ফেরদৌসী বেগম

অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে প্রান্তিক তরুণদের জন্য ‘ওয়াই-মুভস’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের জরিপ তথ্য তুলে ধরবেন নীলুফার নার্গিস পূর্বাশা।

নীলুফার নার্গিস পূর্বাশা

আমরা দেশের ২৬টি কার্যকর কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর কমিউনিটি স্কোরকার্ড জরিপ পরিচালনা করেছি। মোট ৮৭৬ জন কিশোর-কিশোরী এই জরিপে অংশ নেয়, যাদের মধ্যে ৫৬৫ জন কিশোরী এবং ৩১১ জন কিশোর। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসমূহে সেবাপ্রদানকারীরাও এই জরিপে অংশ নেন। এই স্কোরকার্ডে আমরা দেখতে পাই কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরিচালিত জরিপে কেন্দ্রগুলো গড়ে ৭৩ শতাংশ স্কোর পেয়েছে এবং সেবাপ্রদানকারীদের ওপর পরিচালিত জরিপে কেন্দ্রগুলো পেয়েছে গড়ে ৮৩ শতাংশ স্কোর।

২০২১ সালের মে ও নভেম্বর মাসে এই স্কোরকার্ড জরিপ চালানো হয়। এই জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। জরিপ মতে, জেলা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে সেবাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই সময়ে। মে মাসের জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়, যা উঠে আসে নভেম্বরের জরিপের ফলাফলে। জরিপে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা কেন্দ্রের বিশ্রামাগার, নিরাপদ ও সুপেয় পানি এবং মেয়ে ও ছেলেদের জন্য পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। তবে ঢাকার মাতৃসদন, শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ লালমনিরহাট, নীলফামারি, নওগাঁ, ঝালকাঠির মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা অনুপস্থিত পাওয়া যায়। একই চিত্র কক্সবাজারের বাহারসরা, যশোরের সাগরদাঁড়ি, কুড়িগ্রামের বারুবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রেও। জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলর অনুপস্থিত দীর্ঘদিন ধরে।

মোহাম্মদ শরীফ

কৈশোর স্বাস্থ্যের বিষয়টি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশল তৈরি করেছি। করোনা বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে। করোনার সময় সাধারণ চিকিৎসা দেওয়াই কঠিন ব্যাপার ছিল। সেখানে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া আরও কঠিন। সরকার ৫৯২টি মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সেখানে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। ৫৯২টি কেন্দ্র হওয়ার পরে পরবর্তী সবগুলো কেন্দ্রই এ মডেল কেন্দ্রের আদলে করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৫৯টি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র করা হয়েছে। শিগগিরই এখানে ৩১৮ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের দেশে সাধারণত ভবন হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় পদ তৈরি হয় না। এখানে আমরা প্রয়োজনীয় পদ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। জেলা পর্যায়ে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতাল করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনেক দিক থেকেই আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে।

মো. জয়নাল হক

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর তথা এমসিএস সেবা ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমরা যৌথভাবে অন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে এসব পরিদর্শন করেছি। এ ক্ষেত্রে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালসহ অনেক সংস্থা আমাদের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করেছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ‘ওয়াই-মুভস’ ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সুন্দর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য বা পরামর্শ প্রয়োজন হলে, তা সহায়তা করা হবে।

স্কোরকার্ড তৈরিতে আমরা অনেক শ্রম দিয়েছিলাম। অনেক পরিশ্রমের ফলেই এ স্কোরকার্ড এ পর্যায়ে এসেছে। এ স্কোরকার্ডটি হালনাগাদ ও সবার পরামর্শ নিয়ে করা হয়েছে, যা এখন ওয়াই-মুভসের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আজকের আলোচনায় অনেকগুলো বিষয় জানানো গেছে। এ তথ্য ও আপনাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আপনাদের অভিজ্ঞতাগুলো ব্যবহারিকভাবে আমাদের সেবাকেন্দ্রে কাজে লাগালে কেন্দ্রগুলো উপকৃত হবে। আপনাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিষয়ে পরিবার ও পরিকল্পনা অধিদপ্তর সচেতন থাকবে। পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনাদের যৌক্তিক পরামর্শগুলো বিবেচনায় নিবে। সবাই যেন কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নিয়ে কার্যক্রমগুলোতে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের পরামর্শগুলো বিবেচনায় রাখেন। কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণ ও স্বাস্থ্য উন্নত করা আমাদের সবার উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে আমরা সবাই একনিষ্ঠভাবে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখব।

তৃপ্তি বালা

আমরা কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্য কর্নার করেছি। কয়েকটি জেলায় এসব কেন্দ্রের সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে গেছে। সে জন্য কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ও যাতায়াতের পথে নির্দেশনা ও তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড নিশ্চিত করতে হবে।এখানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে স্থানীয় লজিস্টিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ পেতে পারি। উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভার বৈঠকে আমাদের প্রতিনিধি সব সময় আমন্ত্রিত থাকেন। এ সভায় বাজেট বরাদ্দ থাকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরাদ্দ প্রয়োজনের বিষয়ে জানাতে পারেন। তাহলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বরাদ্দ দিতে পারেন। স্থানীয় সরকারের বেশ বড় একটা বরাদ্দ থাকে। আমরা সবাই চাই যেন সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা না হয়। এ জন্য সরকারে বরাদ্দ রয়েছে। এ খাতে সময় সময় বরাদ্দ বাড়ানো বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সেগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ দায়িত্ব আমাদের সবার। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। সুতরাং তাদের যথাযথ সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে সেবা দিতে হবে।

মো. মনজুর হোসেন

যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে তার সঠিক পরিকল্পনার ওপর। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলে–মেয়েদের স্বাস্থ্যমান উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের পরিকল্পনায় গৃহীত পরামর্শগুলো আমরা কিশোর-কিশোরীদের জন্য গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব। তাদের ‘ওয়াই-মুভস’ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা সবাই একত্রে কাজ করব। আমি আশা করছি, ওয়াই-মুভস আন্দোলন একদিন ‘উই-মুভস’ আন্দোলনে রূপ নেবে।

আফরোজ মহল

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। সরকার করোনার মতো কঠিন সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন পদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। আমরা সরকারি–বেসরকারি সংস্থার সামর্থ্য ও প্রেক্ষিত বিবেচনা করে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছি। সরকার ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি মুভমেন্ট ইন স্কুল’ নামে একটি যুগান্তকারী কার্যক্রম চালু করছে, যা কৈশোরকালীন পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। সরকারের এ কাজের সম্পৃক্ততা হিসেবে আমরা এক হাজারের বেশি স্কুলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। এর আওতা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু কৈশোরের পরিবর্তনগুলো আরও আগে আসা শুরু হয়। সে জন্য প্রাথমিক শিক্ষায় এ ধরনের আরেকটি মডিউল তৈরির জন্য আমরা সরকারের শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছি। স্কুলে এ বিষয়গুলো শেখালে শিশু ও অভিভাবকেরা আলোকিত হন। এ উদ্যোগে শিশুর অভিভাবকদের যুক্ত করার ভালো সুযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক শেষে মাধ্যমিকে এসে অনেক শিক্ষার্থীর, বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই স্কুলের বাইরে থাকা কিশোর-কিশোরীদের নিয়েও আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি। শিগগিরই আমরা ভোলায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন মাসিক ব্যবস্থাপনা জ্ঞান বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছি। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয় মাধ্যমে শিক্ষণগুলো বিনিময় করা হবে। সবশেষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরও কাজ করার আশা প্রকাশ করছি।

ওয়াহিদা বানু

অপরাজেয় বাংলাদেশ শিশু-কিশোর ও দরিদ্র নারীদের নিয়ে কাজ করে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে কিশোরীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরা স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি ও ব্যবহার করে। এ ধারণা সবাই কাজে লাগাতে পারে, যেন কিশোরীরা নিজেরাই স্বল্প খরচে স্যানিটারি ন্যাপকিন বানাতে ও ব্যবহার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অপরাজেয় বাংলাদেশ সহায়তা করবে। গত কয়েক বছর আগে আমরা পরিচ্ছন্ন মাসিক ব্যবস্থাপনার ওপর একটি গবেষণা করেছি, যা নিয়ে আমাদের বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা একটি বই রয়েছে, যেখানে এ–সংক্রান্ত অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে। কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করা গেলে সেখানে একটা কৈশোরবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। স্থানীয় কমিটিগুলো শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে নিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা ভালো কাজ করতে পারব। সরকারের মন্ত্রণালয়ে অনেক টাকা বরাদ্দ থাকে। কিন্তু দেখা যায়, বছর শেষে সব টাকা ব্যয় হয় না। এ বরাদ্দের যথাযথ জায়গায় যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের লবিং ও অ্যাডভোকেসি শক্তিশালী করতে হবে।

রাজিয়া সুলতানা

ওয়াই-মুভস প্রকল্প শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় কাজ করছে। প্রকল্পটি সিডার সহযোগিতায় ২০১৯ সালে কাজ শুরু করে। এর লক্ষ্য যুবাদের, বিশেষ করে কন্যাশিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অধিকার, স্বাস্থ্য ও যৌন প্রজননস্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা। যুবাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পার্টনারশিপ শক্তিশালীকরণ, তথ্য-উপাত্ত সংগঠিতকরণ ও জেন্ডারভিত্তিক যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ আমাদের কাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ওয়াই-মুভস প্রকল্প টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৩ ও ৫ নিয়ে কাজ করছে। আমরা ইতিমধ্যে ওয়াই-মুভস প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৭-২০৩০ এর অংশ হিসেবে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেওয়া বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সঙ্গে অ্যাডভোকেসি এবং সরকারের সমর্থন লাভের জন্য বার্ষিক বাজেট বিশ্লেষণও করেছি।

স্কোরকার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের বিভিন্ন জেলার কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে চেষ্টা করেছি। এটি এ প্রকল্পের একটি চলমান কার্যক্রম।

নীলিমা ইয়াসমিন

কিশোর-কিশোরী ও যুবাদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, অধিকার ও কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়াই-মুভস প্রকল্পের মধ্য দিয়ে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল অংশীদার সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। সরকার কিশোর ও যুবাদের সুস্বাস্থ্য এবং যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশল ২০১৭-২০৩০ গঠন করেছে। রয়েছে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা। সরকারের এসব কাজে সহযোগিতা করার অংশ হিসেবে ওয়াই-মুভস প্রকল্প থেকে কমিউনিটি স্কোরকার্ড জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ সেবা মান রয়েছে কি না, চ্যালেঞ্জগুলো কী, কোন স্থানে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা এই কমিউনিটি স্কোরকার্ডের মাধ্যমে আমরা দেখতে চেয়েছি। আমাদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে সেবামান বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি জরিপে উঠে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যেন কিশোর-কিশোরী ও যুবারা উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা পায়।

সুপারিশ

  • প্রতিটি মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে পৃথক শৌচাগারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

  • কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের পথে নির্দেশনা ও এ–সংক্রান্ত তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা দরকার।

  • কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য সরকারি–বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

  • কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করে একটা কৈশোরবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।

  • কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন