রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির চেয়ারম্যান সাকিব আরও জানান, এসব সোনার বার সুইজারল্যান্ড থেকে আনা। এক গ্রাম থেকে শুরু করে এক শ গ্রামের সোনার বার বা বিস্কিট কেনা যাবে। এক গ্রাম সোনার বারের বর্তমান বাজারমূল্য ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে সোনার বার কেবল উচ্চবিত্ত আর উচ্চমধ্যবিত্তরাই নয়, মধ্যবিত্তেরও হাতের নাগালে থাকল। যিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন, তিনিও চাইলে সোনার বার কিনে রাখতে পারেন। রিলায়েবল কমোডিটি ও কিউরিয়াসের দাবি, সোনার বারগুলো ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ খাঁটি। সাকিবের এই কোম্পানি কেবল সোনার বারই আমদানি করবে। আপাতত কিউরিয়াসের বনানী আউটলেটে পাওয়া যাবে এই সোনার বার। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়লে আউটলেটও বাড়বে।

default-image

কিন্তু মানুষ কেন কিনবে সোনার বার? এই প্রশ্নের উত্তরেও এই অলরাউন্ডার মারলেন বাউন্ডারি। বললেন, ‘উপহার হিসেবে সোনার বার সেরা। আপনি অন্য কিছু দিলে, যাকে দিচ্ছেন, তার হয়তো পছন্দ হলো না। সোনার বার দিলে সে প্রয়োজন আর ইচ্ছে অনুযায়ী গয়না বানিয়ে নিতে পারে। যাকে উপহার দেবেন, আমি নিশ্চিত সে খুশি হবে। দ্বিতীয়ত, আপনি সোনার বার কিনে রেখে দিতে পারেন। দাম বাড়লে আবার বিক্রি করে দেবেন। ক্রেতা হিসেবেও তাই সোনার বার কিনে রাখা নিরাপদ বিনিয়োগ। তৃতীয়ত, সোনার গয়না গলানোর পর সাধারণত সোনা কমে যায়। তেমন দাম পাওয়া যায় না। কিন্তু সোনার বার নিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে গেলে কেনা দাম বা ওই সময়ে সোনার ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।’

খেলার পাশাপাশি ব্যবসায় বিনিয়োগকে সাকিব অবসরের ‘গুড টাইমপাস’ বানিয়ে নিয়েছেন, যেটা কিনা অর্থকরীও বটে! অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল রেস্টুরেন্ট, শেয়ারবাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রসাধনী, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ই-কমার্সের পর সাকিব সোনার ব্যবসায় হাতে দেবেন। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই যাত্রা শুরু হলো।

কীভাবে এ খাতে বিনিয়োগের চিন্তা মাথায় এল, সাকিবের মুখেই শোনা যাক, ‘রাশেক ভাইয়ের (সাকিবের সোনার ব্যবসায় অংশীদার রাশেক রহমান) সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে ও নানা ধরনের ব্যবসা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। তো হঠাৎ এ ব্যাপারটা আমাদের সামনে আসে। সরকার ওই সময় কিছু লাইসেন্স দিচ্ছিল। তখন আমরা চেষ্টা করি কীভাবে লাইসেন্সটা নেওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সেটা পেয়েও গেলাম।’

default-image

খেলা, পরিবার, ফিটনেস, ব্যবসা—এত কিছু কীভাবে সামলান? জানতে চাইলে বললেন, ‘ক্রিকেট খেলার বাইরেও অনেকটা সময় থাকে। যেকোনো বুদ্ধিমান মানুষই সেই সময়টা অন্য কিছু করে সফলতা পাওয়ার চেষ্টা করবে। আর আমি নিজেকে খানিকটা হলেও বুদ্ধিমান ভাবি। তবে হ্যাঁ, সব সময়ই আমার প্রথম প্রাধান্য ক্রিকেট। খেলার বাইরে অবসরে এগুলো করি। আমাকে কিন্তু এ জন্য কোনো অফিস করতে হয় না। এ রকম দু–একটা প্রেস কনফারেন্সে অ্যাটেন্ড করতে হয়। বাকিটা অন্যরা সামলে নেন। তাই খুব বেশি সময় দিতে হয় না।’

default-image

সোনার বারের ব্যবসায় নামলেও সাকিব নিজে কখনো সোনার বার কেনেননি। ঈদের কেনাকাটা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বললেন, ‘আলাদা করে কখনোই ঈদের শপিং করা হয় না। অনেক অনেক পাঞ্জাবি উপহার পাই। সেখান থেকে ঈদের দিন পছন্দমতো একটা বেছে নিয়ে পরি।’ বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন সাকিব। গতকাল আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগেই বলে দেওয়া হয়েছিল, ‘ক্রিকেট নিয়ে কোনো প্রশ্ন নয়’। তবু ঘুরেফিরে এল ক্রিকেটের প্রসঙ্গ। নিরাশ করলেন না নিয়ম ভাঙা সাংবাদিককে। ধৈর্য্য ধরে সেই উত্তরও দিলেন।

কথা বলতে বলতেই এগিয়ে এল ইফতারির সময়। ইফতারির প্লেট সামনে নিয়ে সবাই বসে আছে। নিরবতা ঠিকই জায়গা করে চেপে বসেছে আগত সাংবাদিকদের ভিড়ের ভেতরেও। শেষ পাঁচ মিনিট যেন শেষ হতেই চায় না। এদিকে কারও তর সইছে না। একজন পানি মুখে দিতে গেলেই এক নারী বিক্রয়কর্মী নিরবতা ভেঙে বলে উঠলেন, ‘এখনো আজান হয়নি। আমি বাসায় মায়ের সঙ্গে কথা বললাম। লাইনেই আছি। আজান হলেই শুনতে পাব।’ শুনে সাকিব নিজে থেকেই মজা করে বললেন, ‘বাই এনি চান্স, আপনার মায়ের বাড়ি লালমনিরহাট না তো?’ বলতে বলতেই ভেসে এল মাগরিবের আজান।

ইফতার মুখে দিয়েই সবার আগে উঠলেন আয়োজনের মধ্যমনি সাকিব।

default-image
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন