখে তোমার মনে হয়েছিল, ছবি আঁকাটা আমাকে দিয়ে হবে। ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলে শিশু একাডেমিতে। তোমার উৎসাহেই আমার ছবি আঁকা শেখা। ছবি এঁকে পুরস্কার না পেলে মন খারাপ হতো। তুমি বলতে, ‘নিজের জন্য আঁকো।’ ছোট্ট একটা প্রতিযোগিতায় পেনসিল স্কেচ করে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটা কলম পেয়েছিল। সেই থেকে বেড়েছে আমার পুরস্কারের ঝুলি। এখন ‘আর্ট অ্যাটাক’ নামে আমার একটা ছবি আঁকার ফেসবুক পেজও আছে। হয়তো খুব ভালো আঁকি না। কিন্তু তোমার কথাটা আমি মনে রেখেছি, ‘নিজের জন্য আঁকো।

স্বপ্ন দেখি, ডাক্তার হয়ে একদিন তোমার সঙ্গে কাজ করব। তত দিন আল্লাহ যেন তোমাকে সুস্থ রাখেন।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন