বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঘরে ঢুকেই ফ্যান ছেড়ে চিত হয়ে শুয়ে পড়ি। আর তখনই তুমি ঘরে ঢোকো দুটো গ্লাস হাতে। একটাতে পানি, আরেকটাতে লেবুর শরবত। আহ! ইচ্ছা করে চিৎকার করে বলি, ‘লাভ ইউ!’ কিন্তু বলা হয় না। তবু ভাবি, তুমি হয়তো ঠিকই আমার মনের কথা বোঝো। ঠিক যেভাবে না বলতেই বুঝে যাও, আমার এখন পানি আর শরবত চাই!

যেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফিরছিলাম, তুমি আর আমি রিকশায় ছিলাম। প্রশিকার কাছে একটা বাস দেখিয়ে বলেছিলে, ‘ওই দেখো, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চৈতালি” লেখা। এখান থেকেই উঠতে পারবে।’ তুমিই আমার ভার্সিটির বাসটা চিনিয়ে দিয়েছিলে।

আরও কত কী চিনেছি তোমার হাত ধরে! তৃতীয় শ্রেণিতে যখন পড়ি, শিশু একাডেমির ছবি আঁকার ক্লাস শেষে তোমার হাত ধরে দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি পর্যন্ত হাঁটতাম। বিকেলবেলায়। রাস্তা তখন অনেকটাই ফাঁকা থাকত। কী যে ভালো লাগত হাঁটতে। কী সুন্দর সেসব মুহূর্ত!

তোমার হাতেই আমার হাতেখড়ি। তুমি ছাড়া এত দূর আসতে পারতাম না। এই প্রিয় চারুকলা অনুষদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে। আমি তখন থাকতাম কর্মশালায়। ভর্তির জন্য কী কষ্ট দিয়েছিলাম তোমাকে...!

তোমার জন্য কিছু একটা করতে ইচ্ছা করছিল সেদিন। কী করি... ভাবতে ভাবতে একসময় মনে হলো, কেক বানাই। ইউটিউব ঘেঁটে ‘সহজে কেক বানানোর পদ্ধতি’টা দেখে নিলাম। শুরুটা ঠিকই ছিল। কিন্তু পরে যে বস্তু বানালাম, সেটা আর যা-ই হোক, কেক হয়নি। বিস্কুট বলা যায়।

তোমার জন্য কিছুই তো করতে পারলাম না। তবু তুমি বলো অনেক কিছু করেছি। কই? সারাটা জীবন তুমিই তো করলে।

প্রিয় মা, শোনো, তুমি সবাইকে তোমার ছেলেমেয়ে ভাববে না। সবাইকে কেন একই রকম করে ভালোবাসবে? শুধু আমাকেই ভালোবাসবে। বেশি বেশি! অনেক অনেক ভালোবাসা নাও। আর কিছুই তো দিতে পারলাম না।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন