বিজ্ঞাপন

তাসনিয়া আলম হান্নান
তাসনিয়া আলম হান্নান
সহযোগী পরিচালক, অর্থ বিভাগ, নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার ও কো-ফাউন্ডার, অ্যারিজ ফাউন্ডেশন

default-image

কিশোয়ার, তিনি কী চমৎকার রান্না করেন! মাস্টারশেফে তাঁকে অনুসরণ করেছি। তাঁর রান্না দেখে আমারও নতুন নতুন খাবার রান্না করতে ইচ্ছা করে। এই যে তিনি বাংলাদেশের গ্রামবাংলার রোজকার খাবারকে অসাধারণ করে তোলার একটা সৃজনশীল গুণ রাখেন, এটা সত্যিই অনুকরণীয়। বিশ্বাসই হয় না এ খাবার এখন অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার অন্দরমহলে বিচরণ করছে। বিশেষ করে আকর্ষণীয় এবং চটকদার করে পরিবেশন করাটা দারুণ লাগে আমার। কিশোয়ারের লেখা বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম। তিনি বাংলাদেশি অনেক নারীকে সাহস জোগাবেন নিঃসন্দেহে।
তাঁর আগামী পথচলা আরও সুন্দর হোক।

সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান
চিকিৎসক ও উদ্যোক্তা, অমরাবতী-অপরাজিতা হেলথকেয়ার

default-image

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নারীদের প্রতিনিধি কিশোয়ার, এ মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আইরিশ বংশোদ্ভূত মেয়েদের একটা আলাদা পরিচয় আছে। শত বছর আগে আইরিশ মেয়েরা অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সে অর্থে বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ার মূলধারায় কাজ করছেন। কিন্তু মাস্টারশেফের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নামকে কিশোয়ার এত বড় করে উপস্থাপন করেছেন যে তা একদিকে যেমন বাংলাদেশকে নতুন করে তুলে ধরা, তেমনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নারীদেরও নতুন মর্যাদা এনে দেওয়া। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, ভাষা আমাদের গর্বের পরিচয়। কিশোয়ারও নতুন করে আমাদের গর্বিত করেছেন। এখানে বড় হওয়া নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে তাই কিশোয়ারই “বাংলাদেশ”।’

উর্মী চাকমা
গবেষণা ও শিক্ষা সহযোগী, শিক্ষা অনুষদ, মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়, মেলবোর্ন

default-image

কিশোয়ারকে নারী উন্নয়নের কারিগর হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন পেশাদার। আমি আমার কর্মের মধ্য দিয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমি চাই সবাই তাঁদের গুণ, কলা, সৃজনশক্তি দিয়ে সুন্দর একটা জীবন উপভোগ করুক। মাস্টারশেফে কিশোয়ারের সাফল্য আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করে। আমি নিশ্চিত অনেক নারীই একেকজন কিশোয়ার হতে চাইবেন। আর এভাবেই নারীরা এগিয়ে আসবেন, ভূমিকা রাখবেন সমাজের উন্নয়নে।’

সেলিমা বেগম
ফার্মাসিস্ট ও রেজিস্টার্ড নার্স, নিউরোসার্জিক্যাল ইউনিট, লিভারপুল হাসপাতাল

default-image

বাংলাদেশের লাখো নারীর জন্য কিশোয়ার মুক্তির চাবি, এমন মন্তব্য তাঁর। বলেন, ‘আমাদের সমাজে মেয়েদের অবস্থান অনেকটা উন্নত হয়েছে। শিক্ষা-কর্মে মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে সমাজ মেয়েদের যে মানসিকতা তৈরি করেছে, সেটা অনেকটা শিকলে বন্দীর মতোই। মেয়েদের এখনো মুক্তচিন্তার অধিকার দেওয়া হয় না। নিজের স্বপ্ন পূরণে পেরোতে হয় অনেক বাধা। এমন সময় কিশোয়ার হলেন একজন মুক্তির দূত। তিনি দেখিয়েছেন, স্বপ্ন কখনো নারী–পুরুষের হয় না, স্বপ্ন দেখা ও পূরণ করা—দুটিই সবার সমান অধিকার।’

সৈয়দা রাজী
মডেল ও হেয়ার ড্রেসার, কেয়ার ফর হেয়ার, সিডনি

default-image

বাংলাদেশি খাবারকে নতুন পরিচয় দিয়েছেন কিশোয়ার, ভাবনা তাঁর। বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেশীয় খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের দেশের খাবার খুব সাদামাটাই লাগত। মনে হতো এগুলো রান্না করা খুব সহজ। এতে কোনো আভিজাত্য নেই। তবে সেই একই খাবার যখন কিশোয়ার তুলে ধরলেন মাস্টারশেফের মঞ্চে, তখন তাঁর রান্না করা বেগুনভর্তা বা আলুভর্তা দেখেও রাজকীয় খাবার মনে হয়। এখন প্রতিবার রান্না করার সময় প্রতিটা বাংলাদেশি পদই আরও যত্ন করে রান্না করার চেষ্টা করি। খুব ভালো লাগে। ধন্যবাদ কিশোয়ারকে, আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য।’

সাবরিন ফারুকি
কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট, নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন এবং বর্ষসেরা নারী ২০১৮, নিউ সাউথ ওয়েলস

default-image

কিশোয়ারকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘কিশোয়ার একজন রোল মডেল। নিজের কর্মকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে নারী হিসেবে প্রচণ্ড সাহস আর অনুপ্রেরণা দরকার। অস্ট্রেলিয়ায় যদিও নারী–পুরুষের ভেদাভেদ তুলনামূলক কম। তবে বাংলাদেশি খাবারকে কিশোয়ার যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা–ও মাস্টারশেফের মতো একটা মঞ্চে, সেটা যে কারও জন্যই একটা বিশাল ব্যাপার। নারী হিসেবে তাঁর এ কর্ম আমাকে অনেক উৎসাহিত করে, আরও সাহস জোগাবে। তাঁর এই সাফল্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।’

সাকিনা আক্তার
প্রপার্টি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার, এল জে হুকার রিয়েল স্টেট

default-image

নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা শিখিয়েছেন কিশোয়ার, অভিমত তাঁর। আরও বলেন, ‘এই প্রতিবেদকের নেওয়া কিশোয়ারের একটি অডিও সাক্ষাৎকার শুনেছিলাম। সেখানে কিশোয়ার সবশেষে বলেছিলেন, নিজের আবেগ আর স্বপ্নকে অনুসরণ করো, তবে সেটা পেতে গিয়ে নিজেকে বদলে ফেলো না। কথাটি আমার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্তে, টানাপোড়েনে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা খুবই জরুরি। তাঁর এই কথা বারবার প্রতিফলিত হয়েছে এই মাস্টারশেফ–যাত্রায়। নারীদের নানান বাধা ডিঙিয়ে চলতে হয়। কিশোয়ার শিখিয়েছেন, কীভাবে সব পরিস্থিতেই মাথা ঠান্ডা রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলা যায়। আমাদের শিকড়কে ভালোবাসতে আরও অনুপ্রাণিত করেছেন কিশোয়ার। সগর্বে তুলে ধরেছেন বিশ্ব দরবারে আমাদের অহংকার, বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও আবহমান ঐতিহ্য।’

মাসুমা মৌ
স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার, বেকিং বিশেষজ্ঞ, কেক এন বেক সিডনি

default-image

কিশোয়ারের সাফল্যযাত্রায় আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘নারীরা এ যুগে এসেও কতখানি সফল, সেটা তার কর্ম বলে দেয়। তবে বাইরে থেকে দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, তার চেয়েও অনেকটা জটিল একটা মেয়ের জীবন। স্বামী-সন্তান, ঘর-সংসার, পরিবার, সমাজ সামলে নিজের জন্য যেটুকু সময় পাওয়া যায়, এর মধ্যেই অনেকে জীবিকা কিংবা শখের বসে বহু পেশার সঙ্গে জড়িত।

এটা অস্ট্রেলিয়াতেও যেমন আছে, তেমনি আছে বাংলাদেশের সমাজেও। এর মধ্যে কিশোয়ারের মতো গল্পগুলো নারীদের নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করে। তবে আমারও দুই সন্তান আছে। তাই দীর্ঘদিন সন্তানদের থেকে দূরে থেকে নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করে যাওয়া সত্যিই অনেক অনেক কষ্টের। এ জন্য তিনি আলাদা সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার।’

লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন