কুকুরকে খাইয়ে তারপর আবার কাজে নেমে পড়েন। দুপুরে আবার ক্যানটিন অথবা হলের মেস থেকে খাবার এনে কুকুরগুলোকে খাওয়ান।

কুকুরের প্রতি এ রকম ভালোবাসা কীভাবে জন্মাল? এক দুপুরে তাঁর কাছে জানতে চাই। ভাঙা গলায় হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আমরা তো মানুষ। ক্ষুধা লাগলে বলতে পারি, খেতে দাও। কুকুর তো বলতে পারে না যে আমাকে খেতে দাও।’ কুকুরের এই কথা বলতে না পারাই তাঁকে এই কাজে উৎসাহিত করে। কুকুরের জন্য তিনি মমতা বোধ করেন। তবে এর পেছনে আরও ভূমিকা রেখেছে ছোটবেলায় পড়া ‘মানুষের সেবা’ কবিতাটি। ‘হাসরের দিন বলিবেন খোদা—হে আদম সন্তান, তুমি মোরে সেবা কর নাই, যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান।’

জগন্নাথ হলে চল্লিশটির বেশি কুকুর আছে। নিজের সন্তানের মতো কুকুরগুলোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। যখন এই কথোপকথন চলছে, তখনো একটি কুকুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ‘বাবু বাবু’ বলে ডাকতেই দেখা গেল অনেক কুকুর তাঁর কাছে এসে গা ঘেঁষে দাঁড়াল। বোঝা গেল, তিনি ওদের খুব আপনজন। করোনার প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। হলের মেস-ক্যানটিন বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময়ও হলের কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিজেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি চাল রান্না করে কুকুরদের দিতেন, সঙ্গে থাকত মুরগির গিলা-কলিজা। এই কাজে হলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা আর্থিক সহায়তা করতেন।

default-image

দিন শেষে সাদাসিধে মানুষটির একটাই আক্ষেপ, চাকরিটা স্থায়ী হলে এ কাজের জন্য মানুষের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকতে হতো না। তবু সুদনচন্দ্র বর্মন হাসিমুখে আমাদের জানান, যত দিন শরীরে শক্তি আছে, নিজে খেতে পারেন, তত দিন কুকুরদের খাওয়ানোর কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন