বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তৈরি করলেন তথ্য বোর্ডে মোড়ানো চাকার বাক্স। সেই বাক্সটি ঠেলে ঠেলে মানুষের কাছে যেতে লাগলেন। শোনাতে লাগলেন পরিচ্ছন্নতার কথা। স্থানীয় লোকজনের কাছে এখন তাঁর ওই চাকার বাক্সটি ‘সচেতনতার ঠেলাগাড়ি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সেই যে ২০১৩ সালে ‘সচেতনতার গাড়ি’ নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু, আজও তা চলছে। কখনো হাজির হচ্ছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কখনো পথেঘাটে, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। ঢাকা, গাজীপুর, খুলনা, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ ১০টি জেলা শহরের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষজনের মধ্যে তাঁর ভাবনার কথা ছড়িয়ে দিয়েছেন আমিনুল।

default-image

ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়ার আর্ট গ্যালারি এলাকায় আমিনুল ইসলামের বাড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে পড়াশোনা শেষে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে। বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজে।

ঠাকুরগাঁও শহরের আর্ট গ্যালারি মোড়ে আমিনুলের সঙ্গে দেখা। সচেতনতার গাড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। বোর্ডে নানা সচেতনতামূলক বার্তা। তাতে লেখা ‘বৃক্ষ আশীর্বাদ’। একটিতে লেখা ‘বাঁচব মোরা নিজের গাছের অক্সিজেনে’। কোনো পোস্টারে লেখা গাছ লাগানোর উপকারিতা।

আমিনুল ইসলাম জানান, ‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ তাঁর মূল উদ্যোগ। তবে করোনাকালের বিধিনিষেধ থেকে তাঁর মাথায় গাছ লাগানোর ভাবনাটি যুক্ত হয়। সেই থেকে চাকার বাক্সে গাছ লাগাতে সচেতন করতে নানা তথ্য জুড়ে দিয়ে প্রচারণা শুরু করি।’ নতুন এই উদ্যোগের নাম ‘বৃক্ষ আশীর্বাদ’। করোনায় আক্রান্তদের অক্সিজেনের অভাব আমিনুলকে নতুন এই উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে।

সচেতনতার পাশাপাশি এরই মধ্যে তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন কবরস্থানে ১০ হাজার বনজ গাছ লাগিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই আমিনুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বৃক্ষরোপণে মনোযোগী হয়েছেন।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন