৫৫ বছর বয়সী তারা মিয়ার সঙ্গে কথা হলো সেদিন। জানালেন, একসময় ব্যবসা করতেন। মুদিদোকান ছিল। এই ব্যবসা ভালো লাগেনি। তখনই টুকটাক ঘটকালির কাজ করতেন। একটু রসিক প্রকৃতির মানুষ বলে এলাকায় তাঁর পরিচিতি আছে। সেই পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ব্যবসা ছেড়ে পছন্দের কাজ ঘটকালিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

তারা মিয়া জানান, ঘটক হিসেবে তাঁর এই যাত্রা শুরু নিজের শ্যালিকার বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। ২০১২ সাল থেকে চলছে তাঁর বিয়ের ঘটকের কাজ। তা–ও আবার বাইসাইকেলে গান বাজিয়ে। প্রতিদিনই তিনি কোনো না কোনো এলাকা বেড়িয়ে থাকেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বর থাকে অনেকের কাছে। ডাক পড়লে সেখানে ছুটে যান। আর সাইকেলের পেছনের বাক্সে আছে পাত্র-পাত্রীর ছবি ও তাদের জীবনবৃত্তান্ত।

default-image

ঘটক তারা মিয়া এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি বিয়ে দিয়েছেন। দুই পক্ষ থেকেই কিছু সম্মানী নেন বলে জানালেন। তাঁর ভাষায়, ‘দুই পক্ষই খুশি হয়ে সম্মান করেন। তবে টাকার পরিমাণ বলতে নেই।’

রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় সাইকেলে তিনি বেশি বেড়িয়েছেন। এই এলাকায় অনেক বিয়েও দিয়েছেন। তেমনি একটি পরিবারের সদস্য পায়রাবন্দ এলাকায় কৃষক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রায় শুনতে পাই, তিনি (তারা মিয়া) এই এলাকা দিয়ে যান। মানুষজনের সঙ্গে কথাও হয়। একদিন তাঁর মোবাইল নম্বরে কথা বলি। তিনি তাঁর কথামতো ছুটে এলেন। আমার দুই মেয়ের মধ্যে একজনের জন্য অনেক পাত্রের ছবি দেখালেন। যোগসূত্র করে দিলেন। বিয়েও হয়ে গেল। এতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। তেমন টাকাও দাবি করেননি তিনি।’

তারা মিয়া অভাব-অনটনের কারণে নিম্নমাধ্যমিকের পর পড়াশোনা করতে পারেননি। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অভাবের জীবন তাঁর। তবু বললেন, ‘দুটি টিনের ঘরে কষ্ট করে বসবাস করলেও পরিবার–পরিজন নিয়ে সুখেই আছি।’

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন