প্রশ্নটা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল শিক্ষার্থীর মাথায়ও এসেছিল। তাঁরা হলেন পুরকৌশল বিভাগের খন্দকার মাশরুর আহমেদ, রাফি উদ্দিন, আদিবা নাজ, সৈয়দা আনিকা আনজুম, তনিমা রেজা খান, সামিহা তাসনীম, মাহমুদুর রহমান ও তানভির আহমেদ। ফেলে দেওয়া মাস্ক থেকে কংক্রিট তৈরির উপায় বের করেছেন এই আট তরুণ। তাঁদের এ প্রকল্প উপস্থাপন করেছেন আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘কংক্রিট সলিউশন’ প্রতিযোগিতায়। জিতেছেন উদ্ভাবনী নকশার পুরস্কারও। ‘মোস্ট ইনোভেটিভ ডিজাইন’ বিভাগে তৃতীয় হয়েছেন তাঁরা। ২৭ থেকে ৩১ মার্চ অনলাইনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় তাঁদের প্রকল্প জমা দিয়েছিল।

যেভাবে অংশগ্রহণ

এসিআইয়ের কংক্রিট সলিউশন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপটার’ (এসিআই নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের দল) থাকতে হবে। সদস্য জোগাড়, কংক্রিট-বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবিনার আয়োজন ইত্যাদি প্রাথমিক দায়িত্বের অংশ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াটাও সহজ নয়।

বুয়েট দলের সদস্য রাফি জানান, প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় তাঁরা পাননি। আরেক সদস্য তানভির বলছিলেন, ‘শুরুতে আমাদের একটা লিটারেচার রিভিউ জমা দিতে হয়েছে; অর্থাৎ আগের বিভিন্ন গবেষণা সম্পর্কে পড়ালেখা করে একটা নিজস্ব রিপোর্ট তৈরি করা। এরপর সবাইকে আলাদা করে ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া আটজনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে দল।’

প্রতিবছর এসিআই এমন দুটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বাংলাদেশে এসিআইয়ের স্টুডেন্ট চ্যাপটার আছে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে বুয়েটের দলটির আশা, ভবিষ্যতে সংখ্যাটা আরও বাড়বে।

শুধু গবেষণা যথেষ্ট নয়

শুরুর ভাবনাটা শোনা হলো আদিবা নাজের কাছ থেকে। ‘সমসাময়িক একটা সমস্যার সমাধান খুঁজছিলাম আমরা। খেয়াল করে দেখলাম, আমরা যে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করি, সেগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলা যায় না। অর্থাৎ এটি বেশ মজবুত। ভাবলাম, এ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে যদি কংক্রিট বানাতে পারি, তাহলে পরিবেশদূষণ কমবে, আবারও কংক্রিটও শক্তিশালী হবে।’

খোঁজখবর নিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, মাস্কের পলিপ্রপিলিন থেকে ‘ফাইবার রিইনফোরসড কংক্রিট’ বানানো সম্ভব। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এরই মধ্যে অনেকে কাজও শুরু করেছে। কিন্তু শুধু ভাবনাটা মাথায় এলেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায় না। সে জন্য গবেষণা থেকে শুরু করে ভিডিওর জন্য স্ক্রিপ্ট লেখা, ভয়েস ওভার দেওয়া, এমনকি ভিডিও সম্পাদনার কাজও করতে হয়। সামিহা বলছিলেন, ‘ভিডিও বানানোর দক্ষতা আমাদের কারও ছিল না। তাই এটা শিখতে গিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছিলাম। তবে এটাও বুঝলাম, পড়ালেখার পাশাপাশি আজকাল এ দক্ষতাগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

দলটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন বুয়েটের শিক্ষক রূপক মুৎসুদ্দী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত এত নতুন নির্মাণকাজ হচ্ছে, এত কংক্রিটের কাজ হচ্ছে; অথচ শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করতে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আশা করি, এ রকম পুরস্কার জয় অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রেরণা দেবে।’

শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশেই তাঁদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চান। সে লক্ষ্যে তাঁরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন