আনিসুল হক

মিডিয়া ক্যাফে অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত জানাই। এই অনুষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, কিশোর আলো ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে। ‘নিরাপদ ইশকুলে ফিরি’ নামে একটি প্রচারাভিযান চলছে। আজকের মিডিয়া ক্যাফে তারই একটি অংশ। আজকে আমরা আলাপ করব করোনাকালে বাল্যবিবাহ, বর্তমান পরিস্থিতি ও এর থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে। ব্র্যাক এ বিষয়ে একটি জরিপ করেছে। জরিপে কী তথ্য উঠে এসেছে?

আবু সাইদ মো. জুয়েল মিয়া

করোনাকালে বাল্যবিবাহ তো বেড়েছেই। তার আগে বলা দরকার, আমাদের এ বিষয়ে কোনো বেজডলাইন ডেটা নেই। ২০১৮ সালে বাল্যবিবাহের হার কত ছিল বা ২০১৯ সালে তা কত ছিল—এ রকম করে তথ্য নেই। ইউনিসেফের একটা প্রিভিলেন্স ডেটা আছে। ১৯ থেকে ২৪ বছরের বয়সী নারীদের মধ্যে এ জরিপ করা হয়েছিল। সেখানে এসেছে, এসব নারীর ৫১ ভাগের বাল্যবিবাহ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সীদের বাল্যবিবাহের হার ১৮ শতাংশ। এ জরিপকে ভিত্তি হিসেবে ধরলে দেশে করোনা–পরবর্তী সময়ে ৫১ শতাংশ বাল্যবিবাহ হতো।

আমরা ব্র্যাক থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একটি জরিপ করেছি। এ জরিপ ৬ হাজার ৩০০ খানার ওপর করা হয়। কোনো পরিবারে কোনো বিয়ে হলে তা কত বছর বয়সে হয়েছে—সেটি পরিবারগুলোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। জরিপে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসের তথ্য নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার তথ্যানুযায়ী ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ হয়েছে। ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে এসব নারীর বয়স ছিল ১৬ বছরের নিচে। আমরা একটি কৌশলী প্রশ্ন করেছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম, বিয়ের সময় মেয়েটি কোন শ্রেণিতে পড়ত। যখন কোন শ্রেণিতে পড়ত—তা ধরে হিসাব করে একটা ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা গেল, প্রায় ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা ছয় বছর বয়সে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। বেশির ভাগ অভিভাবক সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। সেভাবে আমরা হিসাব করেছি। এ ছাড়া স্কুল খোলার পর অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরছে না বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আমরা দেখেছি। এমনকি একটি শ্রেণিতে মাত্র একজন মেয়ে আসার ঘটনাও ঘটেছে। বাকিরা আসেনি কেন? কারণ, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এ রকম অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়। করোনাকালে বাল্যবিবাহ কত শতাংশ বেড়েছে, তা হয়তো আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। কিন্তু করোনাকালে বাল্যবিবাহ যে বেড়েছে, তা নিশ্চিত।

আনিসুল হক

ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। যদি কেউ তর্কের খাতিরে দাবিও করে যে তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া মেয়েটির ১৮ বছর হয়েছিল, তবু সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা কখনো চাইব না ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া কোনো মেয়ের বিয়ে হোক। আমাদের আশা থাকে, তারা অন্তত মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করবে। ঠিক কোন কারণ দেখিয়ে অভিভাবকেরা তাদের বিয়ে দিচ্ছে?

আবু সাইদ মো. জুয়েল মিয়া

আমরা একটি গুণগত গবেষণা করেছিলাম। জরিপের বাইরে কিছু ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। যেখানে অভিভাবক তাঁর মেয়েকে কেন বিয়ে দিলেন, তা জিজ্ঞেস করা হয়। অভিভাবকেরা জানান, স্কুল তো বন্ধ, মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে না। করোনাকালে গ্রামের অনেক স্কুলে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম ছিল না বললেই চলে। শহরে অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ছিল। ফলে মেয়েরা ঘরে অলস বসে ছিল। এটিও বাল্যবিবাহের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আনিসুল হক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বাল্যবিবাহের একটা কারণ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। সামিয়া আহমেদ, আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী বলে?

সামিয়া আহমেদ

প্রায় ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে করোনাকালে অনেক বাবা-মায়ের আয়–উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার গ্রামে ফিরে গেছে বলেও গবেষণায় এসেছে। গ্রামে ফিরে যাওয়া, আয়–উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাল্যবিয়ের পাশাপাশি শিশুশ্রমও বেড়েছে। অর্থাৎ অভিভাবকেরা ছেলেশিশুকে শিশুশ্রমে নিযুক্ত করছেন, আর মেয়েশিশুকে বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন। এর ফলে সংসার থেকে একটা খাওয়ার পেট কমে গেল।

এ ছাড়া বাল্যবিবাহের আরও কিছু কারণ আছে। সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে নানাভাবে মেয়েদের উত্ত্যক্তের শিকার হওয়া, যৌন হয়রানি ও নিরাপত্তার প্রচণ্ড অভাব। অভিভাবকেরা মেয়েকে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচাতে ‘সৎ পাত্রে’র কাছে বিয়ে দিয়ে দেওয়া ভালো মনে করেন। এ ক্ষেত্রে যিনি তিন বেলা মেয়েকে খাওয়াতে পারবেন, তিনিই সৎ পাত্র। আর মেয়ের বয়স বেড়ে গেলে সৎ পাত্র হাতছাড়া হবে বলে অভিভাবকেরা মনে করেন।

করোনাকালে মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব বাল্যবিবাহ বাড়ার অন্যতম কারণ। এগুলোর কারণে অভিভাবকেরা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনটি সামাজিকভাবে মেনে নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অনেক প্রচারণা চালানো হয়েছে। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েরা অল্প বয়সে গর্ভবতী হচ্ছে। ১৮ বছরের আগেই তারা মা হচ্ছে। এ জন্য তারা স্বাস্থ্যগত সমস্যাসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আবার মেয়েটির স্বাস্থ্য ভেঙে গেলে পাত্র বহুবিবাহের দিকে চলে যাচ্ছে। তাই সবাই মিলে বাল্যবিবাহ রোধে চেষ্টা চালাতে হবে।

আনিসুল হক

বাল্যবিবাহ রোধে আমরা অনেক প্রচার করছি। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। তার মানে আমাদের এ প্রচার শহরাঞ্চল ও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে৷ গ্রামে, সাধারণ পরিবারগুলোর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারছি না। কিন্তু আমাদের কাজী সাহেবেরা এটা সহজেই পারেন। মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ, আপনার অভিজ্ঞতা বলবেন, করোনাকালে কি বাল্যবিবাহ বাড়ল? কীভাবে আমরা বাল্যবিবাহ কমাতে পারি?

মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ

করোনাকালে বাল্যবিবাহ বেড়েছে৷ এ বিষয় নিয়ে আমরা পত্রপত্রিকায় অনেক খবর দেখেছি।

জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী যেসব ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের ১৮, তাঁরাই আমাদের কাছে আসেন। আমরা কেবল তাঁদের বিয়েই নিবন্ধন করি। এ ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি আরও শক্তিশালী হলে ভালো হতো। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা ভোটার আইডি কার্ড বা জন্মনিবন্ধন সনদ কিছু কম্পিউটার দোকান থেকে তৈরি করে নিয়ে আসেন। সেগুলো অনলাইনে যাচাই করলে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে মেয়ের বয়স ১৮ হয়নি। কিন্তু ভুয়া জন্মনিবন্ধন নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে। অনলাইনে যাচাই করে জানা যায়, তাঁদের বয়স ১৮ হয়নি। আমি অনলাইনে বিষয়টি যাচাই করতে পারছি। কিন্তু গ্রামে–গঞ্জে অনেক কাজীর পক্ষে এটি যাচাই করা সম্ভব হয় না। ফলে তাঁরা বিয়ে নিবন্ধন করে ফেলেন।

বাল্যবিবাহ নির্মূলের জন্য আমার প্রস্তাব হচ্ছে, একটি শিশু জন্মের পর তার একটি ইউনিক আইডি (অদ্বিতীয় শনাক্তকরণ নম্বর) তৈরি করতে হবে। যেখানে জন্মতারিখ, জন্মসাল ও পোস্টকোড যুক্ত থাকবে। এই একই শনাক্তকরণ নম্বরই হবে তার এসএসসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর। তার পাসপোর্ট নম্বরও এই আইডি দিয়েই করা যেতে পারে। এটা করা গেলে ভুয়া জন্মনিবন্ধন দিয়ে বিবাহ নিবন্ধন করা সম্ভব হবে না। জন্মনিবন্ধন সনদ করতেও এখন বেশ হয়রানির শিকার হতে হয়। অদ্বিতীয় শনাক্তকরণ নম্বর থাকলে এসব সমস্যা কমে আসবে। বাংলাদেশের আইনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ছেলের ক্ষেত্রে ২১ ও মেয়ের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের ওপর হতে হবে। এর কম বয়সে বিয়ে দিলে বাংলাদেশের আইনে তিনি অপরাধী। আমরা বিষয়টি সব সময় মেনে চলার চেষ্টা করি।

আনিসুল হক

১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে বা ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে দিলে বাংলাদেশের আইনে সেটা অপরাধ৷ বিয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইনে দৃষ্টিতে অপরাধ করেন। আবু সাইদ মো. জুয়েল মিয়া, আমরা কীভাবে বাল্যবিবাহ কমিয়ে আনতে পারব? বাল্যবিবাহ নির্মূলে ভবিষ্যৎ চিন্তাটা আমাদের কেমন হওয়া উচিত?

আবু সাইদ মো. জুয়েল মিয়া

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় বাল্যবিবাহের হার বেড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে হয়তো এর ভয়াবহতা এখন যেটা দেখা যাচ্ছে, তার চেয়ে কম হতো। তাই মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা খুবই জরুরি। সম্প্রতি করোনার অমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। এখনই বোঝা যাচ্ছে না, কী হবে। যদি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলেও আমাদের আহ্বান থাকবে, শিক্ষা কার্যক্রম যেন চালু থাকে, তা নিশ্চত করা। পরিবার যেন সন্তানদের বোঝা মনে না করে, সে জন্য উপবৃত্তি বাড়ানো যেতে পারে। সংখ্যা ও পরিমাণ দুটোই।

আনিসুল হক

এ বিষয়ে সামিয়া আহমেদ কী পরামর্শ দেবেন?

সামিয়া আহমেদ

এটি ভালো প্রস্তাব। বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আয়–উপার্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাখা দরকার। এ ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক কিছু কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। হাঁস–মুরগি, গরু–ছাগল পালন কার্যক্রমগুলো ব্যাপকভাবে নেওয়া গেলে শিশুরা শিশুশ্রমে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে বাড়িতেই মা–বাবাকে সাহায্য করতে পারে। তখন শিশুকে মা–বাবার কাছে বোঝা মনে হবে না। অভিভাবকদের উপার্জনের পথ অবশ্যই চালু রাখতে হবে।

আনিসুল হক

আবদুল ওয়াহেদ, বাল্যবিবাহ নির্মূলে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ

অভিভাবকদের সচেতন করা খুবই দরকার। বাল্যবিবাহ রোধ করতে হলে বিভিন্ন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল ও মহল্লায় এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। অপরিণত বয়সে বিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিভিন্ন রকমের কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে৷ আমি বলব, সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

আনিসুল হক

বাল্যবিবাহ রোধে আমরা অনেকগুলো সুন্দর পরামর্শ পেয়েছি। আমরা চাই, শিশুরা নিরাপদে স্কুলে ফিরে আসুক। ‘নিরাপদ ইশকুলে ফিরি’—এটা শুধু স্লোগান না থেকে সঠিকভাবে সারা দেশে বাস্তবায়িত হোক। আজকের মিডিয়া ক্যাফেতে যোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।

সুপারিশ

● বাল্যবিয়ে নির্মূলে স্কুল চালু রাখা হবে অন্যতম বড় পদক্ষেপ। করোনাকালে যদি স্কুল বন্ধ রাখতেই হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে ‘সব শিশুর জন্য শিক্ষা’ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

● বাল্যবিয়ে বন্ধে কাজীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কাজীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

● প্রতিটি শিশুর জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করতে হবে, যা বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

● দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া জরুরি। অভিভাবকেরা যেন বাড়িতে বসে উপার্জন করতে পারে, সে জন্য সরকারি–বেসরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

● বাল্যবিয়ে নির্মূলে সচেতনতার বিকল্প নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সভা–সমিতির মাধ্যমে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে।