বইয়ের ফটক

দইখাওয়া আদর্শ কলেজের প্রধান ফটক।
ছবি: প্রথম আলো

দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কেউ বুঝি কায়দা করে বইয়ের ওপর বই রেখেছে। হঠাৎ শঙ্কাও জাগে, থরে থরে সাজানো বইয়ের রাজ্য হয়তো ভেঙে পড়বে আলতো ধাক্কায়। আদতে এটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া আদর্শ কলেজের প্রধান ফটকের দুই পাশের কাঠামো, যা নির্মিত হয়েছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার জনপ্রিয় ২৫টি করে ৫০টি বইয়ের আদলে।

উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ারের ম্যাকবেথ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি, কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা, জর্জ বানার্ড শর ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান, বনফুলের গল্পসমগ্র, আল মাহমুদের সোনালী কাবিন, হুমায়ূন আহমেদের শঙ্খনীল কারাগার, আনিসুল হকের মা—বাংলা ও ইংরেজি ভাষার জনপ্রিয় কোন বইটি নেই এখানে!

বইয়ের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ফটকের দুই দিকের খুঁটির ওপরে ছাউনির মধ্যে দুই হাতে তুলে ধরা হয়েছে গ্লোব। গ্লোবটিতে রয়েছে বাংলাদেশের লাল–সবুজের জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা। ফটকের দুই পিলারের ছাউনির নিচে রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র।

যেন থরে থরে বই সাজানো

দইখাওয়া আদর্শ কলেজের এই বই ফটকের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বইয়ের আদলে এমন দৃষ্টিনন্দন ফটক তৈরির প্রশংসাও করছেন অনেকে। অনেকে বলছেন, শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো এমন ব্যতিক্রমী কিছুই থাকা উচিত।

কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, ফটকটি তারা নিজস্ব অর্থে তৈরি করেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু করে এ বছর মার্চে শেষ করেছে নির্মাণকাজ। তবে করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি।

দইখাওয়া আদর্শ কলেজের যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালে। বর্তমানে অধ্যক্ষসহ ৩৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আর শিক্ষার্থীসংখ্যা ১ হাজার ৩০০।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোর মাধ্যমে ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতেই এমন নির্মাণকাজ করা হয়েছে। বই–ফটক শুধু নয়, আমাদের কলেজের শহীদ মিনারও তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়।’