default-image

২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ইআরডি সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন ফাতিমা ইয়াসমিন। এর আগে তিনি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিন্যান্সের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে চাকরিজীবনের বড় অংশ তিনি ইআরডির বিভিন্ন পদে ছিলেন।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়া ফাতিমা ইয়াসমিন সরকারি দায়িত্বের বাইরেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল জুট অর্গানাইজেশনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) এমবিএ ডিগ্রিধারী ফাতিমা ইয়াসমিন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ) থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জন এফ কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে লিডিং সাকসেসফুল প্রোগ্রামের ওপর এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম করেছেন।

ইআরডির প্রথম নারী সচিব হয়ে আগেই ইতিহাসের অংশ হয়েছেন, এবার দেশের প্রথম নারী অর্থসচিব হয়ে সে ইতিহাসেই আরেকটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছেন ফাতিমা ইয়াসমিন।

আরও ৯ জন

একসময় প্রশাসনের উচ্চ পদে নারীর সংখ্যা একেবারেই কম ছিল। যাঁরা সচিবের মতো বড় পদে পদোন্নতি পেতেন, তাঁদেরও দায়িত্ব দেওয়া হতো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় এমন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে। তবে সেই অবস্থায় এখন পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে নারী সচিবের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে।

default-image

বর্তমানে দেশে ১০ জন নারী সচিব বা সমপর্যায়ের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ইআরডি সচিব পদে ফাতিমা ইয়াসমিনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) শরিফা খান। তিনি ইআরডির দ্বিতীয় নারী সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন। বিসিএস নবম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শরিফা খান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। চাকরিজীবনে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শরিফা খান অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে ডিপ্লোমা ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

নতুন ইআরডি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া শরিফা খান প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো কাজেই চ্যালেঞ্জ থাকে। এসব দায়িত্ব পালনেও চ্যালেঞ্জ আছে, নারী-পুরুষ সবার জন্যই আছে। সেসব মোকাবিলা করেই কাজ করতে হয়। তবে নারী হিসেবে আলাদা কোনো চ্যালেঞ্জ তিনি বোধ করেন না। আগে ওপরের পদে নারী কম ছিল। নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও আসছেন। যাঁরা নারী সচিব আছেন, তাঁরা সবাই কিন্তু দক্ষতার সঙ্গেই কাজ করছেন।

default-image

প্রশাসনের উচ্চ পদে নারীর ভবিষ্যৎ আরও ভালো বলে মনে করেন শরিফা খান। তিনি বলেন, এখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী আছেন। মাঠ প্রশাসনে, বিশেষ করে জেলা প্রশাসক পদেও বেশ কয়েকজন নারী আছেন। তাঁরাই তো ভবিষ্যতে সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসবেন। গুণগত মান, দায়িত্বশীলতা ও সততা যাচাই করে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও যেন হয়, সেটাই চান তিনি।

অর্থ, ইআরডি ছাড়াও মন্ত্রণালয়সহ আরও কয়েকটি পদে সচিব বা সচিবের সমপদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে গত মাসেই নিয়োগ পান ফারহিনা আহমেদ। এর আগে তিনি অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। গত বছরের মে থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন জাকিয়া সুলতানা। বিসিএস দশম ব্যাচের কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা এর আগে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে আছেন হামিদা বেগম। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করা হামিদা বেগম ১৯৯১ সালে চাকরিতে যোগ দেন।

নারীর অগ্রযাত্রা আরও এগিয়ে যাবে

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অনেক দূর এগিয়েছে। তার অনেক প্রমাণ আছে। যেমন শিক্ষায় নারী অংশগ্রহণ বেড়েছে। ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জিত হয়েছে। চিকিৎসাসহ পেশাগত শিক্ষায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। রাজনীতিতেও নারীর বিচরণ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে এখন প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রশাসনিক পদেও নারীরা ভালো করছেন। এ ক্ষেত্রে আগে সংখ্যাটি ছিল নগণ্য। এখন সেটি দৃশ্যমান হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে অসংখ্য নারী দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ভবিষ্যতে ওপরের পদে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এগুলো অবশ্য খুবই আশার কথা। তবে শেষ কথা হলো, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে নারীর অবস্থা পোক্ত হচ্ছে, দৃশ্যমান হচ্ছে। সেটিকে ধরে রাখতে হবে, এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এটি যেহেতু আছে, তাই বলা যায়, নারীর অগ্রযাত্রা আরও এগিয়ে যাবে।
রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে জুয়েনা আজিজ জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাবিষয়ক (এসডিজি) মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ছিলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের (সচিব) দায়িত্ব পেয়েছেন মাহফুজা আখতার। এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সচিব পদে শাহনাজ আরেফিন, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব পদমর্যাদা) পদে নাহিদ রশীদ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নাসিমা বেগম দায়িত্ব পালন করছেন।

default-image

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের পর সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের পদটিই প্রশাসন ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ। ফলে এই পদে যাওয়া নারী-পুরুষ সবার জন্যই বড় আগ্রহের বিষয়। বর্তমানে ৭৬ জন সচিব দায়িত্ব পালন করছেন। যাঁদের মধ্যে ১০ জন নারী। সে হিসাবে মোট সচিবের প্রায় ১৩ শতাংশ নারী। সমতার বিবেচনায় এ হার এখনো কম। তবে ইতিবাচক দিক হলো আগের চেয়ে হারটি বাড়ছে।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন