২০১৫ সালের শেষ দিকে যখন নোয়াখালী জিলা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাই, গণিতের অংশটা একটু খারাপ হওয়ার পরও তুমি সাহস জুগিয়েছিলে। পরে দেখি টিকে গেছি স্কুলে! ২০১৬ সালের শেষের দিকে গণিত অলিম্পিয়াড হলো। আমি যেতে চাইনি, কারণ হাতে ছিল মাত্র এক দিন। তোমার উৎসাহেই ফেনীতে গেলাম তোমার সঙ্গে। মনে আছে মা? বিজয়ীদের মধ্যে যখন আর মাত্র একজনের নাম ঘোষণা বাকি, আমি তখন হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। তুমি ঠিকই ঈশ্বরের নাম জপছিলে। মাইকে আমার নাম ঘোষণার পর তোমার সে কী আনন্দ!

২০১৭ সালেও তুমিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিলে প্রথম আলোর ভাষা প্রতিযোগে। বলেছিলে, ‘বাবা, তুই পারবি। শুধু ভরসা রাখ!’ তখন ভাবতেও পারিনি, ২০১৮ সালে এই প্রতিযোগিতায়ই আমি ‘সেরাদের সেরা’ হব! তোমার অনুপ্রেরণায়, তোমার উৎসাহে কমনওয়েলথের রচনা প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পুরস্কার পেয়েছি দুবার। এই সব পুরস্কার তোমার।

করোনা আমাদের জীবনে বড় ধাক্কা দিয়ে গেছে। বাবা দুই বার হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছে। আমরা হারিয়েছি প্রিয় মেসোমশাইকে। সবাই ভেঙে পড়লেও তুমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে গেছ আপ্রাণ।

আমি তোমার ছোট বাবাটাই আছি, ছিলাম, থাকব।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন