গরুর মাংসের এই ক্ষতিকর দিকগুলোর কথা জেনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। গরুর মাংসে আছে প্রোটিন, ভিটামিন (বি১, বি৩, বি৬ ও বি১২), জিংক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন। এই পুষ্টি উপাদানগুলোর স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও অনেক। সাধারণত কোনো সুস্থ ব্যক্তি সপ্তাহে দুই দিন লাল মাংস গ্রহণ করলে তা তেমন কোনো জটিলতা তৈরি করে না। তবে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতাসহ অন্য রোগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাংস গ্রহণ করতে হবে।

নিয়ম মেনে মাংস গ্রহণ ও সঠিক উপায়ে রান্না করলে জটিলতামুক্ত থাকা যায়।

—মাংস রান্নায় দৃশ্যমান জমানো চর্বি বাদ দিয়ে রান্না করতে হবে। কম তেলে রান্না করতে হবে।

—মাংস রান্নার আগে ৫-১০ মিনিট সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিলে চর্বির অংশ অনেকটা কমে যায়। মাংস রান্না করুন উচ্চ তাপে।

—মাংস রান্নার সময় ভিনেগার, টক দই, পেঁপেবাটা ও লেবুর রস ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

—যাদের উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা আছে বা কোমরবিডিটি আছে, তারা একেবারেই না এড়াতে পারলে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এক–দুই টুকরো খেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মাংস রান্নায় সবজি ব্যবহার করতে হবে, যেমন কাঁচা পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া, টমেটো কিংবা মাশরুম। মাংসের সঙ্গে সবজি মিশিয়ে কাটলেট বা চপ করেও খেতে পারেন।

—প্রতিবেলায় খাবারের সঙ্গে এক কাপ পরিমাণ শসা, লেবু, টমেটো ইত্যাদির সালাদ রাখতে হবে।

—খাওয়ার কিছু সময় পর লেবুপানি বা টক দই খেলে হজমপ্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

—মাংস খাওয়ার সময় ঝোল বাদে খাওয়া ভালো। আবার ভুনা মাংসের পরিবর্তে কম তেলে গ্রিল, বারবিকিউ করে বা কাবাব বানিয়েও মাংস খেতে পারেন।

—তিন বেলা মাংসের তৈরি ভারী খাবার না খেয়ে, যেকোনো এক বেলা একেবারেই হালকা খাবার যেমন সবজির স্যুপ, সবজি ও ফলের নানা আইটেম রাখতে পারেন।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন